নতুন কৌশলে হেফাজত ইসলাম!

সরকারবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়া এবং না দেয়া নিয়ে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত বিএনপির টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় আর কোনো রাজনৈতিক দলের হাতে ব্যবহৃত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। অবশ্য হেফাজতে ইসলামের এ অবস্থানকে সাময়িক কৌশল হিসেবেই দেখছে বিএনপি এবং ইসলামপন্থী নেতারা। খবর সময় টেলিভিশনের।

 

প্রস্তাবিত নারী নীতির বিরোধিতা করে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম থেকেই কর্মসূচি শুরু করেছিল বহুল আলোচিত হেফাজতে ইসলাম। আর প্রথম থেকেই ধর্মীয় এ সংগঠনটিকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছিল বিএনপি। গত বছরের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের স্থায়ী অবস্থানের পক্ষে বেগম খালেদা জিয়া সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে ওই ঘটনার পর হেফাজতে ইসলামে নানা মেরুকরণ ঘটে।

 

এদিকে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সরকারবিরোধী গণঅবস্থানে অংশ নেয়ার জন্য হেফাজতকে আহ্বান জানালেও সাড়া দেয়নি তারা। পরবর্তী সময়ে হেফাজত ইসলামের আমির নিজেই ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। সংগঠনটির সবশেষ সিদ্ধান্ত অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করবেন না তারা।

 

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, “১৩ দফার ঈমানি দায়িত্ব নিয়ে আমরা মঠে কাজ করছি, কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ আমাদের নেই, কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থ হাসিলের জন্য হেফাজতে ইসলাম কখনো ব্যবহৃত হবে না।” হেফাজতের মধ্যে ৪-৫টি ইসলামী রাজনৈতিক দল থাকলেও সংগঠনের ফোরামে রাজনৈতিক ইস্যু থাকবে না বলে জানান তিনি।

 

তবে ইসলামপন্থী নেতা অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার মনে করেন, নতুন করে জনসমর্থন আদায়ের জন্য হেফাজতে ইসলাম এসব কথা বলছে। তিনি বলেন, “যেসব মানুষ আবেগবশত তাদের পক্ষে গিয়েছিলো, তাদের অনেকেই আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে, তাই এটি সাধারণ মানুষকে সামনে আনার একটি কৌশল হতে পারে।” অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, হেফাজতে ইসলামের বর্তমান অবস্থান প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কৌশলমাত্র।

 

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, “প্রতিটি সংগঠনের তাদের কৌশল কর্মপদ্ধতি থাকে, হেফাজতও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারে।”
 

গত বছরের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় ঢাকার বিভিন্ন থানায় অন্তত ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়। আর এসব মামলার আসামি হেফাজতের শীর্ষ নেতারা। তবে বর্তমানে সংগঠনের অনেক নেতা প্রকাশ্যে থাকলেও তাদের গ্রেফতারে ইদানীং কোনো পুলিশি তৎপরতা চোখে পড়েনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।