রবিবার, নভেম্বর 28, 2021
রবিবার, নভেম্বর 28, 2021
রবিবার, নভেম্বর 28, 2021
spot_img
Homeজাতীয় রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিটিসিএলে ২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে: টিআইবি

রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিটিসিএলে ২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিটিসিএলে ২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।

টিআইবি জানায়, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডে (বিটিসিএল) আন্তর্জাতিক কল আদান প্রদানে ৫০০ কোটি টাকা এবং কল রেকর্ড টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে ১৫০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে টিআইবি আয়োজিত ‘বিটিসিএল: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার দিপু রায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিটিসিএলকে কোম্পানি ঘোষণা করা হলেও সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি কোম্পানির মত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না।

এটি এখন সরকারি প্রতিষ্ঠানও নয়, আবার পূর্ণাঙ্গ বেসরকারিও নয়। অব্যাহত অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন মৃত প্রায় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুরোপুরি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর না করায় দুর্নীতির আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে বিটিসিএল।

তিনি বলেন, সরকারের যুক্তি ছিল, বিটিসিএল বেসরকারিকরণ হলে অধিকতর দক্ষ ও মুনাফাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। কিন্তু বেসরকারিকরণ করা হলেও এটি সরকারের যথাযথ কর্মপরিকল্পনার অভাবে একটি অকার্যকর ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

ইফতেখার বলেন, সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ও কৌশল প্রণয়ন করে বিটিসিএলের বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

এ সময় টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম. হাফিজউদ্দিন খান বলেন, বিটিসিএলকে কোম্পানিতে পরিণত করার পর প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নের বদলে নিম্নগামী হয়েছে।

তিনি বলেন, কোম্পানিতে পরিবর্তন করে শুধু লাভ নয় বরং গ্রাহক সন্তুষ্টি এবং সেবার মান উন্নয়নে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত জরুরি।

এতে বলা হয়, বিটিসিএল পলিসি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কল আদান প্রদানের জন্য বিদেশি ক্যারিয়ারগুলোর কাছ থেকে জামানত হিসেবে মূল্য পরিশোধের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি নেওয়া হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিসিএলের আন্তর্জাতিক শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেরাই বিদেশি কোম্পানি সেজে দেশে বসে এ ব্যবসা পরিচালনা করে।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে ২৫টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়া হয়। যার মধ্যে ১০টি কোম্পানিই ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপির আত্মীয়-স্বজনেরা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিটিসিএলের আন্তর্জাতিক কর্মকর্তাদের কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ দেখিয়ে ফোন কলের রেকর্ড টেম্পারিং চালু করা হয়। অথচ ২০১১ থেকে ১২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কলের কোন রেকর্ডই পাওয়া যাচ্ছে না। এ সময়ের মধ্যে দিনে কত মিনিট বিদেশি কল আদান প্রদান হয়েছে তারও কোন হদিস নেই।

কল টেম্পারিংয়ের সঙ্গে বিটিসিএলের কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের যোগ সাজসের অভিযোগ করে টিআইবি জানায়, ২০১১ সালে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন মিনিট অন্তর্জাতিক কল আসলেও দেখানো হয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন মিনিট।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- টিআইবির উপনির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক রফিকুল হাসান প্রমুখ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments