‘দেশে গণতন্ত্র নয়, চলছে দানবতন্ত্র’ : আবদুর রব

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, “সিভিল-নন সিভিল সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে আওয়ামী লীগ দলীয়করণ করেছে। বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র চলছে না, চলছে দানবতন্ত্র।” বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভায় তিনি একথা বলেন।

 

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, নারীনেত্রী ফরিদা বেগম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিরের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা, বাংলাদেশ অ্যালাইন্সের সাধারণ সম্পাদক গৌতম দাশ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবাদল আহমদ প্রমুখ।  অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেক অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র।

 
আসম রব বলেন, “দানবতন্ত্রের বিরুদ্ধে একক কোনো সংগঠনের আন্দোলন করা সম্ভব নয়, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে। তাহলেই এই দানবতন্ত্রকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব।” তিনি বলেন, “এজন্য কি স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, এজন্য কি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম? আজকের এই অবস্থার জন্য স্বাধীনতা অর্জন করিনি। যদি বুঝতাম তাহলে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য উৎসাহিত হতাম না।” পাকিস্থানি খুনির হাত থেকে দেশ এখন বাংলাদেশি খুনির হাতে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল বলেন, “দেশে যত বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম-খুন হচ্ছে এর দায় সরকারের। দেশে এখন কোনো আইন নেই।  র্যা বকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। এর চেয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ হতে পারে না। এর মাধ্যমে সরকারের বার্তা হলো- যে অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলবে তাকে শুইয়ে দেয়া হবে। এই সরকাকে ক্ষমতায় রাখা যায় কি-না এখন তা ভেবে দেখতে হবে।”

 

তিনি বলেন, “আজ নির্যাতিত ব্যক্তি বিচার পায় না। নির্যাতিত ব্যক্তি আদালতে যেতে পারে না। হয় তাকে মেরে ফেলা হয় নয়তো তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এরপরও যদি কেউ আদালতে যান এবং যে বিচারক বিচার করতে চান তাহলে প্রধান বিচারপতি সেই বিচারককে পরিবর্তন করে দেন।” তিনি আরো বলেন, “আজকে যেভাবে গুম-খুন অত্যাচার, নির্যাতন চলছে তা শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জানাতে হবে। কারণ দেশে এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না।” সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না বলেন, “মিডিয়া না থাকলে মানুষের ঘুরে বেড়ানোর অবস্থা থাকতো না।”

 

প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আজকের পর থেকে সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন না। যদি গ্রেফতার করেন তাহলে খবর আছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনাদের বিরুদ্ধে লড়বো।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।