শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeউপজেলাকুমিল্লার নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ!

কুমিল্লার নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ!

এানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে বৃহত্তর কুমিল্লার বর্তমান ১৬ টি উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট বড় খাল বিল মিলিয়ে ৪৪ টি নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী মাছ। এ অঞ্চলের এক সময়কার মতস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত ৪৪ টি নদীর অন্যতম গোমতী,ডাকাতিয়া, হেসাখাল,নদনা,চৌদ্দগ্রাম খাল,তারাশাইলসহ কয়েকটি নদীতে বর্তমানে মাছশূন্য হয়ে পড়েছে।

 

বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার, কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার, নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাস, নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বেপরোয়া বালু উত্তোলন, কৃষি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ও কুমিল্লার কিছু নদীর সীমান্তে ভারতের বাধঁ নিমার্ণসহ বিভিন্ন কারণে মতস্যশূণ্য হয়ে পড়েছে কুমিল্লার প্রধান সারির নদীগুলো।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তক নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন কীটনাশক দিয়ে মাছ শিকারের কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মতস্যচাষীরা জানিয়েছেন। এতে মাছ উতপাদনের প্রজনন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে কুমিল্লার কিছু সংখ্যক নদী একেবারে মতস্যশূণ্য হয়ে যাবে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন মতস্যসংশ্লিষ্টরা। কুমিল্লার ডাকাতিয়া নদীর লাকসাম,মনোহরগঞ্জ অংশে মাছ কমে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী বেশ কিছু জেলে পরিবারে চলছে র্দূূদিন।

 

সূত্র মতে,ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যেও পাহাড়ী অঞ্চলে থেকে বেশ কয়েকটি নদী উতপত্তি হয়ে কুমিল্লা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এক সময় কুমিল্লার নদী-নালা খাল-বিল, শাখা-প্রশাখা গুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে বোয়াল, গলদা, পাবদা, পুটিঁ, গজার, শোল, মাগুর, কৈসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন  মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে ভারত কলসীর মুখ নামক স্থানে  (পত্রিকার সূত্রমতে) কালনী বাধঁ সহ বেশ কয়েকটি বাধঁ নিমার্ণ করায় কুমিল্লার নদীগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

 

শতাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীগুলোর বিভিন্ন এলাকায় চলেছে সাম্প্রতিক কালে বালু উত্তোলন,ফলে কুমিল্লার গর্ব বেশ কিছু নদী নাব্যতা হারাচ্ছে। কৃষি জমিতে ব্যবহুত হচ্ছে অতিরিক্ত কীটনাশক। কৃষি জমির পানি গড়িয়ে পড়ছে এই সকল নদীতে। কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানের কিছু অসাধু জেলে নদী গুলোতে অবৈধ কারেন্ট জাল বসিয়ে তুলে নিচ্ছে মাছ।

 

আর এভাবেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে কুমিল্লার প্রাণ গোমতী নদীর মাছ। এছাড়া ও তিতাস নদী, হেসাখাল নদী, নদনা নদী, তারাশাইল নদী, চৌদ্দগ্রাম খাল, ডাকাতিয়া নদী, মেঘনা নদীর একটি শাখা , মেঘনা নদীর কয়েকটি প্রশাখাসহ বেশ কয়েকটি নদীর মাছ ও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমাদের চিরাচরিত প্রবাদ মাছে ভাতে বাঙ্গালী অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। আগের মত মাছ এখন আর পাওয়া যায় না বললেই চলে।  এ ব্যাপারে একজন সংবাদকর্মী হিসেবে ১৬ টি উপজেলার বেশ কয়েকটিতে যোগাযোগ করে নিই।

 

এতে কয়েকটি উপজেলা মতস্য অফিসের বক্তব্য হচ্ছে, কুমিল্লার নদী গুলোতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, কারেন্ট জালের ব্যবহার ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে উল্লেখ্যযোগ্য কুমিল্লার প্রধান সারির নদী খাল গুলোর মাছ কমে যাচ্ছে। তবে  নাঙ্গলকোট উপজেলা মতস্য কর্মকতার সাথে সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগ করলে তিনি জানিয়েছেন মাছের প্রজনন মওসুমে মাছ ধরে ফেলা,প্রজননত্রে নষ্ট হয়ে যাওয়া ও বিষ প্রয়োগ করায় মতস্য সম্পদের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে,যা অচেতন ও অসচেতন নাগরিক, জেলেরা বুঝতে পারে না।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments