এই প্রথম ভারতের লোকসভায় শাসক দলে মুসলিম সাংসদ নেই!

এই প্রথম ভারতের লোকসভায় শাসক দলে কোনো মুসলিম সাংসদ নেই৷ এ থেকেই পরিষ্কার, মোদি-ঝড় বিজেপি-র মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি৷

বিজেপি এবার ৪৮২ জনকে প্রার্থী করেছিল, যার মধ্যে সাতজন মুসলিম প্রার্থী ছিলেন৷ তারা সবাই হেরেছেন৷ বিজেপি-র একমাত্র জেতা সাংসদ ছিলেন শাহনওয়াজ হুসেন৷ ১৯৯০ থেকেই বিহারের সাংসদ৷ এবারে ভাগলপুরে হেরে গিয়েছেন৷ পশ্চিমবঙ্গে বাদশা আলম দাঁড়িয়েছিলেন তমলুক থেকে মহম্মদ আলম ঘাটালে৷ পেয়েছেন যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্হান৷ জম্মু ও কাশ্মীরে তিনটি আসনে জিতেছে বিজেপি৷ কিন্তু অন্য তিন আসনে যে তিন মুসলিম প্রার্থী ছিলেন, সেই গুলাম মহম্মদ মির, ফৈয়াজ আহমেদ ভাট ও মুস্তাক আহমেদ মালিক হেরে গিয়েছেন৷ লাক্ষাদ্বীপেও হেরেছেন সাংসদ সৈয়দ মহম্মদ কোয়া৷
গোটা লোকসভাতেই মুসলিম সাংসদের হার খুব কম৷ মাত্র ২৩৷ মোট সাংসদের মাত্র ৪ শতাংশ৷ ১৯৬২-র পর এই প্রথম এত কম৷ উত্তরপ্রদেশ থেকে একজনও নেই! অথচ ২০০৪-এ এখান থেকে সাংসদ হন ১০ জন, ২০০৯-এ ৬ জন৷ পশ্চিমবঙ্গ থেকেই সবচেয়ে বেশি মুসলিম প্রার্থী সাংসদ হয়েছেন৷ যার মধ্যে আছেন তৃণমূলের চার– সুলতান আহমেদ, ইদ্রিশ আলি, অপূর্ব পোদ্দার ওরফে আফরিন আলি ও মমতাজ সঙঘমিতা্ব, কংগ্রেসের দুই– মৌসম নুর ও আবু হাসেম খানচৌধুরী এবং সিপিএমের দুই– মহম্মদ সেলিম, বদরুদ্দোজা খান৷ এরপরে বিহার, চারজন৷ এ ছাড়াও কেরালা, আসাম, তামিলনাড়ু ও লাক্ষাদ্বীপ থেকেও জিতেছেন কয়েকজন৷

এদিকে দার-উল-উলুমের প্রধান মুফতি আবুল কাসিম নোমানি বলেছেন, গণতন্ত্রে জনগণের রায়কে অবশ্যই সম্মান জানানো উচিত৷ বিজেপি সরকার গড়ার পর কী করে, সেটাই দেখার৷ আগেভাগে কিছু বলা ঠিক নয়৷ তবে আমরা ভালো কিছু হবে, এমনটাই আশা করছি৷ জামায়াত-ই-ইসলামি হিন্দ, এন ডি এ-র এই জয়কে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর অনৈক্য, বিভাজন ও নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ফল বলেই মনে করে৷ দলের সাধারণ সম্পাদক নুসরত আলি বলেছেন, এই ফল ধর্মনিরপেক্ষতার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ৷ মুসলমানদের হতাশ না হয়ে নতুন করে নিজেদের ভাবমূর্তি তৈরিতে মন দেয়া উচিত, বলেছেন মিল্লি কাউন্সিলের ড. মনজুর আলম৷ এদিকে সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খান মনে করেন, মোদির জয়ে মুসলিমদেরও অবদান রয়েছে৷ আজমের দাবি, এই জয় থেকেই প্রমাণিত মুসলিমরা ধর্মনিরপেক্ষ ছিল এবং আছে৷ -সংবাদ সংস্থা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।