রবিবার, নভেম্বর 28, 2021
রবিবার, নভেম্বর 28, 2021
রবিবার, নভেম্বর 28, 2021
spot_img
Homeজেলা চকরিয়ায় নিষ্ক্রিয় বোরকা বাহিনী : সক্রিয় ছিনতাইকারী

চকরিয়ায় নিষ্ক্রিয় বোরকা বাহিনী : সক্রিয় ছিনতাইকারী

চকরিয়ায় রমযানের ঈদের বাজারে থানা পুলিশের গঠন করা বোরকা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। বেড়ে চলেছে অপরাধ কর্মকা-। খুয়া গেছে ঈদের কেনাকাটা করতে আনা নগদ টাকাসহ ব্যবহারের ২টি মোবাইল সেট।

 
সূত্রমতে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বাণিজ্যিক রাজধাণী খ্যাত চকরিয়া পৌর শহরের চিরিঙ্গাকে নিরাপত্তা বেষ্টনিতে আবদ্ধ রাখার মাধ্যমে ঈদবাজারে ক্রেতা সাধারণের নির্বিঘœ সুবিধা নিশ্চিত করতে সার্বিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সিভিল পোষাকে “বোরকা বাহিনী”। গত রমযানের ঈদে চুরি, ছিনতাই কিংবা বড় ধরনের অঘটনের অপরাধীদের ধরতে না পারলেও এ বোরকা বাহিনী তাদের সক্রিয়তার মুখে নারী পুলিশকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে ৩/৪জন কথিত ইভটিজারকে দুস্কৃতিকারী হিসেবে আটক করতে সক্ষম হয়। এরপর থেকে দেখাতে পারেনি দুঃসাহসিক কোন অভিযান। দালাল শ্রেণির কতিপয় সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গের বাহবা নিতে নিতে পুলিশের বোরকা বাহিনীর তৎপরতা অগ্রসর হয় আজ পর্যন্ত।

 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের ঈদ বাজারে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে থানা পুলিশের তরফ থেকে বেশ’কটি মোবাইল ফোর্স, গোয়েন্দা ও বোরকা বাহিনীসহ তিন স্তরের টিম কাজ করছে চিরিঙ্গার অভিজাত শপিংমলগুলোতে। বিশেষ করে গঠিত বোরকা বাহিনী নারী ক্রেতাদের ঝামেলা মুক্ত রাখতে এর প্রতিষ্ঠা বলে দাবি সূত্রের। পৌর শহরের দুটি মার্কেটের কর্ণারে অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে পুলিশের পোষাকধারী সদস্যদের কালো গ্লাস পরে অবস্থান করতে দেখা গেলেও ঈদ বাজারে তেমন তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি তাদের।

 
সরেজমিন ও ভুক্তভোগি সূত্রে জানা গেছে, ১৫জুলাই মঙ্গলবার ডুলাহাজারা নতুনপাড়ার বাসিন্দা প্রবাসী আইয়ুব আলীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও তার বোন নাসিমা আকতার কোলে বাচ্চা নিয়ে বাজার করতে আসে চকরিয়া নিউ মার্কেটে। তারা জানান, দুপুর সোয়া ২টার দিকে একসাথে মার্কেটিং করতে আরেক প্রতিবেশির জন্য সৌদিয়া কথ স্টোর পয়েন্টে অপেক্ষা করলে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা তাদের অগোচরে ভ্যানিটি ব্যাগ হতে ২টি মোবাইল সেট ও নগদ সাড়ে আট হাজার টাকা খুইয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। আরেকটি বস্ত্র বিতানে কেনাকাটা করতে গেলে টাকা দেওয়ার সময় ব্যাগে টাকা না থাকায় তারা টের পান ছিনতাইয়ের বিষয়টি।

 
ছিনতাইয়ের শিকার রোকেয়া বেগম জানান, খুইয়ে যাওয়া মোবাইলে (০১৮৩৩৫৭৩৫৭৪) তাৎক্ষণিক অন্য মোবাইলের সহযোগিতায় যোগাযোগের চেষ্টা করলে রিং বেজে উঠার পর বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ঈদের বাজারে এভাবে যদি অপরাধ কর্মকা- অব্যাহত থাকলে কেনাটকাটার বাকী দিনগুলো নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর সংশয় রয়েছে। অপরাধীরা বিশেষ করে আইন শৃংখলা বাহিনীর দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে এমনটি মন্তব্য করেন ভুক্তভোগিরা।
একাধিক ব্যবসায়ী সূত্র দাবি করেছে, ছিনতাইকারী ও পকেটমার চক্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। এদের যে’কজন সদস্য রয়েছে তাদের বাসা-বাড়ি পৌর শহরের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। এ চক্রে রয়েছে ১৪/১৫ বছরের কিশোর থেকে শুরু করে উঠতি বয়সেরসহ ২৫/২৬বছরের যুবকও।

 
তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নামমাত্র বাহিনী গঠন করে সদস্যদের দায়সারাভাবে ঈদ বাজারে ছেড়ে দিয়ে লোক দেখানো কিছু অভিযান পরিচালনা করেন। এসব বাহিনী নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের দোহাই দিয়ে চেয়ারে বসে অলস সময় কাটান আর ঘুমান। ফলে নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে এসব অপরাধী চক্র। এদিকে ঈদবাজারে ক্রেতা সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন শৃংখলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন সচেতন মহল।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments