মঙ্গলবার, অক্টোবর 19, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 19, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 19, 2021
spot_img
Homeজেলা ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র, অনলাইন আলোর দ্যুতি

ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র, অনলাইন আলোর দ্যুতি

ক্সবাজারের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তথ্য সেবা কেন্দ্র গুলোতে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়ছে। জেলার ৭১ ইউনিয়নের প্রত্যকটিতে একটি করে তথ্য সেবা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে দুয়েকটি ছাড়া প্রত্যকটি কেন্দ্রে তথ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে উদ্যোক্তরা। এ রকম একটি তথ্য সেবা কেন্দ্রের নাম হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদ।

কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণে উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা বাজারের পাশে অবস্থিত।

১০ অক্টোবর ওই তথ্য সেবা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ তথ্য সেবা নিতে আসছে ইউনিয়ন পরিষদে। জন্মনিবন্ধন ও প্রিন্ট, পাসপোর্ট ফরম, কম্পিউটার কম্পোজ, সরকারী বিভিন্ন ফরম, ছবি তোলা, ছবি দেখে বিদেশে কথা বলা (স্কাইপির মাধ্যমে), লেমেনেটিং, প্রশিক্ষণ, মেইল করা, ব্যাংকিং সেবা, বিদ্যুৎ বিল প্রসেসিং, ইন্টারনেটে চাকরির খবর থেকে শুরু করে বিভিন্ন তথ্য প্রদান, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের তথ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে।

হলদিয়াপালং ইউনিয়েনের পাতাবাড়ি এলাকার আব্দুল আলমের স্ত্রী খাদিজা বেগম এসেছেন, জন্মনিবন্ধন কার্ড নেয়ার জন্য।
খাদিজা বেগম জানান, তার ১ ছেলে ২ মেয়ে রয়েছে। তাদের জন্য ৩টি জন্ম নিবন্ধন কার্ডের প্রয়োজন। তার ৩টি জন্মনিবন্ধন কার্ডে লেমেনেটিং ও প্রিন্টসহ খবচ হয়েছে মাত্র ৯০ টাকা। অথচ পার্শ্ববর্তী বাজারের কম্পিউটারের দোকান থেকে এসব কার্ড প্রিন্ট নিতে গেলে তার খরচ পড়ত ১৫০ টাকা। স্বল্প খরচে খুব সহজে সন্তানদের জন্মনিবন্ধন কার্ড নিতে পেরে তিনি খুশি।

ইউনিয়নের রুমখাঁ মাতব্বর পাড়া থেকে এসেছেন, দ্বীপানীতা বড়ূয়া। তার স্বামী সজল বড়ূয়া একজন ইতালি প্রবাসী। সে দেশের নাগরিকত্ব লাভের জন্য দরকার জন্মনিবন্ধন, ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত জাতীয় সনদ ও স্থানীয় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন। এজন্য শরণাপন্ন হয়েছেন তথ্য সেবা কেন্দ্রের। স্কাইপির মাধ্যমে ছবি দেখে স্বামীর সাথে কথা বলতে পেরে তিনিও খুব আনন্দিত।

একই এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মো. তারেক এসেছেন, তথ্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে অনলাইনে রেজিস্টার করে বিদেশ পাড়ি দেবেন। এজন্য এমআরপি, আইডি ও জন্মনিবন্ধন কার্ড সংগ্রহ করে বিভিন্ন কাগজপত্রাদি সত্যায়িত করে বিদেশ যাবেন।

তথ্য সেবা কেন্দ্রে সরকারি নিয়মানুসারে উদ্যোক্তা আব্দুর রহমান ও মোমেনা বেগম নামের ২ জন সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তারপরও বিকল্প হিসাবে শফিউল আলম ও হালিমা বেগম নামের আরো ২ জনসহ মোট ৪ জন উদ্যোক্তা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তথ্য কেন্দ্রে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষকে।

ওই সেবা কেন্দ্রের প্রধান উদ্যোগক্তা আব্দুর রহমান বলেন, “২০১০ সালের ১১ নভেম্বর কক্সবাজার জেলা প্রশাসন তথ্য সেবা কেন্দ্রটি চালু করেন। এরপর থেকে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে একে অপরের দেখাদেখি পর্যায়ক্রমে মানুষের ভিড় বেড়েই চলছে।”

তিনি জানান, তথ্য সেবা দেয়ার পাশাপাশি একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও গড়ে তুলেছেন। যাতে গ্রামের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে কম্পিউটার শিক্ষা নিতে পারে। ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জন। আগামী ডিসেম্বর মাসের পর অর্থাৎ বার্ষিক পরীক্ষার শেষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তথ্য সেবা কেন্দ্রের প্রশিক্ষনার্থী মো. রায়হান, শারমীন সীমা, জাহিদ হাসান ও মো. আনোয়ার সহ অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা তথ্য সেবা কেন্দ্রে এসে শিক্ষার্থী হিসাবে কম্পিউটার সম্পর্কে তাদের ধারণা অনেকাংশে পাল্টে গেছে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শেষে ভবিষ্যতে উপকৃত হওয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন।

হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মিন্টু বলেন, “তার পরিষদে তথ্য সেবা কেন্দ্র চালুর পর থেকে কাজের গতি কয়েক গুণ বেড়েছে।”

খুব সহজে এলাকার মানুষ তথ্য সেবা কেন্দ্রের সুফল ভোগ করায় তিনি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বলেন, “শুধু হলদিয়া পালং ইউনিয়নে নয়, পুরো জেলার ৭১টি ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্রের তথ্য সেবা পাচ্ছে গ্রামের সাধারণ মানুষ।”

তিনি বলেন, “সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তথ্য সেবা দিতে সামান্য ব্যাহত হলেও খুব দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি।”

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments