সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
spot_img
Homeজেলাস্বাস্থ্যহানিকর মাদকদ্রব্যে সয়লাব বাজার, প্রশাসনের নজরদারী নেই

স্বাস্থ্যহানিকর মাদকদ্রব্যে সয়লাব বাজার, প্রশাসনের নজরদারী নেই

স্বাস্থ্যহানিকর মাদকদ্রব্য ‘জিনসিন’ বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। অনেকটাই পরিকল্পিতভাবে যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ঘটাতে এই পন্যটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিকতায় পন্যটি এখন পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারেও ব্যাপকভাবে বাজারজাত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অধিক মুনাফার আশায় এটি বাজারজাত করে যাচ্ছে বলে সূত্র জানায়। অনুমোদনবিহীন নিষিদ্ধ কিছু পণ্য যেমন যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ‘ভ্রায়াগ্রা’ এবং এলকোহলের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে সস্তা দামে বোতলজাত করে এটি প্রস্তুত করা হয় বলেও জানায় সূত্রটি। বিএসটিআই’র অনুমোদন বা ড্রাগ লাইসেন্স না থাকায় এই মাদকদ্রব্যটি বাজারজাত করতে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে থাকে। একের পর এক বিভিন্ন নামে এটি বিস্তরভাবে বাজারজাত করা হলেও প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় পন্যটি এখন উঠতি বয়সের যুবক, তরুণ থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ প্রৌঢদেরও হাতে হাতে। পর্যটন শহর হওয়ায় পন্যটির গুরুত্ব ও ব্যবহার কক্সবাজারে দ্বিগুণ। শহরের এমন কোন বিপনীবিতান নেই যেখানে এটি পাওয়া যায়না। পানীয়টি কেউ সেবন করছেন যৌনক্ষমতা বৃদ্ধির আশায়, আবার কেউ সেবন করছেন মাদক হিসেবে, আবার অনেকেই সেবন করছেন শক্তিবর্ধক ঔষুধ হিসেবে। যদিও এর কোনটাই এতে নেই। বরং স্বাস্থ্যহানিকর কিছু মেয়াদোর্ত্তীর্ণ ঔষুধ দিয়ে এটি তৈরী হয় বলে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়। খুব অল্প দামে সর্বোচ্চ ১৬টাকা ব্যায়ে এটি বোতলজাত করা হলেও বাজারে এটি বিক্রয় করা হয় সর্বনি¤œ ৬০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা দামে। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নিরাপদ আস্তানা গড়ে তোলে নিজেরাই পন্যটি তৈরী করে। ফলে রাজস্ব ফাকি দেওয়ার পাশাপাশি যুবসমাজের নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটাতে এটি ব্যাপক ভাবে ভূমিকা রাখছে।
পানীয়টি বাজারজাত করণে জড়িত রয়েছে ‘ইন্ট্রা ফুড ইন্ডাস্ট্রি লি.’ নামে একটি কোম্পানি। গত ৩ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে বড়বাজারের দোকান গুলোতে বাজারজাত করতে গেলে এই কোম্পানীর লোকজনদের সাথে কথা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর পরিচয় দিয়ে আজাদ খান নামে এক ব্যাক্তি ফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ভাই আপনারা সাংবাদিক হইছেন তো কি হইছে, এগুলা নিয়ে লিখলে খবর আছে কইলাম’। বিএসটিআই’র অনুমোদন না থাকলেও ড্রাগ লাইসেন্স আছে দাবী করে ওই ব্যাক্তি আরোও জানায় ‘এইডা একটা শরবত, তাই এডি ফার্মেসীতে পাইবেন না, এডি পাইবেন দোকানে দোকানে, রুহ আফজা যেমন মাইনশের শরীর ঠান্ডা করে এইডা আবার শরীর গরম করে’।
খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রশাসনের চোখকে ফাকি দিতে পন্যটি যেই প্যাকেটে তাকে ওই প্যাকেটে আবার ‘ইন্ট্রা ফার্মাসিউটিক্যালস লি.’ নামে লেবেল লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ এই নামে কোন ফার্মাসিউটিক্যালস’র অস্থিত্ব পাওয়া যায়নি।  illigel sexual drugs pic- 03.10.13
অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের জাহাঙ্গীর ও আলমগীর নামে দুই ব্যাক্তি এই পন্যটি বাজারজাত করে থাকে। শহরের বিলকিস মার্কেটের পাশে এ.বি সুপার মার্কেটের ভিতরে মোবাইল হাসপাতাল নামে একটি দোকানে পন্যটি গোদামজাত করা হয়। ওই দোকান থেকেই সমগ্র জেলাজুড়ে প্রায় সব দোকানে পন্যটি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীরের টেকপাড়াস্থ চৌমহনীর পাশে নিজ বাসায় পন্যগুলো গাড়ি থেকে নামিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে ওই মোবাইল মার্কেটে নিয়ে গোদামজাত পরবর্তী জেলাব্যাপী সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এভাবেই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হরদমে চলছে অবৈধ পানীয় মাদকদ্রব্য ব্যবসা।
এব্যাপারে কক্সবাজার জেলার এডিসি (সার্বিক) নুরুল বাসিরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অবৈধ পন্য ও মাদক বিরোধী নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারপরও আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি, যদি এধরনের পন্য বাজারে পাওয়া যায় তাহলে সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments