শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeউপজেলা ‘দুর্নীতিবাজ’ মেয়র অপসারিত গাংনী পৌরসভায়

‘দুর্নীতিবাজ’ মেয়র অপসারিত গাংনী পৌরসভায়

ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় মেহেরপুরের গাংনী পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আহম্মেদ আলীকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

দুর্নীতিসহ পৌর আইন অমান্য করে কার্যক্রম পরিচালনাসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পৌর-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সরোজ কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

বুধবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো ফ্যাক্স বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

অপসারণের অনুলিপি মেয়র আহম্মেদ আলী, নির্বাচন কমিশন সচিব, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তার নির্দেশে অসৎ উদ্দেশ্যে ১৮টি প্রকল্পের মধ্যে ১৬টি কাজের বিল বাবদ ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ১১৭ টাকা বিধি বহির্ভূতভাবে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাটির কাজে পরিমাপ নির্ণয় ছাড়াই ঠিকাদারকে ২৬ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৮ টাকা পরিশোধ করে, যা ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশ করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া ২০১১/১২ অর্থ বছরে এডিবি’র অর্থে বাস্তবায়িত ৪৬ প্রকল্পের তদন্ত কমিটি কর্তৃক গৃহীত পরিমাপের ভিত্তিতে বিনা কাজে ৮৯ লাখ ২৫ হাজার ৬২৬ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন ২০০৯ এর ধারা ৩২ (১) (ঘ) বিধান মোতাবেক আহমেদ আলীকে অপসারণ করা হয়েছে।

মেয়র আহম্মেদ আলী অপসারণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিনি আইনের আশ্রয় নিয়ে এর মোকাবিলা করবেন। একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় যে অভিযোগ এনেছে তার সঠিক জবাব দিয়ে তিনি পুনরায় মেয়র পদে ফিরে আসবেন ।

কয়েকজন কাউন্সিলর জানিয়েছেন, মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম করে আসছেন। এ কারণে এক-দু’জন কাউন্সিলর বাদে অধিকাংশ কাউন্সিলর পৌরসভায় যায় না। ফলে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কাউন্সিলরা তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত পাঠিয়েছেন। সচিব পর্যায়ের একাধিক তদন্ত কমিটি মেয়রের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করে। অবশেষে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments