সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
spot_img
Homeজেলাবন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম: ইনানী হতে পারে দেশের বৃহত্তম পর্যটন কেন্দ্র

বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম: ইনানী হতে পারে দেশের বৃহত্তম পর্যটন কেন্দ্র

কক্সবাজার জেলার বৃহত্তম অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত উখিয়া উপজেলার ইনানীর সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল সংঘবদ্ধ কাঠচোর সন্ত্রাসী ও ভূমিগ্রাসীদের নগ্ন থাবায় ত-বিত হয়ে বিলুপ্তির ধার প্রান্তে উপনীত হলেও আবাস্থল ত্যাগ করেনি বন্য পশু প্রাণী। উক্ত বনাঞ্চলকে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে আনার ল্েয বেসরকারী এনজিও সংস্থা শেড এর তত্ত্বাবধানে এক্সকোসিভ ট্যুারিষ্ট জোনের আওতায় বাস্তবায়নাদিন ইনানী জাতীয় উদ্যান প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ ল টাকা ব্যয় বরাদ্দে ইকো ট্যুরিজম প্রকল্পের কাজ স¤পন্ন হতে চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছলে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালিতে ভরপুর ইনানী বনাঞ্চলে আবারো জীব বৈচিত্র ও পশু প্রাণীর মিলনমেলায় পরিণত হবে। পাশাপাশি দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণীয় বিনোদনের ত্রে হিসাবে গড়ে তোলা হলে দেশের বৃহত্তম সম্ভাবনাময়ী পর্যটন নগরীতে পরিণত হতে পারে সাগর কন্যা ইনানী।

প্রসঙ্গত উলেখ থাকে যে, এ উপজেলার উপকুলীয় জনপদ জালিয়াপালং ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ২৮ কিলোমিটার সৈকত সংলগ্ন সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল নিয়ে ইনানীর অবস্থান। একদিকে সুউচ্চ পাহাড়, টিলা, পর্বত সম গিরিপথ। অন্যদিকে বিশাল বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ছিটকে পড়া জলরাশি ও প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্টি পাথরের লুকোচুরি খেলায় নান্দনিক সৈকতে পরিণত হয়েছে এ সাগর কন্যা ইনানী। এখানে যুগ যুগ ধরে বসবাসরত লোকজন জানান, নব্বইর দশকেও ইনানীর বনে বাঘ, ভালুক, হাতি, বানর, সাপসহ বিভিন্ন প্রকার জৈব বৈচিত্র বন্য পশু প্রাণী অবাধে বিচরণ করে আসছিল। ২০০১ সাল থেকে এলাকার কিছু সংখ্যক ভূমিগ্রাসী ইনানী বনাঞ্চলের বন স¤পদ লুটপাট শুরু করে। পাশাপাশি পরিত্যক্ত বনভুমির পাহাড় কেটে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে বসবাস শুরু করায় বন্য পশু প্রাণীর আবাস্থল অরতি হয়ে পড়ে। ইনানী বনাঞ্চলের আশেপাশে বসবাসরত লোকজন জানান, বনের গভীরে এখনো হাতি, হরিণ, চশমা বানর সহ অসংখ্য বন্য পশু প্রাণী রয়েছে। তারা জানান, ইনানীর বন সংরণ করা হলে দ্রুত বংশ বিস্তারের মাধ্যমে আবারো জীব বৈচিত্রে সরব হয়ে উঠবে ইনানী।

২০০৪ সালে পর্যটন মন্ত্রণালয় ইনানীকে এক্সকুসিভ ট্যুরিষ্ট হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে ইনানীর জমিজমা হস্তান্তরের উপর কড়াকড়ি আরোপ করে ইনানী সহ আশেপাশের ৬টি মৌজার রেজিষ্ট্রেশন বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ কারিগরি সহায়তা বন স¤পদ উন্নয়ন সহ জীব বৈচিত্র রণাবেণের জন্য ইনানী সহ ২৮টি এলাকাকে প্রটেক্টেড ফরেষ্ট হিসাবে ঘোষণা করে ওই সব বনাঞ্চলে অনধিকার প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বেসরকারী এনজিও সংস্থা শেড ২০০৯ সালের জুলাই মাসে প্রায় দুই কোটি ৪৫ ল টাকা ব্যয় বরাদ্ধ নিয়ে ইনানীর সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর বনভূমির উন্নয়ন পূর্বক প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যানে রুপান্তর করে ইনানীকে এক্সকুসিভ ট্যুরিষ্ট জোন হিসাবে গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু করে।

শেড কর্তৃক বাস্তবায়নাদিন প্রকল্প সমন্বয়কারী মাজহারুল ইসলাম মুকুট জানান, ইনানীর বনাঞ্চলকে দখলমুক্ত করে একটি সমৃদ্ধশালী বনাঞ্চলে রুপান্তর করার পদপে গ্রহণ করে ইনানী বনের আশে পাশে বসবাসরত বন নির্ভরশীল ২০ হাজার গরীব দুঃস্থ পরিবারকে আÍনির্ভরশীল হওয়ার জন্য ২৫ ল ৪০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। পাশাপাশি এসব পরিবারদের শাক সবজি চাষাবাদ সহ হাস, মুরগি, গরু, ছাগল পালনে উদ্বুদ্ধ করে দফায় দফায় প্রশিণ দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, উক্ত বন নির্ভর পরিবারগুলো ইতিমধ্যে বিভিন্ন পেশায় স¤পৃক্ত হয়ে উন্নত জীবন যাপন করায় গাছ-গাছালি ও বন্য পশু প্রাণী ধ্বংসের হাত থেকে রা পেয়েছে ইনানী বনাঞ্চল। ফলে ইনানী বন আবারো পূর্বের গতিতে ফিরে গিয়ে গাছ-গাছালি ও বন্য পশু প্রাণীতে একটি পূর্ণাঙ্গ অভয়ারণ্যে পরিণত হতে চলেছে। ইনানী বন রা কমিটির সচিব বনরেঞ্জ কর্মকর্তা সুনীল দেব রায় জানান, প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যান প্রকল্প বাস্তবায়নের ল্েয ইনানীর বনভূমিতে যে সকল অবৈধ স্থাপনা ইতিপূর্বে গড়ে উঠেছে, ওই সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করে পরিত্যাক্ত বনভূমিকে নতুন করে বনায়ন সৃজন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের সুদুর প্রসারী উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের বৃহত্তম পর্যটন এলাকায় উন্নীত হবে ইনানী। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা বন ও পরিবেশ সংরণ কমিটির সভায় বক্তারা ইনানী বনাঞ্চলকে রা করে ও জীব বৈচিত্রের সংরণ পূর্বক প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যানের পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণ করার ল্েয বনের অভ্যন্তরে বন্য পশু প্রাণীর অবাধে বিচরণ সরাসরি প্রত্য করার সুযোগ রাখার পরামর্শ দেন দায়িত্বরত বেসরকারী এনজিও সংস্থা শেড কে। এ ব্যাপারে তারা সব রকমের সাহায্য সহযোগীতা করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি থেকে দেশ ও জাতিকে রা করতে হলে এ উপজেলাকে বন সমৃদ্ধ উপজেলায় রুপান্তর করতে হবে।
ইনানী জাতীয় উদ্যান প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্য হামিদুল হক চৌধুরী জানান, বৃহত্তর সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ইনানীর বনাঞ্চলকে উন্নয়ন করে বন্য পশু প্রাণীর সংরণ করা হলে এখানে দেশী-বিদেশী পর্যটকের ঢল নামবে। পর্যটন খাতে সরকারের প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় বেকার যুব সম্প্রদায় নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়ে ইনানী একটি বাণিজ্যিক নগরীতে পরিণত হতে পারে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments