বুধবার, ডিসেম্বর 1, 2021
বুধবার, ডিসেম্বর 1, 2021
বুধবার, ডিসেম্বর 1, 2021
spot_img
Homeজেলাসোনাগাজীতে ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ॥ শিক্ষকদের আন্দোলনে দিশেহারা শিক্ষার্থীরা

সোনাগাজীতে ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ॥ শিক্ষকদের আন্দোলনে দিশেহারা শিক্ষার্থীরা

সোনাগাজী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সারা দেশের শিক্ষকদের আন্দোলনের সাথে একমত প্রকাশ করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মরত বিরতি পালন করে আসছেন। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উক্ত সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে সোনাগাজী উপজেলার ৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৮টি স্কুল বন্ধ করে এবং ৪৬টি স্কুলে সম্পূর্ণ রূপে তালা ঝুলিয়ে ২৫০ জন শিক্ষক আন্দোলনে যোগদানের লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে ঢাকা গমণ করেছেন। শিক্ষকদের আন্দোলনের ফাঁদে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে রীতিমত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত সোমার রাতে সোনাগাজী উপজেলার শিক্ষকদেরকে আন্দোলনে যোগদান না করে শ্রেণি কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে অনুরোধ করা হলেও উপজেলার ৭৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৮টি স্কুল অংশিক বন্ধ রেখে ৪৬টি স্কুলে  তালা ঝুলিয়ে উপজেলায় ২৫০ জন শিক্ষক আন্দোলনে যোগদান করেছেন। সোমবার রাতে উপপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিস থেকে স্মারক নংÑডিপি/প্রাই//চবিচ/১৪৯৯ নং স্মারকে উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি পালনকারী শিক্ষকদের তালিকা চাওয়া হয়। সে তালিকা তৈর করতে সোনাগাজী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহি উদ্দিন, সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহ আলম, নুর নবী, ফকির মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মঙ্গলবার সকাল   ৯টা থেকে উপজেলার সব কটি স্কুল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে দেখা যায়, সোনাগাজী পৌরশহর সহ উপজেলায় ৫৮টি স্কুল বন্ধ ও ৪৬টি স্কুলে সম্পূর্ণ রূপে তালা ঝুলানো। বেশ কয়েকটি স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, গেইটে তালা ঝুলানোর কারণে কিছু শিক্ষক  ও শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে কেউ মাটিতে বসে আছে, কেউবা দাঁড়িয়ে সময় পার করছেন। শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে পহেলা অক্টোবর থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা উপলক্ষে মডেল টেস্ট পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সে পরীক্ষা আগামী ৩রা অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সমাপনী পরীক্ষার অতী নিকটে শিক্ষকদের এমন আন্দোলন রীতিমত অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। সোনাগাজী পৌর শহরের মাদরাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বেশ কিছু স্কুলের শিক্ষকরা আন্দোলনের কারণে শ্রেণি কার্যক্রম না চালিয়ে কর্ম বিরতি পালন করলেও রাতে ৫শ টাকার বিনিময়ে সমাপনী পরীক্ষার্থীদেরকে কোচিং বাণিজ্য ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, সওদাগর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক ও পূর্ব মহেশ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভা: প্রধান শিক্ষক আবদুল্যাহ, শিক্ষা অফিসারগণ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করে অনুপস্থিত উপস্থিত ও বন্ধ, তালাঝুলানো প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য প্রেরণ করার সময় অহেতুক বিভ্রান্ত মূলক তথ্য দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করেছে। শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ আন্দোলনে যোগদানের কারণে সোনাগাজীতে অবস্থান না করায় উক্ত ব্যক্তিদ্বয় তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সার্বক্ষণিক শিক্ষা অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে মোবাইল ফোনে তাদের সাথে তথ্য আদান প্রদান করেছেন। সোনাগাজী উপজেলায় শিক্ষকদের আহুত আন্দোলনের ফাঁদে পড়েও ৪৭৩৭ জন সমাপনী পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। তবে আন্দোলনের কারণে তাদের ফলাফল বিপর্যয়েরও আশংকা করছে সচেতন অভিভাবকরা। বেশ কিছু শিক্ষক দলীয় প্রভাব খাঁটিয়ে শিক্ষা অফিসের বিভিন্ন প্রকার তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। শিক্ষকদের দলীয় প্রভাবের দলাদলিতে এক দিকে দিশেহারা শিক্ষার্থীরা অন্য দিকে অসন্তুষ্ট শিক্ষা অফিস। সূত্রে জানায়, সোনাগাজী থেকে শিক্ষক সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাষ্টার শরীয়ত উল্যাহ ও মাষ্টার সুনীল চন্দ্র রায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের থেকে ৩শ থেকে ৫শ টাকা হারে চাঁদা আদায় করেছেন। এছাড়াও কিছুদিন পূর্বে আন্দোলনের নাম দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাত করেছেন বলেও সমিতির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহি উদ্দিন জানান, শিক্ষকদের কে আন্দোলনে না গিয়ে শ্রেণি কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও তারা সরকারি আদেশ অমান্য করে সমাবেশে গিয়েছেন। তাই আমরা জেলা ও বিভাগীয় শিক্ষা অফিসের আদেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার সকল শিক্ষকের সকল প্রকার ছুটি বাতিল করা হলেও যে সব শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন, তাদের নামের তালিকা ও বন্ধ এবং তালা ঝুলানো বিদ্যালয়ের নাম সহ যে সব শিক্ষককে স্কুলে উপস্থিত রয়েছেন, তাদের নামের তালিকা স্বাক্ষরিত ভাবে জেলা শিক্ষা অফিসে যথাযথ ভাবে প্রেরণ করা হয়েছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments