শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeজাতীয়এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি রাজধানীর ঈদ বাজার

এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি রাজধানীর ঈদ বাজার

রাজধানীর গুলশান। উচ্চবিত্ত আর বিদেশিদের বসবাস। ফলে এখানকার মার্কেটগুলোও সাজানো হয় অভিজাত ও বিদেশি পণ্যে। প্রত্যেক ঈদে বেচা-বিক্রিও হয় অনেক। তাই এবারেও ঈদের আগে পোশাকের মার্কেটগুলোকে বিক্রেতারা সাজিয়েছে রঙ-বেরঙে। বিক্রেতারা আশা করেছিল ১০ রমজানের পর শুরু হবে ঈদের মূল বেচা-বিক্রি। কিন্তু ১৪ রমজান চলে গেলেও গত রমজানের এই সময়ের তুলনায় বিক্রি বেশি না। তবে বেচা-বিক্রি খারাপও না বলেও জানান তারা।

গুলশান-১, ২ ও আশপাশের মার্কেট ও শপিংমলগুলো ঘুরে দেখা যায়, দেশি-বিদেশি জমকালো পোশাকে সাজানো হয়েছে দোকান। দেশি নামকরা ব্র্যান্ডের পাশাপাশি প্রচুর ভারতীয় শাড়ি, লেহেঙ্গা, গাউ, আনারকলি, ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, বাচ্চাদের পোশাকে ভরে সাজানো হয়েছে শপিংমল ও দোকান। ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরে এমন সময়েই ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবছরে মনে হচ্ছে একটু কম। মানুষ এখন এসে দেখছে, ঘুরে কিছু কিনছে আবার কিছু লোক চলেও যাচ্ছে। তারা আশা করছেন দুই একদিনের মধ্যেই বেচা-বিক্রি জমে উঠবে।

গুলশান। অভিজাত এলাকা। অভিজাত পোশাক। দামেও আভিজাত্য। এ কথার প্রমাণ মেলে গুলশানের ভাসাভি, জারা, স্টাইলসেলসহ বিভিন্ন অভিজাত শপিংমলে। ভাসাভিতে সাজানো হয়েছে দেশি-বিদেশি শাড়ির বিশাল আয়োজন। এখানে দেশীয় শাড়ির মধ্যে রয়েছে তাঁত, নেট, সুতি, হাফ সিল্ক, ফুল সিল্ক, কাতান, বেনারসি, বাহারি জামদানি শাড়ি অন্যতম। এ ছাড়াও রয়েছে টাঙ্গাইল তাঁত, বালুচড়ি, মিরপুরি সিল্ক এবং ঢাকাই মসলিন।

বিদেশি বা ভারতীয় শাড়ির মধ্যে রয়েছে গাড়ওয়াল, কাঁচপুরী, জয়পুরী, তসর, মসলিন, ইতালিয়ান ক্রাফট সিল্ক, মাইসোর রেশম, চেত্তিনাদ, কাঞ্চিপুর, বলরামপুর, মঙ্গলগিরি, বেঙ্কটগিরি, পচাম্পলি, কটাদরিয়া, চিকন, বাঁধনি, কাঁথা, মুর্শিদাবাদী সিল্ক, জুট কাতান, অপরা কাতান, সানন্দা, শান্তিপুরী সিল্ক, নেপালী শাড়ি, পাকিস্তানি শাড়ি, শ্রীলঙ্কার শাড়ি। স্টাইলসেলে শাড়ির পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গাউন, লেহেঙ্গা, আনারকলি, শারারা বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মিজানুল করিম জানান, এখানে ট্রেডিশনাল শাড়ি ও পাটি শাড়িই বেশি বিক্রি হচ্ছে। ট্রেডিশনাল শাড়ির দাম পড়ছে পাঁচ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। আর পাটি শাড়ির দাম ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। আনারকলি বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায়। গাউন ৪০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা, ওয়েস্টার্ন গাউন ১৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা, শারারা চার হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের পাঞ্জাবির মধ্যে কাতান পাঁচ হাজার থেকে ৫০ টাকা এবং সিল্ক ও ধুপিয়ান পাঁচ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের সুতি কাপড়ের শার্ট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকায়। গুলশান-১-এর ডিসিসি মার্কেটে রিচম্যানের শোরুমে গিয়ে দেখা যায় বেচা-বিক্রি বেশ ভালোই জমে উঠেছে।

শোরুমের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম জানান, এখানে কটন সিল্কের পাঞ্জাবি চার হাজার ২৫০ থেকে পাঁচ হাজার ৮৫০ টাকায় এবং এন্ডি কটনের পাঞ্জাবি দুই হাজার ৪৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ৯৯০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। সুতি শার্ট বিক্রি হচ্ছে ১৩৯০ থেকে ৩৮৫০ টাকায়। এ ছাড়া সাধারণ প্যান্ট ১৬৫০ থেকে ১৯৫০ টাকা, গ্যাবাডিনের প্যান্ট ১৫৫০ থেকে ২২৫০ টাকা, জিন্সের প্যান্ট ৩৫৫০ টাকায় এবং পোলো শার্ট বিক্রি হচ্ছে ৮৯০ থেকে ১২৫০ টাকায়। একই মার্কেটে রানি এন্টারপ্রাইজে নতুন এসেছে মেয়েদের টপস, পালাজজো, শাড়ি ও হিজাব।

দোকানের কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম তানভির জানান, এখানে মেয়েদের টপস ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকা, পালাজজো ৫০০ থেকে ১২৫০ টাকা, ভারতীয় জরজেট শাড়ি ১৮০০ থেকে ৫০০০ টাকা, এক কালার জাপানি জরজেট শাড়ি ৮০০ থেকে ২২০০ টাকায় এবং ছেলেদের শার্ট ১০০০ থেকে ৪৫০০ টাকা ও টি-শার্ট ১৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কলকাতা ফেব্রিকসের স্বত্বাধিকারী কাওছার আহমেদ জানান, এখানে এবার নতুন এসেছে ইন্ডিয়ান থ্রিপিস ‘কাশিস’। এগুলো বিক্রি হচ্ছে ৫০০০ টাকা থেকে ৬৫০০ টাকায়। এ ছাড়া ইন্ডিয়ান বুটিক ৩০০০ টাকা থেকে ৬০০০ টাকা, দেশি বুটিক ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং পাকিস্তানি লন ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments