৫৫০ কিউসেক: তিস্তায় এযাবৎকালের সর্বনিম্ন পানি প্রবাহ

বাংলাদেশের দুটি বামপন্থী দল তিস্তা নদীর পানির দাবিতে তিস্তা ব্যারেজের পাশে সমাবেশের মাধ্যমে তাদের লংমার্চ কর্মসূচি শেষ করেছে।

দুদিন পরই অন্যতম একটি প্রধান দল বিএনপির তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি রয়েছে।

এদিকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন। তারা এটাকে একটা সংকট হিসেবে বর্ণনা করছেন।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের একজন সদস্য মীর সাজ্জাদ হোসেন জানান, সাধারণত আগে তিস্তা নদীতে এ সময়টায় ৩০০০ কিউসেক পানির প্রবাহ থাকতো। এবার শুস্ক মৌসুমে তা নেমে এসেছিল ৫৫০ কিউসেকে।

এটা ছিল তিস্তায় এযাবৎকালের সর্বনিম্ন প্রবাহ।

তবে সম্প্রতি কিছুটা বৃষ্টির কারণে তা কিছুটা বেড়েছে।
এর প্রভাবে উত্তরের ঐ অঞ্চলে বোরো চাষে মারাত্নক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং কৃষকরা সেচের পানি ভয়াবহ সমস্যায় পড়েছেন বলে স্থানীয়রা বলছেন।

তিস্তা নদীর সেচ প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল নীলফামারী,লারমনিরহাট এবং রংপুর, উত্তরের এই তিনটি জেলার কৃষকরা এবার বোরো মৌসুমে বিপাকে পড়েছেন। কারণ নদীতে পানি নেই।

তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে যারা চাষাবাদ করে আসছেন, তারা অগভীর নলকূপ দিয়ে বা অন্য কোন উপায়ে পানি নেয়ার ব্যবস্থা রাখেননি। ফলে কৃষকদের আরো সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

নীলফামারীর ডালিয়া উপজেলার নাউতারা গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান এবার পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন।

তিনি বলছিলেন, ‘পানির অভাবে জমি ফেটে করুণ অবস্থা দাঁড়িয়েছে। এখন আমাদের কান্না ছাড়া কিছু নেই।এখন নতুন করে শ্যালো মেশিন এবং এর জন্য তেল কিনতে হচ্ছে। আর সেকারণে আমরা অনেকে হালে গরু, ছাগল বা বউয়ের গয়না বিক্রি করছি।’

একই এলাকার আরেক কৃষক লুৎফুজ্জামান বেলাল বোরো আবাদ করেছেন বিশ বিঘা জমিতে। একটু স্বচ্ছল হলেও তাকেও সেচের জন্য অর্থ যোগাড়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, কিছু সংখ্যক কৃষককে তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় পানি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই পানি সপ্তাহে একদিন পাওয়া যায়। ফলে বিকল্প ব্যবস্থায় পানি উঠাতে খরচ বেশি পড়ছে।

তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় এবার বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা যা ধরা হয়েছিল, তা অর্জন সম্ভব নয়। সেখানে চেষ্টা করা হচ্ছে মাত্র এক তৃতীয়াংশের মতো জমিতে চাষ করার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘এবার প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষে তিস্তা থেকে সেচের পানি দেওয়ার টার্গেট নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে পানি দেয়া সম্ভব হচ্ছে। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে পানি কম থাকে, এরপর মার্চে পানি বাড়তে থাকে। এবার এপ্র্র্র্রিলের ১৩ তারিখ পর্যন্তই লম্বা সময় ধরে পানি সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।’

তিস্তা নদীর পানির দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচি নিচ্ছে। কমিউনিস্ট পার্টি এবং বাসদ তিন দিন ধরে ঢাকা থেকে লংমার্চ করে তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাছে সমাবেশ করেছে।

কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মঞ্জুরুল আহসান খান বলেছেন, ভারত তিস্তা নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে উত্তরের জেলাগুলোকে মরুভূমি বানাতে চাইছে। এর জন্য বাংলাদেশের সরকারগুলোর নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দায়ী বলে তিনি মনে করেন।

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।