পিয়ারে পাকিস্তান বলেই বিএনপি নেত্রী মেট্রিকে উর্দূ পাশ

সরকারের চলমান সময়ে ৪০ লক্ষ শিক্ষার্থী বৃত্তি এবং ৩০ ল শিক্ষার্থী দশম শ্রেনী পর্যন্ত বিনা পয়সায় বই পাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বিরোধী দলীয় নেত্রীর মনে পিয়ারে পাকিস্তান বলেই তিনি মেট্রিকে উর্দূতে পাশ করতে পেরেছিলেন। তাই তিনি ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষার সময় হরতাল অবরোধের ডাক দেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় তিনি হরতাল অবরোধ ডেকে বসে থাকেন। অথচ আমি ওনাকে অনুরোধ জানিয়ে ছিলাম তিনি যেন হরতাল অবরোধ না ডাকেন। যাতে আমাদের ছেলে মেয়েদের পড়া লেখায় বিঘ্ন না ঘটে। তারা যেন ভালভাবে একটু পরীক্ষা দিতে পারে। কিন্তু বিরোধী দলীয় নেত্রী তা রাখল না। কেনইবা রাখবেন, তিনি তো উর্দূ ও অংকে পাশ করেছিলেন। পিয়ারে পাকিস্তান বলেই তিনি উর্দূতে পাশ করতে পেরেছিলেন। আর অংকে পাশ করেছিলেন মতায় গিয়ে লুটপাটের টাকা গুনার জন্যে। কিন্তু আমরা অবরোধের সময়েও যথা সময়ে ৩০ লাখ বই ছাপিয়ে বাংলাদেশের দূর্ঘম এলাকায় পৌছাতে সম হয়েছি।

রোববার বিকেলে কক্সবাজারে নবনির্মিত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য, কক্সবাজারের এই সফরে স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়ার আন্দোলনে জনগণের সমর্থন নেই দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপির নেত্রী আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। জনগণ তাতে সাড়া দেয় নাই। ঢাকা আসার ডাক দিয়েছেন, তাতেও জনগণের সাড়া পান নাই। তখন তারা বাসে পেট্রল বোমা মেরেছে, লঞ্চে আগুন লাগিয়েছে।”

২০১২ সালের কক্সবাজারে রামুর মন্দির পোড়ানোর ঘটনায় বিএনপি জামায়াতকে দায়ী করে তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াত রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ  রাসুল সা. আমাদের শিখিয়েছেন ‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়াদ্বিন’ অর্থাৎ যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। তিনি আরোও বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নির্দেশে গত পবিত্র মেরাজের দিনে বায়তুল মোকাররম মসজিদে বিএনপি জামায়াত চক্র শত শত ক্বোরান শরীফ পোড়ায়। জায়নামাজে আগুন ধরিয়ে দেয়।

২১ বছর পর আমরা সরকার গঠন করি। আওয়ামীলীগ যখন মতায় আসে উন্নয়ন শুরু হয়। এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়। মানুষ তখন কিছু পায়। আর যখন বিএনপি মতায় আসে তখন মানি লন্ডারিং ও জঙ্গিবাদে দেশ পরিণত হয়। হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম আমরা সবাই মিলে যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছি।
জামায়াত প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “জামায়াতে ইসলামী নামে ইসলাম, কামে তো দেখি না। তারা চোরাকারবারি, হত্যা, আগুন- এসব কাজ করে। জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপে কাজ করেছে। এখন তারা কীভাবে বাংলাদেশে রাজনীতি করে?”

আওয়ামী লীগ মতায় এসে জঙ্গিবাদের তালিকা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে উন্নয়নের রোল মডেল করেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।  তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ মতায় এলে এ দেশের মানুষ কিছু পায়। তারা বাঁচতে শেখে। আর বিএনপি-জামায়াত মতায় এসে মানিলন্ডারিং, ঘুষ-দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদিতা করে।”
প্রধানমন্ত্রী আরোও বলেন, “বিএনপির নেত্রী বলেছেন, আমি কখনো প্রধানমন্ত্রী হতে পারব না। আওয়ামী লীগ মতায় আসতে পারবে না। কিন্তু আলাহর মাইর দুনিয়ার বাইর। রাখে আলাহ মারে কে।”

বিরোধী দলীয় নেত্রী ঢাকাবাসীকে ডাকার পরও সাড়া না পেয়ে অবলা গরু পর্যন্ত পুড়িয়ে মারে। বাসে পেট্রোল বোমা মেরে বাস চালক ও যাত্রীদের পুড়িয়ে মারে।
দেশের লবণ চাষীদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অধিক লবণের বাম্পার ফলনেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লবন চাষীদের একটু কষ্ট হচ্ছে। তারা যেন উপযুক্ত দাম পায় সেজন্য সুপরিকল্পিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাংলাদেশের মানুষ কুড়ে ঘরে থাকবে না। অন্তত পে টিনের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করবো। বিএনপি যখন মতায় এসেছিল তখন কক্সবাজারের ২০ হাজার একর ও কুতুবদিয়ার ২শ’ শতক জমি দখল করে নিয়েছিল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।