চার মাসেও মেলেনি রেলওয়ের ১৭ লাখ টাকা

কমলাপুরে রেল কর্মচারী ইস্রাফিল মুন্সি (৬০) হত্যা তদন্তের ঘটনার চার মাস পর জট খুলছে। তবে এখনো উদ্ধার হয়নি রেলের টিকিট বিক্রির ১৭ লাখ টাকা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, ঘটনার তদন্তকাজ প্রায় শেষের দিকে। টাকা লুট করতে গিয়েই ইস্রাফিলকে হত্যা করা হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরো একজনকে আটক করেছে সিআইডি।

আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রথমে রেলওয়ে থানা পুলিশ করলেও এক সপ্তাহের মধ্যেই তদন্তভার পড়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ওপর। এর আগে পুলিশ একজনকে এবং সিআইডি দুজনকে গ্রেফতার করেছিল। তারা এখন জেলহাজতে।

গত ৫ অক্টোবর ভোরে কমলাপুরে একটি সুরক্ষিত বুকিং কাউন্টার থেকে ইস্রাফিলের হাত-পা বাঁধা, মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে রেল বিভাগের ছয়জন নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশের চারজন সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

ঘটনার তদন্তে বাংলাদেশ রেলওয়ে, রেল মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়। টিকিট কাউন্টারের নিরাপত্তার দুর্বলতার কারণে ক্যাশরুমে ঢুকে কর্মীকে হত্যা করে টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে এসব কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছে।

সিআইডির পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ মামলাটির তদন্ত করছেন। বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে নতুনবার্তা ডটকমের কথা হয় মোবাইল ফোনে। এ সময় তিনি এ মামলার তদন্তকাজে শরীয়তপুরে অবস্থান করছিলেন।

মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “এ ঘটনায় তিনজন কারাগারে আছেন। আবু তালেব নামের আরো একজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে গুলশান-১ এর ডিসিসি মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তাকে সিআইডি হেফাজতে রাখা হয়েছে।”

মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “তদন্তকাজ একেবারে শেষের দিকে। টাকা লুট করতে গিয়েই অপরাধীরা ইস্রাফিলকে খুন করে বলে জানা গেছে। শিগগির ঘটনার পুরো রহস্য উন্মোচন হবে।”

ঘটনার পঞ্চম দিন ৯ অক্টোবর কাটালিটন নামে কমলাপুরের এক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে এর মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের কোনো রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১৩ অক্টোবর ঢাকা রেলওয়ে থানা পুলিশের কাছ থেকে সিআইডিতে মামলার তদন্তভার স্থানান্তরিত হয়।

এদিকে মামলার তদন্তভার পুলিশের কাছে থাকাকালে রেলের কর্মীরা জড়িত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সন্দেহ করলেও কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত রেলওয়ের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি।

অপরদিকে তখনকার তদন্ত কর্মকর্তা কমলাপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “হত্যা ও টাকা লুটের ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক রেলওয়ের লোকজন নিশ্চই বিষয়টি জানে। কিন্তু তাদের কেউই তদন্তে  আমাদের সহায়তা করতে চায়নি।”

ঘটনার পর টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কাউন্টারের বুকিং সহকারী জাহাঙ্গীরকে বরখাস্ত করা হয়। জাহাঙ্গীর হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের কথা বলে অগ্নিবীণা ও যমুনার পাঁচটি টিকিট কেটে নিজের কাছে রেখে দেন। ইস্রাফিল হত্যার পর রেলের ডিআরএম ঝটিকা তল্লাশি চালিয়ে তার কাছে টিকিটগুলো পান। বৃহস্পতিবার রেল স্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীর স্টেশনে নিয়মিত কাজ করছে।

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদ বলেন, “এমন সুরক্ষিত জায়গায় এ ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পুলিশও ঢুকতে পারে না। ইস্রাফিল হত্যার পর আমাদের যেতে হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে প্রথমে রেলওয়ের কর্মচারীদের সন্দেহ করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত কাজ শেষ করার আগেই মামলাটি সিআইডিতে চলে গেছে।”

নিহত ইস্রাফিলের মেয়ে ডা. তানিয়া আক্তার বলেন, “সিআইডি শুরু থেকে বলে আসছে তদন্ত হচ্ছে। কিন্তু এতদিনেও কিছু বের হলো না কেন। রেলের কেউ এ খুনের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করছি।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।