সেশনজট ; স্বপ্নভঙ্গের প্রথম ধাপ

We,the student; blood of the nation.  সেই ছোটবেলা থেকেই মা-বাবা,ভাই-বোন ও বড়দের অনুপ্রেরণায় আমাদের স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। একজন ছাত্র মানে – একটা পরিবারের স্বপ্ন,সমাজের স্বপ্ন,রাষ্ট্রের স্বপ্ন। সে নিজেও স্বপ্ন দেখে সুন্দর জীবন গড়ার।

আস্তে আস্তে বেড়ে ওঠা ও স্বপ্নের লালন একসাথে। মনের কোণে ভাস্বর স্বপ্নের বাস্তবতার দিকে চেয়ে থাকা। অনেক পরিশ্রম,অনেক ত্যাগ। জীবনের লক্ষ্যকে বাস্তবে মোড় ঘুরানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। অন্য রকম একটা জীবন। যেখানে আনন্দ কোনদিন ফুরায় না ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বন্ধুর মত,অনেক সময় খুব কাছের কোন বন্ধু। যাদের কাছে শাসন ও ভালবাসার একটুও কমতি নেই। আতœীয়তার এক গভীর মেল বন্ধন  বিশ্ববিদ্যালয় । আমি মনে করি,জীবনের কয়েকটা বড় সফলতার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে (অবশ্যই সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হতে পারাটা অনেক বড় একটা সফলতা,যা জীবনের জন্য স্মরণীয়।

দিন যায়,রাত আসে। আর আমাদের লালিত স্বপ্নগুলো চোখের সামনে বারবার ভেসে ওঠে। ঘুমানোর আগে সেই স্বপ্নের কথা মনে পড়ে, ঘুম থেকে জাগার পরও সেই স্বপ্নেরই মৃদু ছায়া দেখতে পাই।

কঠোর পরিশ্রম ও স্বপ্ন দেখা একই সাথে সমান্তরালভাবে চলতে থাকে।কিন্তু মাঝে মধ্যে আশাহত হয়ে পড়ি- কারণ সেশনজট। কবে বেরোব, কবে আমার স্বপ্ন বাস্তবে রুপ লাভ করবে?

সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে জনগণের টাকা দিয়ে। আমরা (ছাত্র-ছাত্রীরা ) দেশকে বেশী দিন সেবা দিতে চাই। আমরা জনগণের একটা টাকাও অপচয় করতে চাই না। জনগণের  ঘামে অর্জিত এই টাকার অপচয় করলে আমরা আমাদের বিবেককে কোনদিন ক্ষমা করতে পারব না। কিন্তু,  হায় বাস্তবতা ! যেই স্নাতক পর্ব শেষ হওয়ার কথা ৪ বছরে তা শেষ হয় ৫ বছর বা তারও বেশী সময় পরে।

আমরা স্বপ্নাতুর মানুষগুলো হারিয়ে ফেলি উদ্যমতা,এগিয়ে যাওয়ার অসীম ইচ্ছা । আমাদের স্বপ্ন এক বছরের জন্য থেমে থাকে। হতাশা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগে। এর মধ্যে অনেকে পথচ্যুত হয়ে যায়।

কিছুই কি করার নেই? আমরা কি তাহলে স্বপ্ন দেখব না?

আবারও আশায় বুক বাঁধলাম। কারণ আশাইতো আমাদের শেষ ভরসা। সেশনজটের কবল থেকে মুক্তি পাবে জাতির আগামী ভবিষ্যত। দেশ এগিয়ে যাবে অনেক দূর। We are waiting for these golden days.

মোফাজ্জল হোসেন
লোক প্রশাসন বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।