ভোলা মনপুরায় জোয়ারের পানিতে ২টি গ্রাম প্লাবিত ॥ ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্ধী

ভোলার মনপুরার মাত্র সাড়ে ৩কিলোমিটার বাঁধ নির্মান না করায় দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নের ২টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে ১৫হাজার মানুষ পানিবন্ধী অবস্থায় রয়েছে।

 
গত ৪ দিন ধরে এ অবস্থায় চললেও মাথা ম্যাথা নেই কারো, ভাটার সময় সামান্য কিছু পানি সরে গেলেও স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারনে সেখানকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনের জীবন-যাপনে মারাতœক বিঘেœর সৃস্টি হচ্ছে। অন্যদিকে ফসলের ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বীজ তলা তৈরী করতে পারছেনা চাষীরা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন বাঁধ নির্মান কাজ  দ্রুত গতিতে চলছে।

 
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অন্যদিনের মত রোববার দুপুরের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে মনপুরা উপজেলার দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর ও দক্ষিণ সাকুচিয়া গ্রামের বিস্তীর্ন এলাকা। গ্রাম দুটির ৪টি ওয়ার্ডই ৩/৪ফুট পানির নিচে রয়েছে। পানিতে তোড়ে ভেসে যাচ্ছে পুকুরের মাছ। পানির হাত থেকে বাচঁতে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন অপেক্ষাকৃত উচু স্থানে, কেউ আশ্রয় নিচ্ছেন মাচায়।

 
জানা যায়, গত মৌসুমে ঘুর্নিঝড় মহাসেনসহসহ কয়েক দফা বন্যায় ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির চাপে সাকুচিয়া ইউনিয়নের সাড়ে ৩ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধঁ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ওই সময়ে তাৎক্ষনিক বাধ নির্মান কাজ না করায় পুরো বাধঁই এখন বিধ্বস্ত হয়ে নদীর সাথে অরক্ষিত হয়ে রয়েছেন। এখন মেঘনায় জোয়ার এলেই  পুরো এলাকায় পানিতে প্লাবিত হয়। এতে চরম দুর্ভোগ আর দুর্বিশহ দিন কাটাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মান করলে তাদের এমন ভোগান্তি পোহাতে হতো না,  এ জন্য তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করছেন।
এলাকার বাসিন্দা বাবুল, মিজান, মোহাম্মদ উল্লা, অলি উল্লা বলেন, জোয়ারের পানিতে পুরো ঘর ডুবে যায়, ঘরে রান্না করা যায়না, দিনে এক বার পানি উঠে আবার গভীর রাতেও একইভাবে পানি উঠে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি, আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না।

 

সিরাজ উদ্দিন বলেন, গত মৌসুমে আমাদের পানির মধ্যে কাটাতে হয়েছে, এ মৌসুমেও পানির মধ্যে রয়েছি। গৃহবধু সামসুন নাহার বলেন, রাতের বেলায় বেশি ভয়ের মধ্যে থাকি, দিনের বেলায় উচু স্থানে আশ্রয় নিলেও রাতের বেলায় ঘুমাতে পারিনা।

 
২ নং ওয়ার্ডের কৃষক শাহে আলম ও কহিনুর বলেন, জোয়ারের পানিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, লবণাক্ত পানির জন্য জমির বীজ তলা তৈরী করতে পারছিনা, নির্ধারিত সময়ে জমি রোপন করতে না পারলে ফসল করা যাবে না।

 
দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান অলিউল্ল্যাহ কাজল বলেন, এলাকায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার বাঁধ না থাকায় এলাকায় ইউনিয়নের ৩০হাজার মানুষের মধ্যে ১৫হাজার মানুষই জোয়ারের পানির কষ্টে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

 
তিনি বলেন, ইউনিয়নের ১,২,৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। এতে পানিবন্ধী হয়ে পড়ছেন নদী উপকূলের মানুষ। তবে বাঁধ নির্মান কাজও চলছে।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা রোববার দুপুরে পরিদর্শন করেছি, সেখানকার মানুষ পানির কষ্টে আছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত করার জন্য বলা হয়েছে।

 
মনপুরা পান্নি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকরী প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, দুটি ধাপে রিফারিং ও নতুন বাঁধের নির্মানের জন্য সাড়ে ৩ কিলোমিটার বাধের কাজ চলছে। জোয়ারের চাপ বেশী থাকায় কাজ ব্যহত হচ্ছে। তবে মাটি কাটার শক্তিশালী কিছু মেশিন দিয়ে বাঁধের কাজ করা হবে।

 
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১ (ডিভিশন-২ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম বলেন, গত মাসে টেন্ডার প্রকিয়া শেষ হওয়ার পর কিছু দিন আগেই বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।