সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
spot_img
Homeবাংলাদেশ২৫ অক্টোবরের আগে না পালালে ট্রাইব্যুনালে বিচার: খোকন

২৫ অক্টোবরের আগে না পালালে ট্রাইব্যুনালে বিচার: খোকন

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায়ের আগে খসড়া ফাঁসের ঘটনা তদন্তের জন্য সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে বুধবার দুপুরে আয়োজিত এক সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

বৈঠক শেষে খোকন সাংবাদিকদের বলেন, সাবেক একজন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে রায় ফাঁসের ঘটনার তদন্ত করতে হবে।

রেজ্যুলেশনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গতকাল একটি রায় ঘোষণার আগেই ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় দেশে-বিদেশে উচ্চ আদালতসহ বিচার ব্যবস্থার প্রতি ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া রেজ্যুলেশনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন রায় নিয়ে মতামত ব্যক্ত করায় তার বিরুদ্ধে কয়েকজন প্রসিকিউটর এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্রমূলক আচরণের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

এতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় এবং যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের কতিপয় প্রসিকিউটরের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ যে কোনো উদ্যোগ নেয়া থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়।

খোকন বলেন, ‘রায় ঘোষণার আগে কিভাবে এটা ইন্টারনেটে এসেছে। কিভাবে এটা হলো গোটা জাতি জানতে চায়। আমরা স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া চাই। খন্দকার মাহবুব হোসেন সেটাই এটা বলেছেন।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয় কলুষিত করেছেন। মনে হয়, গণজাগরণ মঞ্চ যে রায় দেয়, তা এখানে কার্যকর হয়। অথচ কী রায় হবে, তার সম্পূর্ণ এখতিয়ার বিচারকের।’

বার সম্পাদক বলেন, ‘এর আগেও স্কাইপি সংলাপ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন হয়েছে। তখন ট্রাইব্যুনালের নাসিম সাহেব চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি স্কাইপি সংলাপ করেছেন, অথচ এখনও তিনি বিচারক হিসাবে রয়েছেন।’

তিনি দাবি করে বলেন, ‘বিচারপতি মানিক সাহেব আমার ভাই এম ইউ আহমেদ হত্যার সঙ্গে জড়িত। অথচ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে প্রমোশন দিয়ে আপিল বিভাগে নেয়া হয়েছে।’

এ সময় খোকন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যদি আপনারা ২৫ অক্টোবরের আগে পালিয়ে না যান, তাহলে অবশ্যই ট্রাইব্যুনালে আপনাদের বিচার করা হবে।’

সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘যারা খন্দকার মাহবুবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনছেন, তাদের বলবো- বার ও বেঞ্চের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করবেন না। এটা কারো জন্য মঙ্গলজনক হবে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, খন্দকার মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল প্রধান বিচারপতির এজলাসে মৌখিক আবেদন করেছিলেন।

‘খন্দকার মাহবুব হোসেন বিজ্ঞজন। তিনি ৭২ দালাল আইনের ট্রাইব্যুনালে প্রধান প্রসিকিউটর ছিলেন। উনি প্রহসনের বিচার সংশ্লিষ্টদের সম্পর্কে বলেছেন। ট্রাইব্যুনালের সম্পর্কে তো বলেননি’ যোগ করেন তিনি।

রফিকুল বলেন. ‘অভিযোগ উঠেছে- আইন মন্ত্রণালয় থেকে রায় লেখা হয়েছে। আইন প্রতিমন্ত্রী তদন্তের কথা বলেছেন। এটা তার স্বীকারোক্তি বলেই মনে করি।’

ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘যারা আপনাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছে এবং ফাঁসি চেয়েছে, তারাই আদালত অবমাননা করেছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কিছুই হলো না।’

সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, ‘আসলে রায় কে লিখেছে? সরকার বা মন্ত্রণালয় বলেনি, সেখানে টাইপ হয়নি। জনগণের জিজ্ঞাসা- আইন মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটারে এটা ঢুকলো কিভাবে?

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments