বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 21, 2021
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 21, 2021
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 21, 2021
spot_img
Homeরাজনীতিট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতরা নির্বাচনে অযোগ্য, বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই

ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতরা নির্বাচনে অযোগ্য, বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই

প্রার্থীর নির্বাচনী খরচ ১৫ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকায় বৃদ্ধি,যুদ্ধাপরাধের অপরাধে দণ্ডিতদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, দলীয় প্রধানের দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের ব্যয় নির্বাচনী খরচের আওতাবহির্ভূত রাখা, মনোনয়ন বঞ্চিতদের প্রার্থিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের বিধানসংযোজনসহ বেশ কিছু সংশোধনী এনে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২’ এর সংশোধনীর জন্য ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দি পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৩’নামে একটি বিল সোমবার সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩’এর অধীনে সংঘটিত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করে নগদ ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা, সংবিধানের (পঞ্চদশ) সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সদস্য সংখ্যা নির্ধারণকল্পে আনিত পরিবর্তন, নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য সদস্যকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে উল্লেখ, কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী খরচ ১৫ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ এবং দলীয় প্রধানের দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের ব্যয় নির্বাচনী খরচের আওতাবহির্ভূত রাখা, কমিশনের প্রয়োজন মাফিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি কার্যকর করা, দুই হাজার টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা জামাদানপূর্বক নির্বাচনী মামলা দাখিল করা এবং রাজনৈতিক দলের তহবিলে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অনুদানের পরিমাণ ১০ লাখ টাকার পরিবর্তে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং কোনো কোম্পানি বা সংস্থা কর্তৃক অনুদানের পরিমান ২৫ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫০ লাখ টাকায় উন্নীতকরণের বিধান প্রণয়নকল্পে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দি পিপল অর্ডার, ১৯৭২’এর কতিপয় সংশোধনী এনে উক্ত বিলটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিলটি আইনে পরিণত হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে মর্মে আশা করা যায়। অধ্যাদেশের মোট ১৮টি ধারা-উপধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধারা-৩ সংশোধিত আকারে প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।’

উল্লেখ্য, সংবিধানের ১১৮(১) বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া] বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।’

বিদ্যমান আইনে নির্বাচন কমিশনারের সংখ্যার উল্লেখ্য নেই। অধ্যাদেশের ধারা-১২ এর উপধারা(১) এর (০) পরিবর্তন করে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের নির্বাচনে অযোগ্য হওয়ার বিধান সংশোধন করে বলা হয়েছে, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীন যে কোনো অপরাধে দণ্ডিত হলে তার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না।’

গণপ্রতিনিধি অধ্যাদেশের ৪৪ (ই) ধারার উপধারা (২) এ সংশোধনী এনে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সরকারের কোনো বিভাগ বা অন্য কোনো সংগঠনে নিযুক্ত যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে তার জন্য অনুরোধ করবে এবং সেই অনুরোধ প্রাপ্তির পর সেক্ষেত্রে বদলি যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর হবে।

১৬ ধারা সংশোধনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো একটি আসনে একটি দল থেকে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিনের মধ্যে দল কর্তৃক লিখিতভাবে একজন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্যানেলের অন্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল স্বয়ংক্রিয় বলে গণ্য হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা তার দপ্তরের উপযুক্ত স্থানে ঝুলিয়ে দেবেন।

আরপিও সংশোধনের জন্য চলতি বছরের ২৫ জুলাই বর্তমান কমিশন তাদের মতামতসহ খসড়া প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরপিও খসড়া ভেটিং সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়া হয়।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments