শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
spot_img
Homeউপজেলাকর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় ৩ বছরেও উদ্ধার হয়নি মনোহরগঞ্জের ৫ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি

কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় ৩ বছরেও উদ্ধার হয়নি মনোহরগঞ্জের ৫ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসিনতা আর  অবহেলায় প্রশাসনিকভাবে চিহ্নিতের ৩ বছর অতিক্রান্ত হলেও মনোহরগঞ্জে প্রায় ৫ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে তৎপরতা নেই। জানা গেছে, কুুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় পরিত্যক্ত ২ একর ২৩ শতক সম্পত্তি স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক চিহ্নিত করার ৩ বছরেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে অবহেলা ও সঠিক নির্দেশনার অভাবে এখনো খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়নি। এতে উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী হাজীপুরা গ্রামে প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি সরকারের মালিকানা হারাচ্ছে। এর মধ্যে স্থানীয় জবর দখলকারীরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মচারীর যোগসাজসে ওই সম্পত্তি  বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

 
তৎকালীন মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) -এর দায়িত্বে থাকা ছাদেক আহমেদ ওই গ্রামের ভারতে চলে যাওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিন মালিকবিহীন সম্পত্তি সরকারের ১নং খাস খতিয়ানে অর্ন্তভুক্ত করার জন্য ২০১২ সালের ২৮শে ফেব্র“য়ারি কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব বরাবরে ১৩৮ নং স্মারকে একটি পত্র প্রেরণ করেন। ওই পত্রে জানানো হয়, সহকারী কমিশনার ভূমি -এর পে মনোহরগঞ্জ ইউনিয়ন ভুমি অফিসের বিবিধ মোকদ্দমা নং০৩, সাল- ২০১০-১১ রুজুুক্রমে ২০১০ সালের ২১শে জুলাই সাবেক ২৪৫ হালে ২৫৮নং দক্ষিণ হাজিপুরা মৌজার সাবেক  ২১৮ হালে ১১৬ ও ১১৭ দাগের ২ একর ৯৮ শতক বাড়ি ও পুকুরের মালিকানা জানতে চেয়ে দখলদারদের নোটিশ প্রদান করে। এদিকে, নোটিশ প্রদানের পর ৭৫ শতক ভূমির মালিকানার স্বপে দালিলিক প্রমান পত্র পাওয়া যায়। বাকী ২ একর ২৩ শতক সম্পত্তির ব্যাপারে দখলকারগণ তাদের মালিকানার স্বপে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে মনোহরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মালিক বিহীন পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসাবে চিহিৃত করে তা খাস খতিয়ানভূক্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে লিখিত সুপারিশ করেন। কিন্তু গত ৩ বছরেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে সঠিক নির্দেশনার অভাবে তা আজো খাস খতিয়ানভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

 
সরজমিনে ঘুরে জানা যায়, ওই এলাকার সাবেক ২৪৫ হাজীপুরা মৌজার এস.এ ৫০ নং  খতিয়ান মূলে মালিক মৃত ফেজু রাম দাসের ছেলে কৈলাশ চন্দ্র দাস তার সকল সম্পত্তি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মৃতঃ জাফর আলীর ছেলে মহরম আলী ও তার স্ত্রী ছকিনা বিবির সাথে ভারতীয় সম্পত্তির বিনিময় করে ভারতে চলে যান। ওই গ্রামের প্রভাবশালী মৃতঃ নছর উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে জলিলুর রহমান মেম্বার ভারত থেকে বিনিময় করে আসা মহরম আলীদেরকে উচ্ছেদ করে জবর দখল করে নেয়। পরে জলিলুর রহমান মেম্বার সাবেক এস.এ ৫০, ৫১, ৫২, ৫৭, ৬৪ নং খতিয়ানের সাবেক ২১৮ নং দাগের ২ একর ২৩ শতক সম্পত্তি বি.এস জরিপের সময় ভুয়া কাগজ পত্র দিয়ে ১৫৮ নং ডি.পি খতিয়ানে নিজের নামে ভুয়া রেকর্ড করে ফেলেন। বর্তমানে এ সম্পত্তিগুলো মৃতঃ জলিলুর রহমানের ছেলে আবদুস সালাম, গাজীউর রহমান, বিলাল হোসেন, শরীফুর রহমান, মিজানুর রহমান, হারুনুর রশিদ, ফারুক হোসেন জবর দখলে রেখেছেন।

 
এদিকে, একাধিকবার উপজেলা ভূমি অফিস থেকে ওই অবৈধ দখলদারকে ২ একর ২৩ শতক সম্পত্তির মালিকানা জানতে চেয়ে নোটিস প্রদান করলেও তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তবে অভিযোগ রয়েছে ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে এবং মোটা অংকের অর্থের লেনদেনে ওই সম্পত্তি উদ্ধারের বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। এভাবেই দীর্ঘদিন যাবত ওই অবৈধ দখলদাররা উক্ত ভূমি দখলে রেখেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভূমি কর্মকর্তা জানান, মনোহরগঞ্জ ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা নুরুল আমিন এবং একই উপজেলার নাওতলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হাজীপুরা গ্রামের রুহুল আমিন ওই অবৈধ দখলদারদের রায় নানা তদবির করে আসছেন।

 

 

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দায়িত্বে থাকা মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তফা মোরশেদের বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আগে আমার জানা ছিলো না। তবে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments