স্মৃতিকথা- স্বপ্নের ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ

২০০৪ সালে নাঙ্গলকোটের দণি শাকতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি থাকাকালীন সময়ে যখন লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন ধরে নিই যে আমার আর পড়া শুনা হচ্ছে না, হবে ও না। এরপর ২০০৮ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখ বড় ভাই আলী আককাছ ৫০০ টাকা হাতের মুঠোয় দিয়ে বলল কাল হেসাখাল গিয়ে কারিগরী কলেজে ভর্তি হয়ে যা,এরপর টাকা লাগলে বলিস। আগের তোলা পুুরনো ৪/৫ কপি ছবি ও ভাইয়ের দেয়া টাকা নিয়ে পরদিন ৫ কিংবা ৬ মার্চ হেসাখাল কারিগরী কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম।

 

এরপর চড়াই উতরাই জীবনের শত ঘাত প্রতিঘাত উপো করে ও পাড়ি দিয়ে ২০১০ সালে এসএসসি,২০১২ সালে এইচএসসি যখন পাশ করি। তখন দুনিয়াটা যেন আমার হাতের মুঠোয় পেয়ে গেলাম। যদি ও লেখাপড়ায় ইন্টার পাশ উচ্চ শিার জন্য একটা ধাপ কিন্তু আমার কাছে এর পূর্বে কয়েকদিন নয় ,কয়েক বছরের জন্য ছিল ইন্টার পাশ স্বপ্নের ব্যাপার! কেননা ২০০৬ সালে এসএসসি পরীার্থী থাকলেও টানা কয়েক বছর লেখাপড়া বন্ধের কারণে এরপর দুই আড়াই বছর পর আমার প্রিয় বড় ভাই আলী আককাছের উৎসাহ উদ্দীপনা ও সহযোগিতায় আমি ফিরে নতুন জীবন। যাক ঐ সময় ২০০৮ সালে নবম শ্রেনীতে অনিয়মিত না হলেও সপ্তাহে কমপে ৪ দিন করে কাস করতাম।

 

এভাবেই ভাইয়ার তত্ত্বাবধান পাশাপাশি লাকসামের সাংবাদিক ফারুক আল শারাহ উৎসাহ নিয়ে লেখাপড়া করতে থাকি। ঐ সময় লাকসাম এর সময়ের দর্পণ পত্রিকায় লেখালেখির কারণে হেসাখাল কারিগরী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব আবদুল করিম মজুমদার,প্রিন্সিপাল হারুন অর রশিদ,ইকবাল বাহার, প্রভাষক আনোয়ার, শিক আলমগীর, প্রভাষক কিবরিয়া, স্বপন, শহীদুল্লাহ স্যার, মাহবুব স্যার, জান্নাত ম্যাডাম সহ প্রায় সকল শিকই আমাকে বিশেষ ভাবে স্নেহ, আদর করতেন।

 

তাদের স্নেহ ভালোবাসা পাওয়ায় আমি প্রতিনিয়ত লেখাপড়ায় আনন্দ খুঁজে পেতাম। টানা ৪/৫ বছর অজপাড়া গ্রামের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হেসাখাল সুহৃদ কারিগরী বিজ্ঞান ও বাণিজ্য কলেজ থেকে এসএসসি,ইন্টার পাশ করেছি। কিন্তু এরপর ভিক্টোরিয়ার মত কলেজে ভর্তি হবো কিংবা পড়বো,ভুলে ও আশা করিনি। কেননা আমার ইচ্ছে ছিল লাকসাম ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজে ভর্তি হবো,পড়বো। হয়তো এই কারণেই ২০১২ সালের মে মাসের শেষের দিকে শারাহ ভাইয়ার সাথে কথা বলে তার সম্পাদিত সাপ্তাহিক সময়ের দর্পন অফিসে কাজ নিই।

 

যার ফলে ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়ার কারণেই নভেম্বর মাসে ভাইয়ার সম্পাদিত (আমার প্রিয় পত্রিকা) সময়ের দর্পণ চেয়ে কুমিল্লা শহরে পাড়ি জমাতে হয়। ২০১২-১৩ সেশনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ডিগ্রী ১ম বর্ষে বিএসএস বিভাগে ভর্তি হই। যাক,সব স্থানের মত কুমিল্লাতে ও বড় ভাই সমতুল্য ক্যম্পাস বার্তা সম্পাদক মহসীন কবির, আলা উদ্দিন, আবদুল কাদের,ক্যাম্পাস সাহিত্যের জুয়েল ভাই, সোহেলদের পেয়ে গেলাম।
ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য বড় ভাই সমতুল্য মু.আলী আকবর রিজভী, আকবর হোসেন, জামাল উদ্দিন শামীম, সোহেল, মেহেদী, সাইফুল, রোবেল, রাজিব, আসিফ, জোবায়ের, আমান উল্যাহ, মাহবুব, কাইয়ুম, হাবীব,সাহাবউদ্দিন,আমিনুল হক, তুহিনদের ভালোবাসা কে কখনও ভুলবার নয়। আমি ধন্যবাদ জানাই আমার বড় ভাই আলী আককাছকে, সেই সাথে সাংবাদিক ফারুক আল শারাহ(সর্ম্পকের ২০০৭-২০১২ সাল)।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।