শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeরাজনীতিফুলগাজীতে একরামের কবরের পাশে মানববন্ধন

ফুলগাজীতে একরামের কবরের পাশে মানববন্ধন

ডি.সি, এস.পি’র প্রত্যাহার, সাংসদ নিজাম হাজারীর ফাঁসি দাবী
দীপঙ্কর শীল, ঢাকার বিশেষ প্রতিনিধি- ফুলগাজী থেকে ফিরে  ;
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামের হত্যাকারীর প্রধান পরিকল্পনাকারী ও তাদের ফাঁসির দাবীতে আনন্দপুর ইউনিয়নের বন্ধুয়ায় একরামের কবরের পাশে মানববন্ধন করেছে ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গতকাল ২৮ মে বুধবার সকালে উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত মানববন্ধনে একরাম হত্যাকান্ডে জড়িত সকল আসামীকে গ্রেফতার এবং অনতিঅবিলম্বে আটককৃতদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য দাবী জানানো হয়। ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিমের নেতৃত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার, ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগ সহসভাপতি কামাল উদ্দিন, কবির আহাম্মদ, যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান হারুন মজুমদারসহ অনেকে। মানববন্ধন থেকে এই নৃশংস হত্যার নির্দেশদাতা ফেনী ২ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলী সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর ফাঁসির দাবীতে স্লোগান দেওয়া হয়।

বিক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা শুধু বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরী নয়, হত্যাকান্ডের সাথে নিজাম হাজারী সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেন। তারা অবিলম্বে নিজাম হাজারীকে গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবী জানান। এদিকে ফেনী জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির খোন্দকার এবং পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষের প্রত্যাহার দাবী করেছেন বিক্ষুব্দ নেতকর্মীরা। তারা অবিলম্বে নিজাম হাজারীর অনুগত ডিসি এবং এসপিকে প্রত্যাহার করার জোর দাবী জানান। মানববন্ধন থেকে স্লোগানে স্লোাগানে উত্তাল হয়ে উঠে ফুলগাজী। এ সময় স্লোগানে হত্যাকারী নিজামের ফাঁসি চাই, খুনি নিজামের ফাঁসি চাই সহ ডিসি এসপির প্রত্যাহারে ব্যাপক স্লোগান দেয়া হয়। ফেনীর জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির খোন্দকার একরাম হত্যাকান্ড ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে অভিযোগ করেন। বর্তমান ডিসি এমপি নিজাম হাজারীর অনুগত হওয়ায় প্রকৃত খুনিরা অন্তরালে থেকে যাবে বলে স্থানীয় সংগঠন সহ জনগণ মনে করে। উল্লেখ্য, ফেনীর বিভিন্ন বালুমহল গুলো ইজারাবিহীন আ’লীগ নেতারা পৈত্রিক সম্পত্তির মতো ভোগ করে যাচ্ছে। এখান থেকে জেলা প্রশাসক মোটা অংকের একটি অংশ পান। এছাড়া জেলার ভুমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস সহ বিভিন্ন ঘুষ বাণিজ্যের অফিস গুলো থেকে জেলা প্রশাসক যে মাসোয়ারা পান সেগুলোতে নিজাম হস্তক্ষেপ না করায় তার প্রতি অনুগত হুমায়ুন কবির খোন্দকার।  এদিকে পুলিশ সুপার ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাচনের কোন্দলকে কেন্দ্র করে একরাম হত্যা হয়েছে বলে উল্লেখ করায় ক্ষোভে ফুঁসছে ফুলগাজী উপজেলা সংগঠন। এদিকে আবিদ র‌্যাবের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে দলীয় কোন্দলের কারনে একরাম খুন হয়েছে জানানো হলেও পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ উপজেলা নির্বাচনকে সামনে নিয়ে আসায় তার দ্বারা প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার করা সম্ভব নয় বলে নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন। তারা অবিলম্বে পরিতোষ ঘোষকে প্রত্যাহার করে ফেনীতে নুতন পুলিশ সুপার নিয়োগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবী জানান।

উল্লেখ্য, একরাম হত্যাকান্ডের পর থেকে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মী, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া সহ সর্বত্র এই হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী করে নিজাম হাজারীর দিকে সন্দেহের তীর ছোড়ে। গত ২১ মে ফুলগাজী পাইলট হাইস্কুলে একরামের জানাযা অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারন করতে গিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ হত্যাকান্ডে নিজাম হাজারী জড়িত বলে উল্লেখ করেন। একরাম হত্যাকান্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ায় এবং ঢাকায় নিজাম হাজারী ঘনিষ্ঠজন আবিদ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ায় ফুলগাজী উপজেলা আ’লীগের ধারণা পাকাপোক্ত হয়। এদিকে একরাম হত্যাকান্ডের মুল পরিকল্পনাকারী জেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, ফেনী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শিবলু, যুবলীগ ক্যাডার ও নিজাম হাজারী প্রধান সেনাপতি জিয়াউল আলম মিষ্টার এবং আর্মস্ স¤্রাট মামুনের নাম উঠে আসায় এই হত্যাকান্ডের মুল নির্দেশদাতা নিজাম হাজারী বলে উপজেলা সংগঠনের বদ্ধমুল ধারণা। প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার না করে চুনো পুঁটিদের গ্রেফতার করায় পুলিশ নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় সংগঠনের আস্থা হারিয়েছে বলে জানায় নেতাকর্মীরা। নিজাম হাজারীর ঘনিষ্ঠ সহচররা গ্রেফতারের আওতায় না আসায় বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার অপ-প্রয়াস চলছে বলে মানববন্ধনে উল্লেখ করা হয়। এদিকে ফুলগাজী উপজেলা আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একরাম হত্যাকান্ডের দিন থেকে অদ্যাবধি নানা কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছে। ফুলগাজী এখন আতংকের জনপদের নাম। এ উপজেলা দিয়ে পরশুরামের লোকজন ফেনীতে যাতায়াত করে। এছাড়া ফেনী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের লোকজন একরামের বাড়ী আনন্দপুরইউনিয়ন দিয়ে ফেনী আসতে হয়। মূলত একরাম হত্যার পর থেকে পরশুরাম-ফুলগাজী-ফেনী সড়ক অকার্যকর রয়েছে। দু’একটি যান চলাচল করলেও ব্যাপক ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নামে চালকরা। আবার কোন হরতাল অবরোধ ছাড়াই ভাংচুরের শিকার হচ্ছে যানবাহন।

 

এদিকে আজ সকাল ১০ টায় একরাম হত্যায় সকল আসামী গ্রেফতার এবং ফাঁসির দাবীতে উপজেলা আ’লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী বরাবর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে স্মারক লিপি প্রদানের কর্মসূচী রয়েছে। এদিকে ফুলগাজী উপজেলা আ’লীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে বার বার নিজাম হাজারীর ফাঁসি দাবী করলেও আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম স্লোগান দাতারা দলের উল্লেখযোগ্য কেউ নয় বলে উল্লেখ করেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments