রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeজেলাভোলা লালমোহনে যুগের পরিক্রমায় দারিদ্র জয়ী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান

ভোলা লালমোহনে যুগের পরিক্রমায় দারিদ্র জয়ী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান

ভোলার লালমোহনে ১যুগের ব্যবধানে প্রশিক্ষন ছাড়াই ১শত মুরগি দিয়ে খামারী হিসেবে পথ চলা সফল ব্যবসায়ি মামুনের। প্রথম যাত্রায় ১ মাসের পরিশ্রমে ৬ হাজার টাকা লাভবান হওয়ার মধ্যে দিয়ে ব্যবসায়িকভাবে সাফল্যের আলো দেখেন আব্দুল্যাহ আল মামুন। এ যেন দারিদ্র জয় করার মডেল হিসেবে পথ পাড়ি দেয়া শুরুর প্রথম সোপানে মামুন। পৌর শহর থেকে ৫ কিঃমিঃ দুরত্বে সদর ইউনিয়নের পেশকার হাওলা গ্রামের নিরব বিপ্লব ঘটানোর অপেক্ষায় তানজিলা পল্ট্রী ফার্ম।

২০০০ সালে বেকারত্বতার অভিশাপ থেকে নিজের জীবন ও সামাজিকভাবে দায়বদ্বতা এড়াতে শুরু করা ফার্মে এখন মুরগীর সংখ্যা গড়ে ৩ হাজার। প্রতিবছর এ ফার্মের মালিক মামুনের আয় কয়েক লক্ষ টাকা। জীবন চলার পথে নানা চড়াই উৎড়াই পার করে অথৈয় সমুদ্র পাড়ি দেওয়া মামুনের ফার্মটি উদাহরন সৃষ্টি করেছে। শুধু মুরগী বিক্রিই নয় এ খামারেই বিক্রি হয় মুরগির ডিম। পরিত্যক্ত বিষ্টা দিয়ে জৈব সার তৈরির জন্য মামুনের ফার্মটি অনেকাংশে ভুমিকা রাখছে। উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন এলাকার মুরগি ব্যবসায়িদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরবারাহ করার পাশাপাশি নিজেও খামারে বিক্রি করেন।

জানা গেছে, লালমোহন সদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের হাজি আঃ মান্নানের বাড়ির তরুন এ বেকারত্বহীনতার প্রদর্শক আব্দুলাহ আল মামুন। বাবা হাজী আব্দুল মান্নানের জীবনেও যুদ্ধের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। ৭১’র রনাঙ্গনে যুদ্ধজয়ী আঃ মান্নানের একমাত্র পুত্র সন্তান মামুন শুরু থেকেই কর্মঠ। ১৯৯৩ সালে এসএসসির সাফল্য নিয়ে স্কুলের গন্ডি পেরুনের পর জীবিকার তারনায় ঢাকায় গিয়ে ৩ বছর একটি জেনারেল ষ্টোরে কাজ করেন।
কিন্তু নিজ জন্মভুমির মায়া ছাড়তে না পারা মামুন ফিরে আসেন এলাকায়। লালমোহনে ফিরে জীবন-জীবিকার সেই থাবা থেকে বাঁচতে কাজ নেন বিসিক করপোরেশনে। এই প্রতিষ্ঠানে ৬ বছর চাকুরীর সুবাদে মামুনের জেলা শহরে পরিচয় ঘটে কামরুজ্জামান নামে এক কর্মকর্তার। ওই কর্মকর্তার পল্ট্রি ফার্মটি মুলত সাফল্যে গাথা মামুনের অনুপ্রেরনার উৎস। শুরু হয় সাফল্যের পেছনে ছুটে চলা কর্মঠ মামুনের উত্তর উত্তর সমৃদ্ধি।
১ মাসে ৬ হাজার টাকা লাভ হওয়ার উৎসাহে ২০০৪ সালের প্রথম দিকে ১৫০ মুরগী নিয়ে সেড বানিয়ে ১০ হাজার টাকার ঘর তৈরি করে মাত্র ৩০ হাজার টাকা পুজি নিয়ে পথ চলা এই পল্ট্রি ব্যবসায়ি বর্তমানে লেয়ারের (ডিম পাড়া) ১১শত মুরগি ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঘরেই পালন করেন মামুন। এতে তার রাত পেরুলে ৭ থেকে ৯শত ডিম আসে। এছাড়া ২ হাজার বয়লার মুরগী পালনে ঘর উত্তোলনে ব্যয় করেন আরো প্রায় ২ লক্ষ টাকা। মুরগি, ডিম, বিষ্টা বিক্রিতে ২০১২ সালে ব্রাক ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া মামুনের বাৎসরিক আয় খরচ মিটিয়ে প্রায় সমপরিমান।
সাফল্যে নিয়ে পথ চলা ব্যবসায়ি আব্দুল্যাহ আল মামুন জানান, জীবনের অনেক কষ্টার্জিত পথ পাড়ি দিয়ে আজ আমি স্বাভলম্বি। তবে এ সব কিছুর পেছনে ছিল আমার ও পরিবারের কঠোর পরিশ্রম। আমার মা, বাবা, স্ত্রী ও দুই কর্মচারী মিলেই তানজিলা পল্ট্রির পথচলা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments