ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যায়ে মাঠে নামছে গত আসরের রানার্স আপ বাংলাদেশ

গত এশিয়া কাপের আসরে ফাইনালে খেলা দল স্বাগতিক বাংলাদেশ। অথচ এবারের আসরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সে দেশটিকে যারা গত আসরের রানার্স আপ। যে দলটি নিজেদের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছে। গত বছর এশিয়া কাপে দেখিয়েছে নজরকাড়া পারফরমেন্স। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে কোনো জয় না পাওয়া বাংলাদেশ ব্যর্থতা অব্যাহত রেখেছে এশিয়া কাপেও।

উপ-মহাদেশের বিশ্বকাপ খ্যাত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হারের পর টুর্নামেন্টের নবাগত যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের কাছেও হারের লজ্জা পেয়েছে মুশফিকরা।

পরপর দুই ম্যাচে হারের কারণে ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে ফাইনালে খেলার আশা শেষ হয়ে গেছে স্বাগতিকদের। এখন তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের বিপক্ষে অন্তত একটি জয় নিয়ে সেই লজ্জার জায়গাটিতে সান্ত্বনার পরশ বুলাতে চায় মুশফিক-সাকিবরা। আগের আসরে পাকিস্তানের কাছেই হেরেই প্রথমবারের মত শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই পাকিস্তানিদের হারাতে পারলে সান্ত্বনা তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে থাকছে মধুর একটি প্রতিশোধের হাতছানি।

এদিকে বাংলাদেশ শিবিরের যখন এমনই একটি চিন্তা-ভাবনা তখন পাকিস্তানের ভাবনায় অন্য কিছু। সেটি হচ্ছে এই ম্যাচটি দিয়েই ফাইনাল নিশ্চিত করতে চায় তারা। কারণ রোববার রাতে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় মাত্র এক উইকেটে ভারতীয়দের বিপক্ষে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ফলে এই মুহূর্তে তাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়ে গেছে অনেকখানি। টুর্ণামেন্টে দুই ম্যাচে (আফগানিস্তান ও ভারত) জয় পাওয়ার ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় মানেই ফাইনাল নিশ্চিত হওয়া। বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন পাকিস্তানিরা। তাই আত্মবিশ্বাসী দলটি এখন ফাইনাল খেলার মোহে আবিষ্ট। শ্রীলংকার কাছে ১২ রানে হেরেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

অপরদিকে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে হারানোর পর আবারো সেই পরাজয়ের ধারায় তলিয়ে গেছে ভারত। কারণ পরপর দুই ম্যাচেই হারের স্বাদ পেয়েছে তারা। এখন পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একটি জয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ পেতে পারে তারা। সে ক্ষেত্রে শ্রীলংকারও পরবর্তী দুই ম্যাচে হারতে হবে যথাক্রমে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের কাছে। সেই সঙ্গে বোনাস পয়েন্ট নিয়ে জয় পেতে হবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। অন্যথায় বলতে গেলে এশিয়া কাপের ফাইনালে যাওয়া অধরাই থেকে যাবে ভারতের।

পাকিস্তানের বিপক্ষে যে বাংলাদেশের জয়ের নজির নেই তা বলা যাবে না। তবে সর্বশেষ সফলতাটি বেশ ফিকে হয়ে গেছে। কারণ প্রায় এক যুগেরও বেশি আগে পাকিস্তানিদের বিপক্ষে জয়লাভ করেছিল বাংলাদেশ। সেটি ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্বকাপে। এখন দীর্ঘ বিরতির পর পাক দলটির বিপক্ষে একটি জয় বাংলাদেশ দলকে ফিরে দিতে পারে হারানো গৌরব। যেটি তারা খুইয়েছে গত শনিবার আফগানিস্তানের কাছে হারের মধ্য দিয়ে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের এখন অনুপ্রেরণা যদি বলা যায় তাহলে সেটি হচ্ছে বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দলে প্রত্যাবর্তন। শ্রীলংকার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ চলাকালে অশোভন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনের দায়ে তিন ম্যাচের জন্য তাকে নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

এদিকে বর্তমানে যে বাংলাদেশ দলের মনোবল অনেকখানি ভেঙে পড়েছে সেটি অকপটেই স্বীকার করে নিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিকে চ্যালেঞ্জের একটি ম্যাচ বলেই মনে করছেন তিনি। মুশফিক বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যে জায়গায় আছি তাতে পাকিস্তান কেনো, যে কোন দলের সঙ্গেই খেলা আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জের। আমাদের ২০০% চেষ্টা করা উচিত। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কালকেও আমাদের আরেকটা সুযোগ দেখানোর আছে। যাতে আমরা প্রমাণ করতে পারি যে, প্রথম ম্যাচটা ভালো খেলেছিলাম কিন্তু শেষ ম্যাচটা ভালো খেলতে পারিনি। খুব বাজে দিন ছিলো আমাদের ক্রিকেটের জন্য। এরপর প্রস্তুতি নিতে আমরা দু’টি দিন হাতে পেয়েছি। এখন পরবর্তী দু’টি ম্যাচে যদি আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলতে পারি অন্তত সবাই বুঝতে পারবে যে আসলেই দিনটি খারাপ ছিল।

মঙ্গলবারের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের অনুপ্রেরণার জায়গাটি হচ্ছে দলটির বিপক্ষে সর্বশেষ দু’টি ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও সেগুলো ছিল খুবই ক্লোজ।

রোববার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে পাকিস্তান এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেছে। মোহাম্মদ হাফিজ ওই ম্যাচে সর্বাধিক রান সংগ্রহ করেছে যা অধিনায়ক মিসবাহ উল হকের জন্য ভালো খবর। বল হাতেও তিনি সহায়তা করেছেন দলকে।পরপর দুই দফা রান আউটের শিকার হওয়া মিসবাহ এবার সৌভাগ্য লাভের প্রত্যাশা করছেন এবং মনোবলহীন স্বাগতিক দলের বিপক্ষে নিজেও দলের হয়ে কিছু করার পরিকল্পনা করছেন। এদিন পাকিস্তান দলের বোলিং আক্রমণের অগ্রভাগে থাকবেন পেসার উমর গুল এবং স্পিনার সাইদ আজমল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।