গেইম চেঞ্জার কি মোজিনা

২০১১ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন ড্যান ডব্লিউ মোজিনা। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে গত দুই বছর বিভিন্ন সভা-সেমিনারে মন্তব্যের কারণে আলোচিত-সমালোচিতও হন এ রাষ্ট্রদূত। তবে চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হয়ে উঠছেন তিনি।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত হওয়ার পর বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে সক্ষম হননি তিনি। তবে সম্প্রতি উল্টে গেছে পাশার দান। চলমান সংকটে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অনুযোগ-অভিযোগ ও ভবিষ্যত্ রাজনৈতিক গতিধারা সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন এ কূটনীতিকের কাছে। দলগুলোর মুখপাত্রদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও তাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এ অবস্থায় আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছতে রাজনৈতিক দলগুলোর অপেক্ষা তাকে ঘিরেই।
একাধিক কূটনীতিক বণিক বার্তাকে বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই স্বকীয় বাচনভঙ্গি, সীমান্ত জেলাগুলোয় সফর এবং বাংলাদেশ নিয়ে একাধিক বক্তব্যের কারণে আলোচনায় আসেন ড্যান মোজিনা। রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্ত্র চুক্তি এবং দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত্ না পাওয়ায় নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্রেও প্রশ্ন ওঠে তাকে ঘিরে। এসব কারণে বাংলাদেশে বেশ হালকাভাবেই নেয়া হয়েছিল এ রাষ্ট্রদূতকে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কৌশলগত সিদ্ধান্ত প্রণয়নের ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্বও পাননি তিনি।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মোজিনা প্রসঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ও সন্তুষ্ট না। সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও কর্মকর্তা বিভিন্ন সভা-সমিতিতে এ বিষয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন। এ অবস্থায় কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। গত মাসে বাংলাদেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিস্থিতিতে একে অন্যকে বুঝতে ও বোঝানোর অংশ হিসেবে ড্যান মোজিনা দিল্লি সফরে যান, যদিও ভারত তাকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায়নি। সফরে ভারতের শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে আলোচনায় ড্যান মোজিনা বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তার দেশের ভাবনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বুঝতে চেষ্টা করেন প্রতিবেশীকে নিয়ে ভারতের অবস্থান। কারণ দেশ দুটি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান চাইলেও বেশকিছু মতপার্থক্য রয়ে গেছে তাদের মধ্যে। একটি অভিন্ন অবস্থানের পক্ষে সমঝোতায় আসতেই মূলত দিল্লি সফর করেন তিনি।
এ অবস্থায় ড্যান মোজিনার ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কারণ জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণসহ একাধিক কূটনীতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে তার। তাছাড়া গত মার্চে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বাংলাদেশ ডেস্কের প্রধান বেঞ্জামিন ব্যারি ওয়াশিংটনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক অনুষ্ঠানে জানান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিরোধের অবসানে কাজ করতে সক্রিয় রয়েছেন ড্যান মোজিনা।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকা উচিত বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। কৌশলগত অবস্থানের কারণে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কেউ কেউ রেফারির ভূমিকা পালন করলেও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি রয়েছে। এ গণ্ডি অতিক্রম করলে তা একটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।