সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
spot_img
Homeজেলাহায় হায় প্রতিষ্ঠান রায়পুরে গ্রাহকদের মাথায় হাত

হায় হায় প্রতিষ্ঠান রায়পুরে গ্রাহকদের মাথায় হাত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সেবা বন্ধন কল্যাণ সোসাইটি (সেবক), কারিমিয়া কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ও শাপলা মাল্টিপারপাস। এসব হায় হায় প্রতিষ্ঠানের খপ্পরে পড়ে গ্রাহকদের এখন মাথায় হাত। প্রতি লাখে মাসে দুই হাজার টাকা লাভের প্রলোভন দেখানো হয়। প্রলোভনে পড়ে অনেকেই ব্যাংকে জমা করা টাকা তুলে, জমি-সোনা বিক্রি করে জমা রাখেন। কিন্তু ছয় মাস ধরে গ্রাহকদের লাভের টাকা দেয়া হচ্ছে না। আর মূল টাকা চেয়েও পাচ্ছেন না তারা।
১০ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাপলা মাল্টিপারপাসের কার্যালয়ের সামনে ১৫ থেকে ১৬ জন আমানতকারী জড়ো হন। এ সময় কার্যালয় তালাবদ্ধ দেখে তারা ুব্ধ হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 
প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান মো. কামাল হোসাইন সাড়ে তিন কোটির বেশি টাকা আত্মসাত করে আত্মগোপন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেবক ও কারিমিয়া কমাসের্র কার্যক্রম ছয় মাস আগে বন্ধ হয়ে গেছে। শাপলা মাল্টিপারপাসের কার্যালয়ও অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে।

 
জানা গেছে, সেবক ও কারিমিয়া কমার্স প্রায় পাঁচ বছর আগে শহরের লেংলা বাজারে শাখা কার্যালয় খোলে। তারা লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে স্থায়ী আমানত সংগ্রহ শুরু করে। এক বছর পর শাপলা মাল্টিপারপাস নামে আরও একটি কার্যালয় খোলা হয়। এ কার্যালয়েও একইভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে স্থায়ী আমানত সংগ্রহ করা হয়।

 
সেবকের কয়েকজন কর্মচারী জানান, গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে তারা শাখার প্রধান কামাল হোসাইনের কাছে দিতেন। মাসের ৪ থেকে ৫ তারিখে গ্রাহকদের মাসিক লাভের দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে দেয়া হতো। ছয় মাস ধরে গ্রাহকদের লাভের টাকা দেয়া বন্ধ রয়েছে। আর কামাল হোসাইন চলে গেছেন ঢাকায়। গ্রাহকরা প্রতিদিন টাকার জন্য তাদের বাড়ি আসছেন। ঢাকায় গিয়ে কামালের সঙ্গে এ নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করা হয়। তিনি টাকা দেই-দিচ্ছি করে ছয় মাস ধরে তাদের ঘুরাচ্ছেন।

 
সূত্র জানায়, মাসিক লভ্যাংশের ভিত্তিতে পাঁচ শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা আমানত হিসেবে নেয়া হয়। এর মধ্যে আবদুল মান্নানের ৩৫ লাখ টাকা, শহিদ উল্যার পাঁচ লাখ টাকা ও ফিরোজ আলমের দুই লাখ টাকা রয়েছে।

 
জানতে চাইলে শহিদ উল্যা বলেন, ‘আমার অবসর ভাতার টাকা এনে কারিমিয়ায় রাখি। টাকার জন্য প্রতিদিন আসছি। কিন্তু লাভ ও মূল টাকা কোনোটাই দিচ্ছে না।’
আমানতকারী ফিরোজ আলম জানান, তিনি জমি বিক্রি করে দুই লাখ টাকা জমা রাখেন। পাঁচ-ছয় মাস পর এসে লভ্যাংশের টাকা নেন। কিন্তু এ মাসে এসে শুনতে পাই কামাল টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন।
এ ব্যাপারে কথা বলতে একাধিকবার কামাল হোসাইনের মুঠোফোনে ফোন করলেও তিনি ধরেননি। তবে তার বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কামাল গ্রাহকের কোনো টাকা মেরে খাননি। টাকাগুলো সেবক ও কারিমিয়ার ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। তারা এখন টাকা ফেরত দিচ্ছে না। এ জন্য কামাল সংস্থার প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আমরা গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করছি।’

 
রায়পুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা তপন চক্রবর্তী বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। প্রতারিত গ্রাহকেরা অভিযোগ করলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তা ছাড়া আইন অনুযায়ী কোনো মাল্টিপারপাস কোম্পানি মাসিক লভ্যাংশের ভিত্তিতে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিতে পারে না।’ টাকা জমা করার সময় গ্রাহককে দেয়া রসিদে ঢাকায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments