সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় কাল

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগে আটক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায় মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। সোমবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ১৪ আগস্ট যেকোনো দিন সালাহউদ্দিন কাদেরের রায় ঘোষণা হবে মর্মে সিএভি (অপেক্ষমাণ) রেখে দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রায় সোয়া এক বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটির সমাপ্তি ঘটে।

সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করছেন, প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ এনেছে তা তারা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে সুতরাং তিনি এ মামলায় সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হবে।

অন্যদিকে প্রসিকিউশন দাবি করেছে, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে তারা সক্ষম হয়েছে। এতে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

গত ২৮ জুলাই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। ৩১ জুলাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন প্রথম পর্যায়ে শেষ করে প্রসিকিউশন।

এরপর ১ আগস্ট থেকে সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী হেনা।

গত ২৪ জুলাই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলায় আসমিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। তার পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি নিজেসহ মোট চারজন। অন্য তিন সাফাই সাক্ষী হলেন তার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু নিজাম আহমেদ, এশিয়া-প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরী এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোমেন চৌধুরী।

এর আগে সালাহউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশনের মোট ৪১ জন সাক্ষী। আর চারজন সাক্ষীর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

এছাড়া অন্য চার সাক্ষী মৃত জ্যোৎস্না পাল চৌধুরী, মৃত জানতি বালা চৌধুরী ও মৃত আবুল বশর এবং ভারতে থাকা বাদল বিশ্বাসের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

হরতালে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের একটি মামলায় ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হয় বিএনপির সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। পরে ১৯ ডিসেম্বর তাকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ৩০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৩টি অভিযোগে গত বছরের ৪ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই বিএনপি নেতার বিচার শুরু হয়।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।