রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeজেলালাইব্রেরি বিড়ম্বনায় কুবি শিক্ষার্থীরা, এক শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত

লাইব্রেরি বিড়ম্বনায় কুবি শিক্ষার্থীরা, এক শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। লাইব্রেরির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আচরণ এই বিড়ম্বনার কারণ বলে জানান শিক্ষার্থীরা। আর কর্মকর্তা – কর্মচারীদের হাতে শিক্ষার্থী লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটতে দেখা যায় অনেক। গত বৃহস্পতিবার নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী  ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান ও লাইব্রেরির এক কর্মচারীর হাতে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে ঐ শিক্ষার্থী ঘটনার দিনই ডেপুটি লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে মৌখিক অভিযোগও করেন।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন করছেন। তবে প্রথম থেকে এর কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির অবস্থা খুবই শোচনীয়। প্রশাসনিক ভবনের পাচঁ তলার একটি রুম নিয়ে গড়ে ওঠা লাইব্রেরিতে আসন সংখ্যা মাত্র ২৮টি। মোট ৩৬টি শেলফে বই এতই নগন্য যে, শিক্ষার্থীরা দিন দিন লাইব্রেরি বিমুখ হয়ে পড়ছেন। বর্তমানে এখানে ১৪ টি বিভাগের জন্য বইয়ের সংখ্যা অপর্যাপ্ত। পাশের আর একটি বড় রুমের মেঝেতে লাইন করে বই ও পত্রিকা রাখা। ঐ বইগুলো সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে থাকে বলে জানা যায়। বই রাখার মত পর্যাপ্ত শেলফ ও রুম না থাকায় এ ব্যবস্থা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খাতায় পনেরোটি জতীয় দৈনিক ও আর্ন্তজাতিক পত্রিকা রাখার কথা থাকলেও মূলত শিক্ষার্থীরা হাতে পান মাত্র আটটি পত্রিকা। এক সূত্রে জানা যায় তিনটি পত্রিকা স্বয়ং ডেপুটি লাইব্রেরিয়ানের রুমে থাকে। দেখা যায় আর্ন্তজাতিক পত্রিকার কথা শিক্ষার্থীরা জানেনই না। শিক্ষার্থীরা চাইলে ঐ পত্রিকাগুলো দেয়া হয় বলে কাউন্টার থেকে জানান হয়। সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত লইব্রেরির খোলা রাখার দাবি বহু দিন ধরে শিক্ষার্থীরা করে আসছেন। তবে এ ব্যাপারে প্রশাসনের র্নিবাক ভূমিকা শিক্ষার্থীদের বারবার হতাশ করছে। লাইব্রেরির এই অবস্থার কারন জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার মোঃ মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘নবীন বিশ্ববিদ্যালয় বলে এই অবস্থা আগামীতে আরও সমৃদ্ধশালী করা হবে।’
লাইব্রেরির সাথে সংশ্লিষ্টরা স্বেচ্ছাচারি মনোভাব দেখান বলে একাধিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, লাইব্রেরির কর্মচারীদের খারাপ ব্যাবহারের কারনে তারা খুবই বিস্মিত। কোন বই বা পত্রিকা অল্প সময়ের জন্য ফটোকপির জন্য আনতে চাইলে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হতে হয়।

গত বৃহস্পতিবার নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী পুরনো কয়েকটি পত্রিকা ফটোকপির জন্য আনতে চাইলে প্রথমে ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান তারিক ভূঞাঁ ও পরে কর্মচারী দেলোয়ারের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হন। ঐ শিক্ষার্থী ডেপুটি লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে মৌখিক অভিযোগও করেন। ঐ শিক্ষার্থী জানান কয়েকটি পুরনো পত্রিকা ফটোকপির জন্য আনতে গেলে লাইব্রেরিয়ান বলেন, এটা তোমরা আইন সম্মতভাবে পেতে পার না, অনুরোধ কর বলে আমরা দেই। আমরা দিতে বাধ্য নই। তখন লাইব্রেরিয়ান ঐ শিক্ষার্থী আইডি কার্ড চাইলে দিতে না পারায় তাকে লাঞ্ছিত করেন। পরে পত্রিকাগুলো দিলে একট পত্রিকার পাল্টে আরেকটা চাইলে লাইব্রেরি কর্মচারী দেলোয়ার দিতে অস্বীকার করেন ও শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করেন। পরে এক সিনিয়র ভাইয়ের অনুরোধে পত্রিকা পাওয়া যায় বলে ঐ শিক্ষার্থী জানান।

শিক্ষার্থী লাঞ্ছনার ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান তারিক ভূঞাঁ ঘটনা অস্বীকার করেন। রেজিস্ট্রার মোঃ মজিবুর রহমান মজুমদার শিক্ষার্থী অভিযোগের কথা স্বিকার করে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে লাইব্রেরিয়ানের সাথে কথা বলা হবে। আমরা ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments