সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
spot_img
Homeজাতীয়দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেল লাইন প্রকল্প হিমাগারে?

দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেল লাইন প্রকল্প হিমাগারে?

কক্সবাজারসহ দক্ষিণ চট্টলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী ‘দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধমু রেল লাইন’ প্রকল্পটি কি এখন হিমাগারে? এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কক্সবাজারের সর্বত্র। মঙ্গলবার উখিয়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে কোন বক্তব্য না দেয়ায় প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে সংশয় বদ্ধমূল হয়েছে।

জানা যায়, গত ২ বছর ৫ মাসে তৃতীয় বার কক্সবাজার সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী। গত মঙ্গলবারের প্রায় সাড়ে ৬ ঘন্টার সফরে প্রধানমন্ত্রী প্রায় অর্ধশত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন। পরে উখিয়ায় এক জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অনেক বিষয়ে কথা বলেন। তবে রেল লাইন প্রকল্প নিয়ে তিনি কোন কথা বলেননি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর চলতি মেয়াদের সরকার প্রধান হিসাবে প্রথম সফরে আসেন ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল। সেই সফরে তিনি কক্সবাজার শহরের ঝিলংজায় ‘দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধমু’ রেল লাইন প্রকল্পের ভিত্তিফলক উম্মোচনসহ আরো কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসময় বলা হয়েছিল, বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদেই রেল লাইন প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। কিন্ত অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে দীর্ঘদিনেও ভূমি অধিগ্রহণ কাজ শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পের মহা ব্যবস্থাপক গত বছরের নভেম্বর মাসে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে পত্র লিখে রেল লাইনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কাজ স্থগিত রাখতে বলেন।

এই প্রকল্পের মহা ব্যবস্থাপকের পে খায়রুল আলম কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত ওই পত্রে (স্মারক নং ইএনসি/পি/দোহা-কক্স/জি/২) উল্লেখ করেন, স্থানীয় স¤পদের সীমাবদ্ধতার কারণে ২০১১-১২ অর্থসালে মাত্র ২২ লাখ টাকা এবং ২০১২-১৩ অর্থসালে মাত্র ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এ স্বল্প বরাদ্দ হতে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়। তাই ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওই পত্রে আরো বলা হয়, ভূমি অধিগ্রগণ খাতে মাত্র ৩১২ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকার বরাদ্দ আছে। অথচ চট্টগ্রাম জেলার ২৮০ দশমিক ৬১ একর ভূমি অধিগ্রহণে ৩৯১ কোটি ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা এবং কক্সবাজার জেলার ৯৬৬ দশমিক ৫৪৩ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য কমপে ৩১৪ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকার বরাদ্দ দরকার। এছাড়া জমির মূল্য আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা যায়, পত্রটি নভেম্বর মাসের ১২ তারিখ কক্সবাজারে এসে পৌঁছায়। এরপরই প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, দোহাজারী থেকে রামু, কক্সবাজার ও ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন বা মিটারগেজ রেলপথ গড়ার এই প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই বাস্তবায়নের ল্য নিয়ে ২০১০ সালে গৃহীত হয়। ১২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ বাস্তবায়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এই প্রকল্পটি ২০১০ সালের ৬ জুলাই একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) অনুমোদন লাভ করে। কিন্তু প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে বিপাকে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত এই কারণে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ স্থগিত করা হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা যায়, দোহাজারী-ঘুমধুম রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রাম জেলার ২৭৯ দশমিক ২৭৯ একর এবং কক্সবাজার জেলার ৯৯৩ দশমিক ৪২৬ একর জমি অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। এরমধ্যে উখিয়া উপজেলার ১২৬ দশমিক ৫৪৭ একর, কক্সবাজার সদর উপজেলার ১১৮ দশমিক ৫২০৬ একর এবং চকরিয়া উপজেলায় কমবেশি ৪২২ দশমিক ৯৮ একর জমি অধিগ্রহণের লে যথাক্রমে এলএ মামলা নং ৬/১০-১১, এলএ মামলা নং ৭/১০-১১ এবং এলএ মামলা নং ৮/১০-১১ রুজু করে তা অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব ২০১১ সালের ১২ জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় উক্ত প্রস্তাব অনুমোদন না দিয়ে প্রায় ৫ মাস পর ১৮ ডিসেম্বর তা ফেরত পাঠিয়ে দেয়। যথাযথ কাগজপত্র না দিয়ে উল্লে­খিত প্রস্তাবসমূহ পেশ করার কারণ দেখিয়ে তা ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। তবে পরবর্তীতে তা সংশোধন করে গতবছরের মার্চ মাসে শুধুমাত্র উখিয়া ও কক্সবাজার সদরের ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন চেয়ে আবারও প্রস্তাব পাঠানো হয় ভূমি মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু এই প্রস্তাবের অনুমোদনও মেলেনি। শেষ পর্যন্ত অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে এ নিয়ে অনেক আন্দোলন গড়ে ওঠলেও প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে নাড়াচাড়ার কোন খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর উখিয়া সফর থেকে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ স¤পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments