‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সাংবাদিকদেরই সোচ্চার হতে হবে’

১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার মওলানা ভাসানির ‘হক কথা’ পত্রিকা বন্ধের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ শুরু করেছিল। একই সরকার ১৯৭৫ সালে চারটি পত্রিকা রেখে অন্য সব পত্রিকা বন্ধ করে দেয়। আর বর্তমানে সরকার শুধু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধই করেনি, বরং গণমাধ্যমের কর্তাব্যক্তিরাও সেলফ সেন্সরশিপ করছেন। গণমাধ্যম না থাকলে দেশে গণতন্ত্র থাকে না। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সাংবাদিকদেরই সোচ্চার হতে হবে।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ১৬ জুন ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ এই সভার আয়োজন করে।

বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল আমিন রোকনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন কলামিস্ট ও সমাজচিন্তক ফরহাদ মজহার, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. জাফর উল্লাহ চৌধুরী,  সুপ্রিম কোর্ট বারের সহসভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ  সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজে’র মহাসচিব এমএ আজিজ, ডিইউজে’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক নতুন বার্তা ডটকমের সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সৈয়দ আবদাল আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।

ফরহাদ মজহার বলেন, “১৯৭১ সালের বাকশাল আর বর্তমানের ফ্যাসিবাদ এক নয়। এই দুই সময়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তা হলো- গণমাধ্যম বন্ধ করা ছাড়াও এখন প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সেলফ সেন্সরশিপ চলছে।”

তিনি বলেন, “আদালতে কাউকে দাঁড়িয়ে রেখে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেয়া হয়। মূলত আদালত শাস্তি দেয়ার প্রতিষ্ঠান নয়। বিচারকরা দেশের আইন অনুযায়ী বিচার করতে পারেন। কালো আইনের কারণে সঠিক রায় দেয়া সম্ভব নাও হতে পারে। ন্যায্য দিকগুলো বিবেচনা করেও আইনে দুর্বলতার কারণে সঠিক রায় দিতে না পারলে সেটি বিচারকরা উল্লেখ করতে পারেন কেবল। নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা আদালতের কাজ। সব নগরিক আদালতের কাছে সমান হবেন।”

এই কলামিস্ট বলেন, “বিএনপির বর্তমান দুর্দশার কারণ হলো দলটির নেতারা বিভিন্ন ইস্যুতে চলমান আন্দোলনে তাদের সঠিক বক্তব্য তুলে ধরতে না পারা।” তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের দলের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। চিন্তার শক্তি বাড়াতে হবে সবার। আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তির জন্য কৌশল নিতে হবে।”

 

ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, “১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার মওলানা ভাসানির ‘হক কথা’ পত্রিকা বন্ধের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ শুরু হয়েছিল। একই সরকার ১৯৭৫ সালে চারটি পত্রিকা রেখে অন্য সব পত্রিকা বন্ধ করে দেয়।”

 

তিনি বলেন, “১৬ জুন সংবাদপত্রের কালোদিবস উপলক্ষে আজ পত্রিকাগুলোর অন্তত কিছু অংশ কালো রেখে প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল। কিন্তু আজ বেশিরভাগ পত্রিকাই ১৬ জুন সম্পর্কে কিছু লেখেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কোনো বিবৃতি দেননি। তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মকাণ্ডের দায়ভারতো হাসিনা নিজের ঘাড়ে নিতে পারেন না, এ দিক থেকে দিবসটিতে তার বিবৃতি প্রত্যাশা ছিল আমার। খালেদা জিয়ার বিবৃতিও কোথাও দেখিনি। আজকের পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের সোচ্চার হতে হবে।”

 

ড. জাফর বলেন, “মুহমুদুর রহমান অপরাধী হলে তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু সরকার তার বিচার করছে না। এ তো হতে পারে না। প্রত্যেক নাগরিকের বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।”

 

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “স্বৈরাচার সরকার সংবাদপত্র বন্ধ করে টিকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও টিকতে পারবে না। সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

 

আগামী ২৫ জুন সারাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক মহাসমাবেশে অংশ নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান সভার সভাপতি নুরুল আমিন রোকন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।