দিনে ৪ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্দ থাকায় ভোলা-লক্ষীপুর রুটে তীব্র যানজট, যাত্রীদের ভোগান্তি

ভোলা-লক্ষীপুর রুটে হঠাৎ করেই তীব্র যানজটের সৃস্টি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই ভোলা অংশের ইলিশা ও লক্ষীপুর অংশের মজুচৌধূরীর ঘাটে আটকে আছে অন্তত ২শত যানবাহন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিক ও সাধারন যাত্রীরা।

 
এদিকে, জোয়ারের পানির কারনে লক্ষীপুর মজুচৌধূরীরর ঘাট তলিয়ে যাওয়া দিনের ৪ঘন্টা ফেরী চলাচল বন্ধ থাকে। এতে ফেরীর ট্রিপ কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাচ্ছে বলে ফেরী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জানা গেছে, ভোলার সাথে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের মাধ্যম ভোলা-লক্ষীপুর রুটে দুটি ফেরী চলাচল করে আসছে।

 
এ রুট দিয়ে দুরপাল্লার যাত্রীবাহি বাসসহ বিভিন্ন পরিবহন এবং মালবাহি শত শত ট্রাক যাতায়াত করছে। সে হিসাবে রুটটি দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুপ্তবহন করে আসলেও একের পর এক ফেরী বিপর্যয়ের কারনে সাধারন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না।

 
যাত্রীরা জানিয়েছেন, ফেরী ঘাটে প্রতিদিনিই দীর্ঘ লাইন জটের সৃস্টি হয়। এতে ফেরী স্বল্পতার কারনে ঘাটে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হচ্ছে পরিবহনগুলোকে। ফেরী ট্রিপ বাড়িয়ে দেয়াসহ আরেকটি ফেরী দিলে এ সমস্যা থাকতো না বলেও মনে করছেন তারা।

 
ট্রাক চালক লোকমান, ছিদ্দিক ও মিরাজসহ অন্যরা জানান, প্রতিদিন ভোলা থেকে চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য মেঘনা নদীর দীর্ঘ ভোলা-লক্ষীপুর রুটটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। একইভাবে অন্যজেলা থেকে ভোলাতে এসব যানবাহন পারাপার হয়ে আসছে। কিন্তু ঘাটে এসেই বিরম্বনার মুখে পড়তে হচ্ছে। এখানে যানবাহনের চাপের কথা বিবেচনা করে ৩/৪টি ফেরীর দরকার থাকলেও আছে মাত্র ২টি। তাও কয়েকদিন পর পরই ফেরী বিকল কিংবা ঘাটে সমস্যা থাকে। তখন ফেরী চলাচলে মারাতœক বিঘেœর সৃস্টি হয়ে থাকে।

 
ফেরী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, লো ওয়ার্টার ঘাট নির্মানের ফলে লক্ষীপুরের মজুচৌধূরীর ঘাটে জোয়ার এলেই ঘাটের সংযোগ সড়ক ও গ্যাংওয়ে  তলিয়ে যায়। এতে দিনের মধ্যে ৩/৪ঘন্টা ফেরীতে কোন যানবাহন উঠা-নামা করতে পারেনা, অপেক্ষা করতে হয় ভাটার জন্য। শনিবার সকালেও একইভাবে জোয়ারের পানিতে মজুচৌধূরীর ঘাট তলিয়ে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভোলা অংশে ৫০টি ও লক্ষীপুর অংশে ১৫০টির বেশী যানবাহন আটকে আছে।

 
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ম্যানেজার সিহাব উদ্দিন বলেন, লক্ষীপুরের মজুচৌধূরীর ঘাটে হাই ওয়াটার ঘাট না থাকায় জোয়ারের পানিতে ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ফেরী চলাচল বন্ধ থাকে। এতে দিনের মধ্যে ফেরীর ২টি ট্রিপ কমে যাচ্ছে। যারফলে যানজটের সৃস্টি হচ্ছে।

 
তিনি বলেন, শুধু লক্ষীপুর ঘাটেই নয়, সমস্যা রয়েছে ভোলার ইলিশা ঘাটেও। ইলিশা ঘাটে সংযোগ সড়কে টেকসই বাধ নির্মান করা করায় পাইলিং জোয়ারের পানিতে ধ্বসে পরছে, এতে ঝুঝির মুখে পড়ছে ঘাটটি। আরো টেকসই বাধ নির্মান করা প্রয়োজন।

 
এসব বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষকে জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাষ দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।