লক্ষ্মীপুরের ছেলের অপরাধে পরিবারকে সমাজচুত্য, এলাকা ছাড়ার হুমকি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি দোকান দখল ও বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েক যুবকের সঙ্গে গত ৩০ মে শুক্রবার সংঘষ হয়েছে এক পোল্টি খামার ব্যবসায়ী মনির হোসেন সাথে। এতে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে জাহিদ হোসেন ভূইয়া (২৪) নামের এক কলেজ ছাত্রের ৪টি আঙ্গুল কেটে যায়।

 

এঘটনা ওই দিনেই রায়পুর থানায় মনিরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার পর হইতে মনিরসহ তার পিতা পলাতক থাকে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কলাকোপা এলাকার হাজিরহাট গ্রামে। জাহিদ ঢাকা (এআইইউবি) এর ছাত্র ও ওই এলাকার মোতাহের হোসেন ভূইয়া ছেলে।
ঘটনার পর হইতে স্থানীয় বখাটেরা ওই ব্যবসায়ীর বাড়ীতে কয়েক দফা হামলা চালিয়ে বসতবাড়ী, টয়লেটসহ ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরে তারা বাড়ীর কোন লোক প্রবেশ করতে না দিয়ে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে এলাকা ছাড়ার জন্য হুমকি দিয়ে গত ১৫ দিন ধরে সমাজচুত্য করে রাখে ওই পরিবারটিকে। এতে চরম আতংকে দিনাতিপাত করছে ওই পরিবারটি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে গেলে এর সত্যতা পাওয়া যায়।
সরজমিনে গেলে শনিবার (১৪ জুন) সকালে বাড়ীতে থাকা ক্ষতিগ্রস্থ রারেয়া আক্তার, আলিমুন নেছা ও মেয়ে ইয়াসমিন জানান, গত কয়েকদিন আগে বাড়ীর সামনে তাদের একটি পরিত্যক্ত দোকান এলাকার জসিম, শাহাদাত, কামাল, মুক্তার ও শরিফসহ কয়েকজন দখল করে নেয়। পরে শুক্রবার বিকালে ওই ঘরটি সংস্কার করার জন্য তাদের বাগানের বাঁশ কেটে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বাধা দিতে গেলে দেশিও অস্ত্র নিয়ে মারধর করতে এগিয়ে আসে তারা।

 

পরে উভয়ের লোকদের সংঘর্ষে জাহিদ হোসেন নামের এক ছাত্রের ডান হাতের ৪টি আঙ্গুল কেটে যায়। এঘটনায় তাদেরকে উচ্ছেত করে সম্পতি দখলে নেওয়ার জন্য স্থাণীয় কয়েক প্রভাবশালীর প্ররোচনায় রায়পুর থানায় পরিবারের ৭জনকে আসামী করে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এতে পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় স্থানীয় মেম্বারকে নিয়ে কয়েক বখাটে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করছে। দাবিকৃত চাদা না দেওয়া ঘটানার পর হইতে ওই বখাটেরা বাড়ীতে কয়েক দফা হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতি করে এবং এলাকাতে সমাজচুত্য করে বাড়ী ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে।

 

বাড়ী না ছেড়ে গেলে ঘরে আগুন দিয়ে সবাইকে পুড়িয়ে দেওয়া হুমকি দিয়ে যয়। এছাড়াও এলাকার আত্মিয়সহ কোন লোকে বাড়ীতে প্রবেস করতে চিছেনে তারা। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পুলিশ প্রশাসনকে জানালেও কোন প্রতিকার পয়নি বলে জানান ওই পরিবারটি। এতে তারা প্রতিটি মুহর্তে আংতকে পারাপার করছেন।
এঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম জানান, এঘটনায় এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে পরিবারকে সমাজচুত্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয়রা। ওই পরিবারের সাথে সাংবাদিকসহ বাহিরের কোন লোক আসলে আমাদের পরামর্শ নিতে হবে। চাঁদা দাবি ও ভাংচুরের ঘটনাটি নিজেরাই সাজিয়ে এলাকায় অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বামনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সালেহ আহম্মেদ জানান, ভাংচুর, চাঁদা দাবি ও সমাজচুত্য করার ঘটনাটি ক্ষতিগ্রস্থ মনিরের পরিবার জানিয়েছেন। পরে ঘটনাটি থানা পুলিশকে অবহিত করে ওই বাড়ীতে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ দিয়ে পাহাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতেও হামলার ঘটনাটি থামছে না।
রায়পুর থানার ওসি একেএম মনঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন হামলা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ মনিরের বাড়ী পরিদর্শন করেছি। মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।