মঙ্গলবার, অক্টোবর 19, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 19, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 19, 2021
spot_img
Homeজেলাজেলা সদর হাসপাতালে ভেঙ্গে পড়েছে চিকিৎসা সেবা: প্রাইভেট বাণিজ্যে নিয়ে ব্যস্ত কর্মরত...

জেলা সদর হাসপাতালে ভেঙ্গে পড়েছে চিকিৎসা সেবা: প্রাইভেট বাণিজ্যে নিয়ে ব্যস্ত কর্মরত ডাক্তার

ডাক্তারদের জমজমাট প্রাইভেট বাণিজ্যের কারণে কক্সবাজারে সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। সাধারণ লোকজন সরকারী হাসপাতালে গিয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ১০০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় লোকবল, বেডসহ সরঞ্জামের ঘাটতির মাঝেই চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। ডাক্তারদের প্রাইভেট বাণিজ্যেমুখী নীতি ও কৌশলের ফাঁদে পড়ে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হয় চিকিৎসা নিতে। আর দরিদ্র, দুভার্গা রোগীদের অনেকেই আর্থিক অনটনে পড়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারী হাসপাতালের ডাক্তারদের মনগড়া মেডিকেল রির্পোটের কারণে জেলায় বেড়ে যাচ্ছে মিথ্যা মামলা, আবার সত্য ঘটনাও আড়ালে থেকে যাচ্ছে।

জানা যায়, মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারের ৮ উপজেলায় রয়েছে ৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র। এছাড়া ১০০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ আংশিক যন্ত্রপাতি দেয়া হয়। লোকবল নিয়োগ, বেডসহ নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও জেলা সদর হাসপাতালে এখন ২৫০ বেডের চিকিৎসাসেবা দেয়া শুরু হয়েছে। জেলার ল ল জনগোষ্ঠির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে রয়েছে মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশের লোকজনের বাড়তি চাপ। ৩১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোতে চরম অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ডাক্তারদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, বিভিন্ন অজুহাতে ছুটি নেয়াসহ প্রাইভেট কিনিক, চেম্বার ব্যবসা কেন্দ্রিক মনোবিত্তির কারণে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাহিল অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারী হাসপাতালে লোকজন পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রাইভেট কিনিক নির্ভর হয়ে পড়েছে।

আবার দরিদ্র লোকজন আর্থিক অনটনের কারণে বিনা চিকিৎসায় আরো নতুন নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জন ডাক্তার কর্মরত থাকলেও অন্ততঃ ৩০ জন বিভিন্ন কিনিক ও চেম্বারে রোগি দেখেন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভিজিট নিয়ে। বিভিন্ন জটিল অপারেশন সরকারী হাসপাতালে না করিয়ে চুক্তি ভিত্তিক ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার, ১/২ ল টাকা পর্যন্ত নিয়ে কিনিকে করানো হয়। জেলা সদর হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাফী, রক্ত পরীা, পায়খানা-প্রস্রাব পরীার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও টেকনিশিয়ান থাকার পরও সরকারী হাসপাতালের চেম্বারে বসেই নিজেদের পছন্দমত প্যাথলজি সেন্টার থেকে এসব পরীা-নীরিা করানো হয়। কারণ, প্রতিটি প্যাথলজি পরীার বিপরীতে ডাক্তারদের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমিশন দেয় প্যাথলজি কর্তৃপ। এছাড়া হাসপাতালে গরীবদের জন্য বরাদ্দকৃত ঔষুধ রোগিদের কখনোই দেয়া হয় না। এভাবেই সাধারণ রোগিদের ঠকিয়ে ডাক্তাররা টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। সরকারী হাসপাতালে ডিউটি চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট কিনিক ও চেম্বারগুলো থেকে যখনই জরুরী কল আসে তখনই ৫০০ থেকে ১/২ হাজার টাকার বিনিময়ে ডাক্তাররা কিনিকে চলে যায়। এছাড়া প্রতিদিনই ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রাইভেট কিনিকে/চেম্বারে রোগি দেখেন। এ ক্ষেত্রে সরকারী হাসপাতালে ডাক্তারদের নিয়মিত টহল, পরিদর্শন বিলম্বিত অনেক েেত্র রোগিদের কোন খবর নেয়া হয় না। এনিয়ে অনেক বার জাতীয়, স্থানীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক এবং টেলিভিশন চ্যানেলে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পরও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ অজয় ঘোষ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে কোন গাফিলতি করা হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে সিভিল সার্জন ডাঃ কাজল কান্তি বড়ুয়া বলেন, ডাক্তাররা প্রাইভেট চেম্বার করতে পারেন। তবে কোন ডাক্তার যদি হাসপাতালে রোগী দেখার সময় প্রাইভেট চেম্বারে ব্যস্ত থাকেন তাহলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments