রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
spot_img
Homeবাংলাদেশ ট্রাইব্যুনালের একটি সিসি টিভির ফুটেজ ও কম্পিটার সংশ্লিষ্টদের পেনড্রাইভ জব্দ

ট্রাইব্যুনালের একটি সিসি টিভির ফুটেজ ও কম্পিটার সংশ্লিষ্টদের পেনড্রাইভ জব্দ

গোয়েন্দারা বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে কথিত খসড়া রায় ফাঁস হওয়ার ঘটনা তদন্ত করছে। বৃহস্পতিবার এরই অংশ হিসেবে  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবীরের কক্ষের একটি সিসি টিভির ফুটেজ ও কম্পিটার সংশ্লিষ্টদের পেনড্রাইভ জব্দ করেছে তদন্ত কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায় কম্পোজ করেছেন দুইজন বেঞ্চ অফিসার। তারা চেয়ারম্যানের ঠিক পেছনের কক্ষে বসেন। আদালতের বিভিন্ন গোপন বিষয় এই দুজন টাইপ করতেন বলেও জানা গেছে।

বেঞ্চ অফিসার দুজনের একজন গৌরাঙ্গ চন্দ্র এবং অপরজন রাশেদা বেগম। তবে তাদের পূর্ণ নাম কি তা সঠিকভাবে জানাতে পারেনি ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের দপ্তর।

সিসি টিভির ফুটেজ এবং পেনড্রাইভ জব্দের সত্যতা স্বীকার করেছেন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার একেএম নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী।

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কাউকে সন্দেহ করছি না। সন্দেহ করলে আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতাম।’

ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটার থেকে রায় ফাঁস হওয়ার ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা অফিসার মোখলেসুর রহমান। তিনিও এসব জব্দের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, রায় ফাঁসের ঘটনায় শাহবাগ থানায় প্রথমে জিডি ও পরে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর বুধবার বিকেলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা রায় লেখার কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারটি জব্দ করেন। আর বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্টদের পেনড্রাইপ জব্দ করেন।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের যে কম্পিউটারে এই মামলার (সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী) রায় লেখা হয়েছে, তা টাইপের কাজ করেছেন দুইজন। তবে সার্বিক কাজে চারজন নিযুক্ত ছিলেন।’

আর ডেপুটি রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের কাজ হচ্ছে তদন্তের সহায়তা করা। তদন্তের সহায়তার অংশ হিসেবেই বুধবার তদন্ত দল রায় লেখার কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারটি জব্দ করেছে।’

ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার দপ্তর জানিয়েছে, এই দুজন ছাড়া ট্রাইব্যুনালের নিচের কক্ষে ১০ থেকে ১২ জন পরিচ্ছন্নকর্মী রাতে অবস্থান করতেন। এই রায়ের খসড়া ফাঁস হওয়ার পর তাদের সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘যেসব কক্ষে পরিচ্ছন্নকর্মীরা রাতে অবস্থান করতেন, এখন থেকে ওইসব কক্ষে কেউই থাকবেন না। কক্ষে পুলিশ প্রহরা থাকবে।’

রায় ফাঁস হওয়ার পরে সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও সদস্য বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম রেজিস্ট্রারের কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান তিনি।

বিচারপতিরা দপ্তর পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত নেন, এখন থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে রাতে কেউই অবস্থান করতে পারবেন না। এরপর রাতেই পরিচ্ছন্নকর্মীরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন।

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রেজিস্ট্রার একেএম নাসির উদ্দিন মাহমুদ রায়ের খসড়া কপি ফাঁসের কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রকাশিত রায়ের সঙ্গে মূল রায়ের খসড়ার কিছু সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু এটি আদৌ কোনো রায় নয়, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার জন্য প্রস্তত করা হয়েছিল।’

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments