৭ খুনের আসামি নূর হোসেনকে আট দিনের রিমান্ডে নিয়েছে কলকাতা পুলিশ

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি নূর হোসেনকে আট দিনের রিমান্ডে নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। আজ বারাসাত আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ১৪দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় কলকাতা পুলিশ। পরে আদালত নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীর আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নারায়নগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলার প্রধান আাসামী নূর হোসেনকে।

 

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলকাতার নেতাজী সুভাস চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী বাগুইহাটির একটি বাড়ির চার তলা থেকে তাকে সন্ত্রাস দমন স্কোয়াডের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।

 
কলকাতা পুলিশ নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ব্যাপারে নূর হোসেনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে ইতোমধ্যে অবহিত হয়েছেন।নূর হোসেনকে আরো জিজ্ঞসাবাদের জন্য পুলিশ ১৪দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে বারাসাত আদালত আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

 
কলকাতা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত নেয়ার বিষয়টি পুলিশের ওপর নির্ভর করছে না।এ জন্য বাংলাদেশ সরকারকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসতে হবে।

 
এদিকে নূর হোসেনকে অবৈধভাবে আশ্রয় দেয়ার দায়ে ওই বাড়ির মালিক সীমা সিংকে খুঁজছে কলকাতা পুলিশ। এ ব্যাপারে ওই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ভিসা ও পাসপোট ছাড়া নূর হোসেনের কাছে বাড়ি ভাড়া দেয়ার জন্য পুলিশ সীমা সিং কে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সীমা সিং এখনো পলাতক।

 
গত এক মাসের বেশি সময় নূর হোসেন ওই ভবনে ছিলেন বলে ভবনের অন্য বাসিন্দা ও নিরাপত্তারক্ষীরা পুলিশকে জানিয়েছেন।স্থানীয়দের কাছে তিনি অসুস্থ এবং চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছেন বলে জানিয়েছিলেন।

 
গতকাল রাতে নেতাজী সুভাষচন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার কাছ থেকে কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।তার কাছ থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে একটি রিভলবর ও কয়েক রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।নূর হোসেন কিছু দিন ধরে ওই এলাকার একটি বহুতল ভবনের পাঁচতলায় একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। নূর হোসেনের সঙ্গে আর যে দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের একজনের নাম শামীম ও আরেক জনের নাম রফিক বলে জানা গেছে।

 
আজ রবিবার সকালে এ ব্যাপারে কলকাতা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের অবহিত করা কথা। সাত খুনের মামলার প্রধান এই আসামি খুনের তিন দিন পরই দেশ ত্যাগ করেন।

 
এর আগে বাংলাদেশ সরকার নূর হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে সদর দপ্তরে চিঠি দেয়। তার আলোকেই কলকাতার বিশেষ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকায় নূর হোসেনকে দেশে ফেরত আনার ক্ষেত্রেও তেমন কোনো সমস্যা হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 
এরই মধ্যে সাত খুনের ঘটনার গ্রেপ্তার চাকরিচ্যুত তিন র‌্যাব কর্মকর্তার মধ্যে দুই জনই নূর হোসেনের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাত জনকে খুনের কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।এ ছাড়া কিছু দিন আগে নূর হোসেন কলকাতা থেকে একটি খোলা চিঠি দেয়। তাতেও তিনি খুনের দায় স্বীকার করে নেন। তবে তিনি ঔ খুনের জন্য নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে দায়ি করেছেন।

 

 

এর আগে গত মাসে যশোর থেকে নূর হোসেনের ক্যাশিয়ার হাসমত আলী হাসুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানালেও পরে তিনি তা অস্বীকার করেন।

 
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন অপহৃত হওয়ার তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ ভেসে ওঠে। অপহরণের পরপরই নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করা হয়।

 

 

নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা র‌্যাব ছয় কোটি টাকা দিয়ে নজরুলসহ সাতজনকে হত্যা করিয়েছে বলে নিহত কাউন্সিলরের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।