রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeউপজেলাহোয়াইক্যং বন বিভাগ কর্তৃক উচ্ছেদের নামে বসতঘর ভাংচুরের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে স্মারকলিপি

হোয়াইক্যং বন বিভাগ কর্তৃক উচ্ছেদের নামে বসতঘর ভাংচুরের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে স্মারকলিপি

টেকনাফের হোয়াইক্যং লাতুরীখোলায় বসতঘর ভাংচুর করার প্রতিকার, উপযুক্ত ক্ষতি পুরণ ও ভাংচুরকৃত স্থানেই বসবাস করার সুযোগ দেয়ার দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো স্থানীয় এমপি বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে। স্মারকলিপির কপি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওঃ রফিক উদ্দিন সরেজমিন পরিদর্শণ করেছেন । এসময় স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার দিল মোহাম্মদ, হেডম্যান জকির আহমদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

স্মারকলিপিতে বলা হয়- সারা দেশের অসংখ্য মানুষের মত তাঁরাও বন বিভাগের পরিত্যক্ত জমিতে বাপ-দাদার আমল থেকে বসবাস করে আসছিল। তারা বন ভুমির কোন ক্ষতি সাধন করেনি। কিন্ত হঠাৎ করে দীর্ঘ বছরের বসতঘর উচ্ছেদ হওয়ায় প্রায় ২০ টি পরিবারের শতাধিক মানুষ বাসস্থান হারিয়েছে। এদিকে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওঃ রফিক উদ্দিন সরেজমিন পরিদর্শণ করেছেন । এসময় স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার দিল মোহাম্মদ, হেডম্যান জকির আহমদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের নারী-পুরুষ টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওঃ রফিক উদ্দিনকে তাদের মাঝে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

 

ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওঃ রফিক উদ্দিনও অসহায় পরিবার গুলোর বসতবাড়ি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে বনকর্মীদের ব্যাপক ভাংচুরের ভয়াবহতা দেখে হতবাক হয়ে যান। তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের দুঃখ-দুর্দশার কথা মনোযোগ সহকারে শোনে সমবেদনা প্রকাশ ও শান্তনা দেন। সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বিকালে টেকনাফ ফিরে তিনি সংবাদকর্মীদের জানান- শুধু টেকনাফ নয়, সারা দেশেই বন বিভাগের জমিতে কম-বেশী অসহায় ভুমিহীন মানুষ বসবাস করে আসছে। অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিও বন বিভাগের জমিতে বসবাস করেন। কিন্ত হঠাৎ করে বিনা নোটিশে এবং স্ব-উদ্যোগে সরিয়ে নেয়ার সুযোগ না দিয়ে অসহায় ও নিঃস্ব পরিবার গুলোর বসতঘর নির্দয়ভাবে ভাংচুর অত্যন্ত অমানবিক এবং দুঃখজনক। অথচ টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করছে।

 

তিনি আরও জানান- বসতঘর উচ্ছেদ করার নামে বনকর্মীরা রান্না করার হাঁড়ি-পাতিল, পানির ট্যাং, থালা-বাসনও ভাংচুর করেছে। অনেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (ন্যাশনাল আইডি কার্ড) খুঁজে পাচ্ছেনা। বর্তমানে ভাংচুরকৃত অসহায় পরিবার গুলোর শতাধিক বণি আদম খোলা আকাশের নীচে ঝড়ে ভিজে, রোদে পুড়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। সামনে বর্ষাকাল, এসময়ে অসহায় পরিবার গুলো কোথাও মাথা গোঁজার ঠাই পাচ্ছেনা। উল্লেখ্য, ২৪ মে সকাল সাড়ে ১০ টায় হোয়াইক্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ও বিট অফিসার খন্দকার মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বনকর্মী ও সিপিজি গ্রুপ নিয়ে ১১ টি ঘর-বাড়ী উচ্ছেদ করেন।

 

এসময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে বনকর্মীরা ব্যাপক ভাংচুর করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে ৪ নারী আহত হওয়ার পাশাপাশি ২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্থরা। আহতরা হচ্ছে, ছেনুয়ারা বেগম (৩০), রুবিনা আক্তার (২১), অন্ধ প্রতিবন্ধী নুর জাহান (৫০), এবং মাইক্যচিং (৩০)।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments