কক্সবাজারে শীর্ষ তালিকাভুক্ত ২ ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক

স্বররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসাইন টিটু ও সৈয়দ করিম বিপুল ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। ৮ এপ্রিল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক রাজু আহমদের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স শহরের কলাতলীস্থ সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে।

সুত্রে প্রকাশ, স্বররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ তালিকাভুক্ত মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গডফাদার টেকনাফ উপজেলার অলিয়াবাদ শাপলা চত্বর এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসাইন টিটু অপর ইয়াবা ব্যবসায়ী কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা সৈয়দ করিম গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় একটি ফালসার মটর সাইকেল যোগে টেকনাফ থেকে ৩০ হাজার ইয়াবা নিয়ে  শহরে প্রবেশকালে কলাতলী এলাকায় এসে পৌঁছালে মডেল থানার এসআই রাজুর নজরে পড়ে।

ওই সুত্রে গত ৮ এপ্রিল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শহরের কলাতলীস্থ সুগন্ধা পয়েন্টে অভিযান চালানো হয়। এতে প্রায় ৩০ হাজার ইয়াবাসহ ওই ২ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। এব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক রাজু আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ দেলোয়ার হোসাইন টিটু অপর সৈয়দ করিম নামের ২ যুবককে আটক করা হয়েছে। মডেল থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, টেকনাফের ২ ইয়াবা ব্যবসায়ী ইয়াবাসহ আটক হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত আটক ইয়াবা ব্যবসায়ীদেরকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে একটি পক্ষ দাবী করছেন, ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় টিটু-সৈয়দ মোটর সাইকেল যোগে শহরের কলাতলী সু-গন্ধা পয়েন্ট দিয়ে সাগর পাড়ের দিকে যাচ্ছিল। তাদের পিছনে ছিল সদর মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক রাজু আহমদ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছু দোকনদার, গাড়ী চালক জানিয়েছেন উপ-পুলিশ পরিদর্শক রাজু আহমদ এসে ওই ২ জনকে সৈকত পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে যায়। তাদের কাছে ছিল ইয়াবা’র প্যাকেট কিছু ৫০০ টাকার বান্ডল।

টেকনাফের এক সংবাদকর্মী জানিয়েছেন এসআই রাজু আহমদ বিগত দিনে টেকনাফে কর্মরত থাকাকালে টিটুর যাবতীয় ইয়াবা ব্যবসার কর্ম-পরিধি জানতেন। সে-সুবাদে গত ৭ এপ্রিলের ঘটনাকে তেলাসমাতি দেখিয়ে ৯ এপ্রিল দেখানো হয়েছে। এতে তিনি কক্সবাজার সদর মডেল থানার সাহসিকতার অন্যান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সাংবাদিক সুত্রে জানা গেছে, ৮ এপ্রিল শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী টিটু আটক হওয়া খবরটি বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়লে তোপের মুখে পড়ে অভিযানকারী এসআই রাজু। তিনি সরাসরি সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি কোন ইয়াবা’র আসামী আটক করেনি। অথচ তখন আটককৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সৈকত পুলিশ ফাঁড়িতে এসআই’র হেফাজতেই ছিল। জানা গেছে, টেকনাফ থেকে টিটুর ২ আপনজন কক্সবাজারে এসে এসআই রাজুর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে। এতে রাজু দাবী করেছিল ২০ লক্ষ টাকা, না হয় ক্রসফায়ার হবে। তবে তারা বলছেন এসআই রাজু আহমদ আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন শুধু ক্রসফায়ার না দেওয়ার জন্য হালকা একটি মামলা দিয়ে চালান দেবেন।

এদিকে কক্সবাজারে ইয়াবা ব্যবসায়ী টিটুর ২ আপনজন সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন টিটু এবং সৈয়দ করিমের সাথে ৩০ হাজার ইয়াবা, ৩ লক্ষাধিক টাকা ছিল। কিন্তু রাজু আহমদ তাদের ধরার পর ওই টাকা ইয়াবা গুম হয়ে কোথায় গেল? পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফাইল আহমদের কাছে জানিয়ে দেয়। অবশেষে ৯ এপ্রিল সকালে ৫০০ ইয়াবা দেখিয়ে তাদের ২জনকে আটক দেখায়। পরে মাদক মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করে।

এব্যাপারে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার আজাদ মিয়া জানিয়েছেন টিটু স্বররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ তালিকাভুক্ত এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই উঠেনা । তবে ৩০ হাজার ইয়াবা’র মধ্যে ৫০০ দিয়ে মামলা দায়ের বিষয়টি কেউ পরিস্কারভাবে বলেন নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।