রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeজেলাঝিনাইদহে টাকার বিনিময়ে স্কুল সরকারী করণ স্লিপ প্রকল্পের ৮ কোটি টাকা পকেটস্থ!

ঝিনাইদহে টাকার বিনিময়ে স্কুল সরকারী করণ স্লিপ প্রকল্পের ৮ কোটি টাকা পকেটস্থ!

প্রাথমিক ও গনশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষের নিজ উপজেলা ঝিনাইদহের প্রথমিক শিক্ষর এখন বেহাল দশা। সরকারী আইনের তোয়াক্কা না করে শিক্ষকদের বদলী নিয়ে বানিজ্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে বেসরকারী বিদ্যালয় জাতীয়করণের তালিকা করা নিয়েও চলছে তুঘলকি কারবার। লাখ লাখ টাকা নিয়ে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বেসরকারী স্কুলগুলো দিব্যি চালু দেখানো হচ্ছে। অথচ সে সমস্ত স্কুলের জমি, ছাত্রভর্তি, শিক্ষক নিয়োগ ও কমিটি নিয়ে চরম ঘাপলা রয়েছে। রাতারাতি বেড়া ও টিন দিয়ে তৈরী স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে স্কুল লেভেল ইমপ্লিমেন্টশন প্ল্যান্ট (স্লিপ) প্রকল্পের প্রায় ৮ কোটি টাকার মালামাল না কিনে পকেটস্থ করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সরকারী ভাবে সরকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের সব ধরণের বদলী বন্ধ থাকার পরও বেআইনী ভাবে ঘুষ নিয়ে সংযুক্তি বদলী করা হয়েছে। এ ভাবে ঝিনাইদহ, শৈলকুপা ও মহেশপুর উপজেলার ১০/১২ জন শিক্ষককে বদলী করা হয়েছে। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারী করণের তালিকা প্রণয়ন নিয়ে চলছে তুঘলকি কারবার। রাতারাতি গজিয়ে ওঠা স্কুলগুলো সরকারী করণের তালিকায় উঠে যাচ্ছে। জানা গেছে প্রথম তালিকা নিয়ে কোন অভিযোগ না থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালিকা করা নিয়ে লাখ লাখ টাকার বানিজ্য করা হচ্ছে। প্রথম তালিকায় ৪৪৬টি রেজিষ্টার্ড বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে তিন ক্যাটাগরির ৩৫টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী করণের জন্য তালিকা শিক্ষমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা পর্যায়ের যাচাই বাছাই কমিটি জেলা কমিটিকে অন্ধকারে রেখে স্কুল প্রতি ৩/৪ লাখ টাকা করে ঘুষ দিয়ে তালিকা করা হচ্ছে। আর এই তালিকা অনুমোদন করে সরকারী করণের জন্য ঢাকায় পাঠাচ্ছে জেলা কমিটি। সুত্র জানায় তিন ক্যাটাগরি স্কুলের মধ্যে স্থাপন ও চালুর অনুমতি পাওয়া এবং অস্থায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালিকা ভুক্ত করতে ঘুষ লাগছে। দ্বিতীয় তালিকায় ঝিনাইদহ জেলায় ১৯টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। কারো কারে পিতার নামেও রাতারাতি স্কুল বানিয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। সুত্র মতে তৃতীয় দফা তালকা করতে বেপরোয়া ভাবে ঘুষ বানিজ্য করা হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে যাচাই বাছাই কমিটিকে ঘুষ দিয়ে এই অনৈতিক কাজ চলে আসলেও কোন তদন্ত করা হচ্ছে না। তবে তদন্তের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দিলিপ কুমার বনিক সরেজমিন গিয়ে পুনরায় টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ। মহেশপুর উপজেলার বেড়বাড়ি ও জালিয়াপাড়া স্কুল পরিদর্শনের সময় জেলা প্রাতমিক শিক্ষা অফিসারকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল বলে অভিযোগ। এদিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আকবর আলী সবাইকে ম্যানেজ করে রাতারাতি গজিয়ে ওঠা স্কুলগুলো সরকারী করণের তালিকা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন দেখা গেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কলাকদমতলা, সোনাদহ, তালতলা হরিপুর, পোড়াহাটী ইউনিয়নের ভুপাতিপুর, পদ্মাকর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর, কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের রামনগর ও রসুলপুর বেসরকারী স্কুলগুলো মোটেও সরকারী করণের উপযুক্ত নয়। কিন্তু ব্যাকডেটে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্র ভর্তিসহ যাবতীয় কাগজ তৈরী ও রাতারাতি ঘর তুলে স্কুল নির্মান করা হয়েছে। এ সব স্কুলে গত ৩/৪ বছরের ছাত্রভর্তির কোন রেজিষ্টার নেই। কোন কোন স্কুলে সকল শিক্ষক এসএসসি পাস বলেও দেখা গেছে। টাকার বিনিময়ে অসম্ভবকে সম্ভব করানো হচ্ছে মহাপরিচারকের নিজ জেলা ঝিনাইদহে। এদিকে স্কুল লেভেল ইমপ্লিমেন্টশন প্ল্যান্ট (স্লিপ) প্রকল্পের টাক নিয়ে চলছে হরিলুটের খেলা। গত দুই বছর ঝিনাইদহের সরকারী ৪০৭টি ও ৪৪৬টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয়ে সর্বমোট ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করে সরকার। নিয়মানুযায়ী শিক্ষার জন্য সবার আগে যে জিনিসটি প্রয়োজন এই কর্মসূচীর আওতায় তা কিনতে হবে। কিন্তু বেশির ভাগ স্কুল কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক বিষয়টি অগ্রাহ্য করে সরকারী টাকা নয়ছয় করেছেন। গত ২৩ সেপ্টম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ ৩৭৩ নং স্মারকে বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার নিশ্চিত করণের জন্য ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে এই অর্থ ব্যায়ের ক্ষেত্রে সচ্ছতা ও জবাবদিহীতার কথা কঠোর ভাবে উল্লেখ করা হলেও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পিরোজপুর সদ্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাত কুমার স্লিপ প্রকল্পের ৩০ জাজার টাকায় লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ভাবে বেশির ভাগ স্কুল স্লিপ প্রকল্পের টাকা তছরূপ করেছে, যা তদন্ত হলেই বেরিয়ে আসবে। এদিকে ঝিনাইদহে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলিপ কুমার বনিককে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে কারণ দশার্নোর নেটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি অফিস না করে বিরতিহীন ভাবে ঢাকায় থাকেন। ইতিপুর্বে তিনি গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ি ও কিশোরগঞ্জ জেলায় বিভাগীয় মামলাসহ নানা কারণে হেনস্থা হয়েছেন। জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র মৃধাও অফিস করেন না। কাগজে কলমে এ বছরের ১৭ জুলাই হরিণাকুন্ডুতে যোগদান করলেও তিনি হরিনাকুন্ডুতে আসেন না। থাকেন ঢাকাতেই। ফলে হরিণাকুন্ডু এ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।  নিখিল চন্দ্র মৃধার স্ত্রীর নামে ঢাকায় ফার্মগেটে সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় একাউন্ট রয়েছে। ওই একাউন্টে মাসিক বেতনের টাকা পাঠিয়ে দেয়া হয়। জানা গেছে নিখিল চন্দ্র মৃধা এর আগে বেতন নিয়েছেন নড়াইল থেকে। সেখানেও অফিস করতে হয়নি তাকে। জানা গেছে হরিনাকুন্ডু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র মৃধা ডেপুটেশনে (পেশনে) চাকরি করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগে। সেখানে এমন ফাঁকিবাজ আরো ৩০ থেকে ৩৫ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। যাদের পোষ্টিং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস গুলোতে। দলীয় প্রভাব আর খুঁটোর জোর খাটিয়ে তারা বছরের পর বছর ঢাকায় থাকেন।অভিযোগ করা হয়েছে প্রভাবশালী একটি চক্র প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের নিয়োগ বানিজ্য, বিদ্যালয় সরকারী করণ সহ বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রন করে থাকে। এ সব বিষয়ে ঝিনাইদহে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলিপ কুমার বনিক জানান, তিনি কোন রকম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয়। উপজেলা অফিস থেকে যে সব ফাইল আসে সেগুলো অগ্রগামি করেন। তিনি বলেন দুর্নীতি করলে উপজেলা অফিস থেকে করা হয়। সরকারী করণ নিয়ে বানিজ্যের কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন, প্রাথমিক যাচাই বাছাই যারা করেন, তাদেরই এই অসৎ কাজ করার সুযোগ রয়েছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments