বুধবার, ডিসেম্বর 1, 2021
বুধবার, ডিসেম্বর 1, 2021
বুধবার, ডিসেম্বর 1, 2021
spot_img
Homeউপজেলাএশিয়ার বৃহত্তম বটবৃক্ষের নিচে নির্মিত রেষ্ট হাউজ অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে

এশিয়ার বৃহত্তম বটবৃক্ষের নিচে নির্মিত রেষ্ট হাউজ অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে

এশিয়ার বৃহত্তম বটবৃক্ষের নিচে নির্মিত রেষ্ট হাউজ অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই সাথে প্রায় চার’শ বছর আগের এশিয়ার প্রাচীন  এই বটবৃক্ষটি ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে ধংস হয়ে যাচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সুইতলা মল্লিকপুরে বিখ্যত এই বটবৃক্ষ অবস্থিত। ২০০৯ সাল হতে সামাজিক বন বিভাগ যশোর রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব নিলেও জমি অধিগ্রহনসহ উন্নয়ন কর্মকান্ডের তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি।

 
কালীগঞ্জ শহর থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার পূর্বদিকে বেথুলী গ্রামের মৌজায় জন্মালেও দেশ বিদেশে এটা সুইতলা মল্লিকপুরের বটগাছ হিসেবে পরিচিত। চোখে দেখে তৃপ্তি পেতে আর কিছু সময় রিলাক্সের জন্য প্রতিদিন দেশ বিদেশের অসংখ্য প্রকৃতি প্রেমিক দর্শনার্থীরা ভীড় জমায় ঐতিহ্যবাহী এ বৃক্ষটির তলে। বিভিন্ন সময়ে অনেকে সরকারীভাবে বটগাছের উন্নয়নের কথা শুনিয়েছেন কিন্তু বাস্তবে তেমন রুপ নেয়নি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

 

দুর-দুরান্ত থেকে আসা দর্শণার্থীদের সুবিধার জন্য ১৯৮৫ সালে একটি রেষ্ট হাউজ নির্মান করেন তৎকালীণ সরকার। নির্মিত ঐ রেস্ট হাউজটির সার্বিক তত্ত্বাবধানকারী ছিল জেলা পরিষদ। রেষ্ট হাউজটি তৈরী হলেও আসল উদ্যেশ্য কখনও আলোর মুখ দেখেনি বরং অযতœ অবহেলায় ধংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গেছে। রেষ্টহাউজটির দরজা জানালা গুলো ঘুনে ধরে ভেঙ্গে পড়েছে।  লোহার তৈরী বিভিন্ন অংশ জং ধরে একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে।

 
জানা গেছে,কালীগঞ্জ উপজেলার ৮নং মালিয়াট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম লুৎফর রহমান ও নিয়ামতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরউদ্দিন আহম্মেদের প্রচেষ্টায় সরকারী ভাবে দর্শনার্থীদের কল্যাণে এখানে নির্মিত হয় এই রেষ্ট হাউজটি।

 

নির্মান শেষ হওয়ার পর থেকে রেস্টহাউজটিতে বসবাসের উপযোগী  কোন আসবাবপত্র আজো পর্যন্ত এসে পৌছায়নি। টেউবওয়েল, বাথরুম থাকলেও তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে। রেষ্ট হাউজটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকায় এটি  দর্শনার্থীদের কোন কল্যানে আসে না।

 
জানা গেছে, বছর দু’য়েক হলো বন বিভাগ বৃক্ষটি দেখাশুনার জন্য এখানে একজন মালি নিয়োগ দিলেও লোকবলের অভাবে বেশির ভাগ সময় অফিসের নির্দেশেই তাকে থাকতে হয় বিভাগীয় অফিসে। ফলে দেখাশুনার জন্য নেই তেমন তদারকি। রেষ্ট হাউজের কোন নষ্ট কোন অংশ চুরি হয়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে তার দেখার মত কেউ নেই।

 

তবে এলাকার মানুষের দাবী তাদের নিজস্ব সম্পদ মনে করে, দেশের সুনাম রক্ষার্থে এলাকবাসীর বিশেষ নজরদারিতে দীর্ঘদিন ধরে গাছটি বেঁচে আছে।  কিন্তু রেস্ট হাউজটি রক্ষা করার মত তেমন কোন উদ্যোগ কেউ নেইনি। সরকারী ভাবে যতটুকু করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট না হওয়ায় আজ সবই ধংস হতে চলেছে।

 
এশিয়ার এই বৃহত্তম বট বৃক্ষ আর দর্শানার্থীদের জন্য নির্মিত রেষ্টহাউজটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনজর কামনা করেছে এলাকাবাসী।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments