সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
spot_img
Homeউপজেলারায়পুরে একদিকে ভাঙ্গছে নদী অন্যদিকে চলছে বালু উত্তোলন

রায়পুরে একদিকে ভাঙ্গছে নদী অন্যদিকে চলছে বালু উত্তোলন

গত ১৫দিন ধরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নের বেড়ি বাঁেধর পাশ ঘেঁেষ বয়ে যাওয়া মেঘনা নদীতে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। একদিকে ভাঙ্গছে নদী অন্য দিকে চলছে দুই দস্যুর বালু উত্তোলন। এতে বেড়ি বাঁধসহ আশপাশের ফসলী জমিও ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
আ’লীগের নামধারী দুই প্রভাবশী মোতালেব হোসেন বেপারী ছৈয়ালহাট এলাকায় ও নেকমত বেপারী পানির ঘাট এলাকা থেকে  বালু উত্তোলনই নয় তারা প্লট তৈরী করে তাতে বালু ভরাট করে ট্রলার ও ইঞ্জিন চালিত পাহাড় ট্রলিতে করে এসব বালু বিক্রি করছে মহা উৎসবে। এতে করে পরিবেশ বিপর্যয়সহ নদীর দু’পাশ ভাঙ্গতে শুরু করেছে। যে কোন সময় নিরিহ মানুষের বসত ঘরসহ ফসলী জমি তলিয়ে যেতে পারে। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ ও ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সরজমিনে  গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মোতালেব হোসেন নামের এক আ’লীগনেতা ছৈয়াল হাট নামক স্থানে অন্যের তৈরী করা প্লটে বালু উত্তোলন করে ভরাট করে তা বিক্রি করছেন। তার এককিলোমিটার দুরত্বে পানির ঘাট এলাকা নামক স্থানে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন আরেক আ’লীগ নেতা নেকমত বেপারী। তিনি গত ১৫ দিন ধরে এ বালু উত্তোলন করে দুই শতাংস জায়গায় একটি পুকুর ভরাট করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, এ বালু উত্তোলনের সময় বাধা দেয়া হয়েছিল এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়। এখন পর্যন্ত কোন কর্মকর্তা এসে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে নিজেকে আ’লীগ নেতা ও জেলেদের নেতা দাবি করে মোঃ নেকমত বেপারী বলেন,ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার  অনুমতি নিয়ে নদীতে তলিয়ে যাওয়া আমার জমি থেকে বালু উত্তোলন করছি। আরও দুই দিন উত্তোলন করে বন্ধ করে দেয়া হবে। অপর আ’লীগ নেতা মোতালেব হোসেন বলেন, এব্যপারে আপনি আ’লীগ নেতাদের  ও ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করেন এবং এখন ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেন।
৮নং দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হাওলাদার ও তহসিলদার আব্দুর রহিম বলেন, এব্যাপারে আমরা কিছুই জানিনা। খোঁজ খবর নিয়ে দেখব।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ( পাউবো) উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফউজ্জামান মোবাইল ফোনে জানান, তিনিও কাজে ব্যস্ত আছেন। রায়পুরের দায়িত্বে থাকা এসও মোঃ আবু হানিফকে পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আলম জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা জঘন্য অপরাধ। কয়েকদিন আগে ডাকাতিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য একজনকে ৫০হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও দুটি ড্রেজার মেশিন জব্ধ করা হয়েছে। মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে লোক পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিচ্ছি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments