সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
spot_img
Homeজাতীয়‘প্রশ্নবিদ্ধ’ নির্বাচনের পাঁচ ধাপেই শীর্ষে আ.লীগ

‘প্রশ্নবিদ্ধ’ নির্বাচনের পাঁচ ধাপেই শীর্ষে আ.লীগ

প্রায় দেড় মাস ধরে পাঁচ ধাপে মোট ৪৫৯টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়েছে। এতে প্রথম দুদফায় বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

তবে শেষ তিন ধাপে আওয়ামী লীগ ব্যাপক কারচুপি আর সহিংসতার মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধান গড়ে জয় তুলে নিয়েছে।

দেখা গেছে, ৪৫৯ উপজেলায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিতরা ২২১টিতে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছে। তাদের সরকারের অংশ এবং বিরোধী দল এরশাদের জাতীয় পার্টি ৩টি উপজেলায় জয় পেয়েছে।

বিপরীতে বিএনপি ১৫৩ এবং তাদের জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী ৩৩টি উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। অন্যান্যরা ৪১টি এবং ৫টি উপজেলা স্থগিত রয়েছে।

পাঁচ দফা উপজেলা নির্বাচন শেষে ভাইস চেয়ারম্যান পদেও এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারা মোট ৩৪১টি ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ১৬৭ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ১৭৪।

বিপরীতে বিএনপি ২৯৩টি ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছে। এদের মধ্যে পুরুষ ১০৮ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন ১৮৫ জন।

আর জামায়াতে ইসলামী মোট ১৫টি ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয় লাভ করেছে। এদের মধ্যে ১১৭ জন পুরুষ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন ৩৪ জন।

এছাড়া এরশাদের জাতীয় পার্টি ৯টি (পুরুষ ৬, মহিলা ৩), অন্যান্য ১০৯ (পুরুষ ৫১, মহিলা ৫৮) এবং স্থগিত রয়েছে ১৫টি (পুরুষ ১০, মহিলা ৫)।

পাঁচ ধাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৩০৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। আর বিএনপির ছিল ২৫৩ জন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১০ জন এবং বিএনপির ৭ জন বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপে ৯৭টি উপজেলা দিয়ে নির্বাচন শুরু হয়। আর ৩১ মার্চ পঞ্চম ধাপে ৭৩ উপজেলা দিয়ে নির্বাচন শেষ হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বাকি উপজেলাগুলোর নির্বাচন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার পরে অনুষ্ঠিত হবে।

১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপে ৯৭টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৩৪, বিএনপি ৪৩, জামায়াতে ইসলামী ১৩টি এবং এরশাদের জাতীয় পার্টি মাত্র একটি উপজেলায় জয় পায়।

এ দফায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ (পুরুষ) ২৪, বিএনপি ৩২ এবং জামায়াতে ইসলামী ২৩টিতে জয় পেয়েছে। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ৩৪টি করে এবং জামায়াত জামায়াত ১০টিতে জয় পায়।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১১৫ উপজেলায় ভোট হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি। এবারও এগিয়ে থাকে বিএনপি। তারা ৫১টিতে চেয়ারম্যান পদে জয় তুলে নেয়। আওয়ামী লীগ ৪৫, জামায়াত ৮ এবং জাতীয় পার্টি একটিতে বিজয়ী হয়।

এ ধাপে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে ছাড়িয়ে যায় জামায়াতে ইসলামী। পুরুষ পদে জামায়াত ৩০ এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- সমর্থিত প্রার্থীরা ২৮টি করে উপজেলায় জয় পায়। আর জাতীয় পার্টি পেয়েছে মাত্র দুটিতে।

দ্বিতীয় ধাপে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি ৪৪, আওয়ামী লীগ ২৬, জামায়াত ৯ এবং জাতীয় পার্টি ২টিতে জয়ী হয়।

প্রথম দুই ধাপে খারাপ করার পর টনক নড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। তৃতীয় দফায় এসে তারা ১৫ মার্চ ৮১টি উপজেলার বেশিরভাগ জায়গায় চড়াও হয়। প্রতিপক্ষের প্রার্থীদের ওপর একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদে ৪০টিতে জয় তুলে নেয়। বিএনপি জয় পায় ২৭টিতে। আর জামায়াতে ইসলামী ৮টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়। এ ধাপে বর্তমান সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি কোন উপজেলাতেই চেয়ারম্যান পদে জিততে পারেনি।

এ দফায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ৫৬টি (পুরুষ ২৯, মহিলা ২৭), বিএনপি ৫৮টিতে (পুরুষ ১৯, মহিলা ৩৯) জয় পায়। আর জামায়াতে ইসলামী ২৯টিতে (পুরুষ ২৪, মহিলা ৫) ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয় নিশ্চিত করে।

এরপর ২৩ মার্চ চতুর্থ ধাপের ৯১টি উপজেলা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ তাদের দখলদারিত্ব আরও শক্ত করে। সারা দেশে নজিরবিহীন ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল আর সহিংসতা করে। এতে ভোটের দিন সারা দেশে ৪ জন এবং পরে আরও ২ জন নিহত হয়।

৮৮টির ফলাফলে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ- সমর্থিত প্রার্থী ৫৩টি, বিএনপি ২৫টি, জামায়াত ৫টি এবং জাতীয় পার্টি একটিতে জয়লাভ করে। কক্সবাজারের কতুবদিয়া, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এবং পটুয়াখালীর দুমকী স্থগিত হয়।

এ দফায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ৩৫, বিএনপি ১৪ এবং জামায়াতে ইসলামী ২৭টিতে জয় পেয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা ৩টি এবং এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টি ২টি পদে জয়ী হয়েছেন। চারটির ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ সোমবার পঞ্চম ধাপে ৭৩ উপজেলায় ভোট হয়। এখানেও আওয়ামী লীগ ভোট কারচুপিতে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে। মোট ৭৩ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ৫৩, বিএনপি ১৪ আর জামায়াত ৩টিতে বিজয়ী হয়।

‘প্রশ্নবিদ্ধ’ এ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ- সমর্থিত ৮৫ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ এবং ৪২ নারী প্রার্থী রয়েছেন। জামায়াত ২২টি ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে ১৭ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন। বিএনপির ২০ জন ভাইস চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ আর ১৬ জন নারী।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বাকি ১৫-২০টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর।

গ্রাফিক্স: প্রথম আলোর সৌজন্যে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments