রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
spot_img
Homeউপজেলাটেকনাফ সীমান্তে নিশীতে মাদক ও চোরাচালানীর হাট!

টেকনাফ সীমান্তে নিশীতে মাদক ও চোরাচালানীর হাট!

টেকনাফের হ্নীলার হোয়াব্রাং-মৌলভীবাজার সীমান্ত এলাকায় নিশীর রাতে বসে মাদক ও চোরাচালানীর হাট। হোয়াব্রাং এলাকায় কথিত ১৬ জইন্যা সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত দেদারছে পাচার করছে অবৈধ মালামাল। সীমান্ত এলাকাটিতে মধ্য রাতে চোরাচালানের ধুম পড়েছে।

উক্ত হাটের বেপরোয়া চোরাচালানের কারণে ওয়াব্রাং এলাকা বর্তমানে অরতি হয়ে পড়েছে। সীমান্তের এপার থেকে যাচ্ছে মাছের পোনা, ইংরেজি পত্রিকার বান্ডিল, সুখী ভরি, ডিপো ইনজেকশন, মেডিসিন, সার, ডিজেল, মোবাইল সিম-কার্ড-মেমোরী, মোটর সাইকেল, বিভিন্ন যন্ত্রাংশের পার্টসসহ নানান ধরণের পণ্য। ওপার থেকে আসছে, ইয়াবা, আন্দামান গোল্ড, বার পারসন, এনার্জি, মাদক জাতীয় দব্য, প্লাষ্টিক, সুপারী, চামড়া, চিংড়ী মাছের নাম ভাঙ্গিয়ে নিষিদ্ধ দ্রব্য,আদমসহ হরেক রকম নিষিদ্ধ পণ্য। হ্নীলা ষ্টেশনের কতিপয় ব্যবসায়ীর সাথে সখ্যতার মাধ্যমে হোয়াব্রাং এলাকার চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের সেকেন্ড ইন কমান্ড আব্দুল গফফারের নেতৃত্বে আবুল কাশেম, বাদশা মিয়া, নুরুল কবির, মাসুদ, আলম, ফরিদ নুর, ডিপজল, ছৈয়দ আহমদ, ফরিদ, বদি আলম, ইউনুছ, জাভেদ সওদাগর, সহ ১৬ জইন্যা সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় সীমান্ত এলাকাটি উন্মুক্ত হাটে পরিণত হয়েছে। মৌলভী বাজার সীমান্তে মৃত নজির আহমদের পুত্র আব্দুল জলিল প্রকাশ কিয়ারা বাদশা, আবুল হাশেমের পুত্র নুরুল আলম, বাইট্যা খলিলের পুত্র আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে বড় ১টি সিন্ডিকেট হরদম অবৈধ মালামাল পাচার করছে। বিভিন্ন সময় বিজিবির অভিযানে উক্ত এলাকায় সার সহ নিষিদ্ধ পণ্য আটক হয়েছে।

এমনকি ইংরেজি পত্রিকার বান্ডিলও জব্দ করা হয়েছে। চোরাচালানের মাধ্যমে দেশও জাতির যেভাবে তি করে যাচ্ছে তার চাইতে আবার বিভিন্ন প্রকার দৈনিক পত্রিকা পাচারের মাধ্যমে এদেশের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে। শক্তিশালী চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিনের পর দিন তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এদের অনুসরণ করে পুরো ইউনিয়নে ছোট-বড় চোরাকারবারীরা উৎসাহ পাচ্ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, এসব চোরাচালানীর সাথে প্রশাসনের টপ টু বটম ম্যানেজ থাকায় এদের বিরুদ্ধে কিছু করলে কোন প্রতিরোধ-প্রতিকার পাওয়া যায়না। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাউকে ইনফর্ম করলে পরে তাদের সাথে হাত মিলিয়ে উল্টো ইনফর্মারের তথ্য ফাঁস করে দেয়। ইনফমার্রের উপর চোরাকারবারীরা নানান ধরণের নির্যাতন চালিয়ে থাকে। তাতে করে চোরকারবারীদের বিরুদ্ধে তেমন কেউ আর বলতে চাইনা। জরুরী ভিত্তিতে হোয়াব্রাং সীমান্ত বন্ধের মাধ্যমে চোরাচালানীর হাট ভেঙ্গে দিতে সচেতন এলাকাবাসী ৪২ বিজিবির অধিনায়কের হস্তপে কামনা করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিন্ডিকেটের একজন বলেন, আমরা সব কিছু ঠিকঠাক করে মালামাল পাচার করছি। এরকম অনেক পত্রিকায় লেখালেখিতে কোন কাজ হয়নি। ১৬ জইন্যা সিন্ডিকেটের সেকেন্ড ইন কমান্ড আব্দুল গফফারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চোরাচালানের কথা স্বীকার করে বলেন, আগের সুবেদারের আমলে মালামাল পাচার করতাম, নতুন সুবেদার আসার পর থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে বলে মোবাইল ফেনের সংযোগ কেটে দেন। ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আবু জার আল জাহিদ বলেন, পাচারকারীরা দেশ ও জাতির শত্র“। তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাচার কাজে জড়িত যেই হোক না কেন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিজিবির তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments