সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
spot_img
Homeকক্সবাজারচকরিয়ায় আঁখির বাল্যবিবাহ রুখে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

চকরিয়ায় আঁখির বাল্যবিবাহ রুখে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

চকরিয়ায় ১৩ বছর বয়সী জান্নাতুল মাওয়া আঁখির বাল্যবিবাহ রুখে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন। রোববার ২২জুন ইউএনও কার্যালয়ে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে এহেন সামাজিক ব্যধির এ কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হয়।

 
চকরিয়া থানার ডুলাহাজারা রংমহল গ্রামের মেয়ে আঁখি। যে বয়সে তার সহপাঠিদের নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই তার পাষন্ড বাবা মেয়েকে বোঝা মনে করে চূড়ান্ত করে বিয়ে দেওয়ার সব আয়োজন। ভুঁয়া জন্ম নিবন্ধণ সনদ থেকে শুরু করে এমন হীন কাজ ছিলো না, যা তিনি করেননি। ২২জুন বিয়ের দিন-তারিখও ঠিক করে ফেলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলোনা তার। ফলাফল সাত দিনের জেল ও মেয়ের ভরনপোষন দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার মুচলেকা দেয়া।

 
সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে জয়নাল আবেদিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শাহিদা বেগম। ২০০১ সালে জন্ম হয় আঁখি’র। পরবর্তীতে আঁখির মা শাহিদা বেগমের উপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন শুরু করে তার বাবা। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার একপর্যায়ে আর সহ্য করতে না পেরে মা শাহিদা বেগম সাত মাসের আঁখিকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর কেটে যায় ১০ বছর, এরমধ্যে আঁখি বড় হয়ে স্কুলে যাওয়া শুরু করে। পরবর্তীতে তার বাবা এবং মা দুজনেই নিজেদের সংসার আবার নতুন করে শুরু করে। এরমধ্যে আঁখির বাবা গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে আঁখিকে লেখাপড়া করানোর কথা বলে তার নিজের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে তার মায়ের সাথে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেয়। এদিকে গত ২১জুন’১৪ইং আঁখির নানা জানতে পারেন নাতনির বিয়ে হয়ে যাচ্ছে এবং বিয়ের কাবিননামা হয়ে গেছে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আঁখির মা বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে সহযোগিতা নেন টিআইবি’র। একইদিন টিআইবি’র ইয়েসগ্রুপ লিডার মোঃ ফরহাদের সহযোগিতায় মেয়ের মা স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ও গুরুত্বের সাথে ওইদিন রাতেই সংশ্লিষ্ট সকলকে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ২২জুন ১৪ইং তাঁর অফিসে হাজির হতে বলেন।

 
বিয়েরদিন তথা রোববার ২২জুন আঁখির প্রাক্তন বাবা-মা, যার সাথে বিয়ে হচ্ছে তার বাবা-মা, পাশাপাশি ওই অবৈধ বিয়ের সাথে যারা জড়িত সকলকে নিয়ে বসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন। তিনি সকল পক্ষের মতামত যাচাই বাছাই করে আঁখির প্রাক্তন বাবা জয়নাল আবেদিনকে সাত দিনের কারাদন্ড দেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন সনদ জাল করার বিষয়ে ইউপি সদস্যদের এবং কাজী সাহেবকে যাচাই বাছাই না করে ভবিষ্যতে বিয়ে না পড়ানো বিষয়ে সতর্ক করে দেন। সেইসাথে সামাজিক ব্যাধি বাল্য বিবাহ প্রথা হতে রক্ষা পায় ডুলাহাজারা রংমহল গ্রামের কিশোরী আঁখি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments