নাঙ্গলকোটে জাহেরী দাওয়াখানায় চিকিৎসার নামে চলছে অপচিকিৎসা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরবাজারে অবস্থিত জাহেরী দাওয়াখানার বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দিয়ে লক্ষ লক্ষ  টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এলাকার সহজ সরল হাজারও রোগী প্রতারণার শিকার হচ্ছে প্রায় প্রতিনিয়ত।

 

নিজের মনগড়ামত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুতকৃত নিুমানের ওষুধ নামের বিষ বিক্রি করায় এ এলাকার মানুষগুলো অপচিকিৎসায় আরো জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়,ঢালুয়া ইউনিয়নের মঘুয়া গ্রামে নিজস্ব ঔষুধ কারখানা এবং প্রধান বিপণন কেন্দ্র হাছান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ২ নং গেইট রেললাইনের পূর্বপাশ্বে হরেক রকমের রোগ নিরাময়ের তথাকথিত কবিরাজের চেম্বার। এ্যালোপ্যাথিক ঔষুধ ট্যাবলেট ক্যাপসুল গুড়া করে এবং তার সাথে গাছ গাছড়ার চামড়ায় রস দিয়ে হালুয়া সিরাপও বিভিন্ন রকমের বড়ি তৈরি করে।

 

নেশা জাতীয় ও যৌন উত্তেজক ঔষুধসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঔষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। সকল রোগ নিরাময়ে ১০০% গ্যারান্টি! বিনা অপারেশনে মাত্র ৫মিনিটে নাকের পলিপস,নাকের ভিতর গোটা, নাকের হাড়ভাঙ্গা, মাংস বৃদ্ধি, অর্শ্ব ভগন্দর ইত্যাদি রোগ নিরাময় করা হয়।

 

বাত,জ্বর,সদির্,কাশি,চর্ম,যৌন,মাথা ব্যথা ও হাপাঁনিসহ মেডিকেল আনফিট রোগী ফিট করা হয়। ৩ ঘন্টায় যৌন রোগের উপকার ২১ দিনে  স্থায়ী চিকিৎসা বলে প্রকাশ্যে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভেজষ ইউনানী আয়ুবের্দ মেডিসিন এ রয়েছে ৫৫ বছরের অভিজ্ঞতা। অথচ ঔষুধ প্রস্তুত কারী হেকিম জামাল উদ্দিন ও হেকিম কামরুজ্জামানের মোট বয়স ৪০ বছর হবে না।

 

পৌরসভার হরিপুর গ্রামের প্রতারনার শিকার মৃৃৃৃত  আয়ুব আলীর স্ত্রী জানান,তার স্বামীর ক্যান্সার রোগ ৭০ হাজার টাকায় বিনিময়ে ভালো করিয়ে দেওয়ার নামে কথা বলে চুক্তি করে। রোগীকে সুস্থ করতে ব্যর্থ হলে রোগীর আত্মীয় স্বজন দাওয়াখানায় তালা লাগিয়ে দেয়।

 

এরকম অসংখ্য মানুষের সাথে চুক্তির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। ওই দাওয়াখানার হেকিম জামাল উদ্দিন জানান, মেডিসিন তৈরিতে তার কোন অভিজ্ঞতা কিংবা সনদ নেই। সে দীর্ঘদিন যাবত এ ব্যবসাটি পৈতৃকসূত্রে পেয়ে চালিয়ে আসছে। বাবার সাথে থেকে তিনি মেডিসিন তৈরির কাজ করেছিলেন।

 

তিনি আরও বলেন ভেজষ ও আয়ুর্বেদিক ঔষুধের কোন পার্শ¦পতিক্রিয়া নেই। তাই মানুষের কোন উপকার না হলেও তির  কোন সম্ভাব্না নেই। সরকার অনুমোদিত কোন কাগজপত্র না থাকলেও তিনি দিনের পর দিন এ ব্যবসায় চালিয়ে আসছেন। উল্লেখ্য যে, ১৯৮২ সালের ঔষুধ অধ্যাদেশ অনুযায়ী ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার মাধ্যমে  রোগ নিরাময়ের গ্যারান্টি দিলে ১১৪ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদন্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিতের বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে এসব আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে। প্রকান্তরে ও সর্বশান্ত রোগীরা সংশ্লিষ্ট ঔষুধ প্রশাসনের হস্তপে কামনা করছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।