শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeকুমিল্লাকুমিল্লায় ৫ সহস্রাধিক সিএনজি অটোরিক্সার দুই তৃতীয়াংশেরই বৈধ কাগজ নেই

কুমিল্লায় ৫ সহস্রাধিক সিএনজি অটোরিক্সার দুই তৃতীয়াংশেরই বৈধ কাগজ নেই

কুমিল্লা জেলা জুড়ে দাবড়ে বেড়াচ্ছে ৫ সহস্রাধিক সিএনজি অটোরিক্সা। মহাসড়ক থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের অলি-গলি সর্বত্র চোখে পড়ে ওই যানবাহন। এদের বেশিরভাগই বৈধ কাগজপত্র নেই। চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। ঝুঁকিপূর্ণ এসব যানবাহন মহাসড়কে দেদারসে চলাচল করছে। আবার দুর্ঘটনাও পতিত হচ্ছে।

সুত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৯৭ কিলোমিটার কুমিল্লা অংশ ও কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার ১৬টি উপজেলায় প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চলাচল করছে। যার দুই-তৃতীয়াংশেরই নেই বিআরটিএ’র রেজিষ্ট্রেশন নম্বর। আর এক তৃতীয়াংশ সিএনজি অটোরিক্সারই নেই ক্রয় সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র। ওই কাগজপত্রবিহীন সিএনজি অটোরিক্সাগুলোর বেশিরভাগই চুরি এবং সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ পথে প্রবেশ করা, যা এলাকায় ‘টানা’ বলে চিহ্নিত।

উল্লেখ্য বাংলাদেশে জ্বালানী সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব সিএনজি অটোরিক্সার আগমন শুরু হয় প্রায় এক যুগ পূর্বে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি ধাপে ভারতীয় বাজাজ কোম্পানীর তৈরি এই সিএনজি অটোরিক্সার আমদানীর পর থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন মাধ্যমে সয়লাব ঘটে এ যানের। তারপর থেকে এ যানটিকে অবৈধ আয়ের উৎস হিসেবে বেঁছে নেয় জেলা ও উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বাহিনীর সদস্যরা। যার ফলে ক্রমশই দুর্নীতি ও অবৈধ কর্মকান্ড বেড়ে যায় এ সেক্টরে।

সরজমিনে দেখা যায়, ওই সিএনজি অটোরিক্সার নেই বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অর্থোরেটি (বিআরটিএ) এর রেজিষ্ট্রেশন নম্বর। রেজিষ্ট্রেশনবিহীন ওই সিএনজি অটোরিক্সার নম্বরের প্ল্যাটে অন-টেষ্ট, এ.এফ.আর লেখার পাশাপাশি (কুমিল্লা-থঃ ) এমন সমাপ্ত নম্বর লিখে চলছে বছরের পর পর। প্রশাসনের কোন নজর না থাকায় এর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

 
এছাড়া কুমিল্লা মহানগরীতে চলাচলরত বেশিরভাগ সিএনজি অটোরিক্সাগুলোর রেজিষ্ট্রেশন নম্বর থাকলেও মহানগরীর বাইরে উপজেলাগুলোতে তার বিপরীত চিত্র দেখা যায়।
এদিকে সম্প্রতি কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে সিএনজি অটোরিক্সা চুরি ও ছিনতাইয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চোর ও ছিনতাইকারিরা আন্ত:জেলা চোর-ছিনতাইকারি চক্রের সাথে জড়িত হয়ে ওই চুরি ও ছিনতাইকৃত সিএনজি অটোরিক্সাগুলো আবার এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বিক্রি করে দিচ্ছে। এসব চুরি ও ছিনতাইকৃত সিএনজিগুলোর নম্বর মুছে বা নম্বর অস্পষ্ট করে চলছে মহাসড়কসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়।

সুত্রে জানা যায়, এর মধ্যে শুধুমাত্র মহাসড়কের ময়নামতি সেনানিবাস এলাকা থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এলাকা, চান্দিনা-দেবিদ্বার, চান্দিনা-মাধাইয়া, চান্দিনা-ময়নামতি, চান্দিনা-বদরপুর, চান্দিনা-রামমোহন, চান্দিনা-খোসবাস, চান্দিনা-বরুড়া, মাধাইয়া-নবাবপুর, মাধাইয়া-ইলিয়টগঞ্জসহ চান্দিনা উপজেলায় বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে ৩ শতাধিক সিএনজি অটোরিক্সা। যার অধিকাংশগুলোতেই নেই রেজিষ্ট্রেশন নম্বর।

 
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের চান্দিনার বাগুর বাস ষ্টেশন থেকে ক্যান্টনম্যান্ট, মাধাইয়া, বরুড়ার খোসবাস, দেবিদ্বার, রামমোহন, বদরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন চলছে শত শত সিএনজি। সেই সিএনজিগুলোর প্রায় অর্ধেকেরও বেশি নম্বরবিহীন এবং নম্বর অষ্পষ্ট। নম্বর ছাড়া সিএনজি থাকার কারণে অপরাধীদের অপকর্মের হারও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 
একটি সূত্র জানায়, নম্বর সাঁটানো অনেক সিএনজি আছে যেগুলোর বৈধ কাজগপত্র নেই। নম্বরবিহীন একটি সিএনজি চালকের সাথে কথা বলতে চাইলে চালক তার নাম না বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

নম্বর বিহীন অপর সিএনজি ড্রাইভার মোঃ আবুল হোসেন (২৪) জানান, ‘আমি পাঁচ মাস যাবৎ এই রোডে সিএনজি চালাই কখনও সমস্যা হয় না। মাঝে মধ্যে একটু আকটু ধরিয়ে দিলেই চলে’। একটু আকটু কি ধরিয়ে দেন এবং কাকে ধরিয়ে দেন জানতে চাইলে তিনি আর কিছুই না বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments