বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 2, 2021
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 2, 2021
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 2, 2021
spot_img
Homeজাতীয়বিক্রি শুরুর আগেই উধাও লঞ্চের টিকিট!

বিক্রি শুরুর আগেই উধাও লঞ্চের টিকিট!

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে লঞ্চের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে গেছে। আর দুদিন না যেতেই বাসের টিকিট পেতে ঈদে ঘুরমুখোদের হাহাকার অবস্থা। চড়া দামেও মিলছে না টিকিট।

অবৈধ ট্রাভেল সিন্ডিকেট আর এক শ্রেণীর কালোবাজারিদের হাতে টিকেট চলে গেছে বলে দক্ষিণাঞ্চলের নদী পথে চলাচলকারী যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ ট্রাভেল সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা ইতোমধ্যে লঞ্চের টিকেটের বড় অংশ কিনে নিয়েছেন। ওই সব টিকেট তারা অতিরিক্ত অর্থে বিক্রি করছেন। এরপর যে কতকগুলো টিকেট রয়েছে, তা মূলত সরকারি কর্মকর্তা এবং সংসদ সদস্যদের আত্মীয়-স্বজনদের জন্য রেখে দেয়া হয়েছে।

ফলে সাধারণ ছাত্রীরা লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ঘুরেও কোনো টিকেট পাচ্ছেন না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঈদে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সূত্র জানায়, দক্ষিণাঞ্চলভিত্তিক ঢাকা-বরিশাল রুটের সৌরভী, পারাবত, কীর্তনখোলা, আনচাল ও অগ্রদূত প্লাসের কেবিনের অগ্রিম টিকেট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইডাব্লিউএ) চেয়ারম্যান মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঈদের এক সপ্তাহ আগে লঞ্চের টিকেট বিক্রি শুরু হবার কথা, কিন্তু আগেই বিক্রি শুরু হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে সেটা হয়ে থাকলে অচিরেই তা বন্ধ করা হবে।

বিআইডাব্লিউএ’র ভাইস-চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মিলন বলেন, লঞ্চের কেবিন টিকেটের চাহিদা ১০ হাজার। কিন্তু এর বিপরীতে কেবিন টিকেট রয়েছে মাত্র আড়াই হাজার। ফলে এটি মেইনটেন করা খুবই কঠিন। ফলে অধিকাংশ কেবিন অন্তত দুই মাস আগেই বুক হয়ে গেছে।

বিআইডাব্লিউটিএ’র যুগ্ম-পরিচালক সাইফুল হক খান বলেন, টিকেট বিক্রির বিষয়টি লঞ্চের মালিকদের উপর নির্ভর করে। কারণ তাদের সঙ্গে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ১৬ জুলাই থেকে টিকেট বিক্রি শুরু হবে।

এখন যদি আমরা কোনো ধরনের অভিযোগ পাই, নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকেট বিক্রি হচ্ছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, বিআইডাব্লিউটিএ ঈদের পাঁচ দিন আগ থেকে ১০ দিনের জন্য স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিস চালু করছে। তারা আশা করছেন, এবার অন্তত ৩০ লাখ যাত্রী লঞ্চের মাধ্যমে রাজধানী ছেড়ে যাবে। আর এতে ১১৫টি লঞ্চ এসব ঘরমুখো মানুষ বহন করবে।

এদিকে, ঢাকা থেকে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসগুলোতে টিকিটের দাম বেড়েছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের রুটে চেয়ার কোচের টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর শ্যামলী কাউন্টারে বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা তো রীতিমতো ডাকাতি। একধাপে টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে ৮০০ টাকা। তাই ১২০০ টাকার এসি বাসের টিকিট কিনেছি দুই হাজার টাকায়।’

ঈদ সামনে রেখে লাগামহীন এই মূল্যবৃদ্ধির কোনো সদুত্তর নেই ইয়েলো লাইন বাস মালিক কর্তৃপক্ষের কাছে। পরিবহনটির কাউন্টারে টিকিট বিক্রেতারা নানা যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন।

নাম জানাতেও অস্বীকার করেন তারা। দাম জিজ্ঞেস করলে এক টিকিট বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা ১৮০০ টাকা নিচ্ছি। তাও টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।’

ঈদের টিকিট প্রতি কেন ৮০০ টাকা বাড়ানো হলো— জানতে চাইলে কাউন্টারে বসা বিক্রেতারা বলেন, তাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে আসন সংখ্যা ২৭টি। ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা যাওয়ার সময় পুরো আসনে যাত্রী থাকবেন। কিন্তু ফেরার পথে কোনো যাত্রী থাকবেন না। তাই টিকিটের দাম না বাড়িয়ে তাদের কোনো উপায় নেই।

একই অবস্থা উত্তরবঙ্গের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসেও। রাজশাহী, রংপুর ও পঞ্চগড়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের টিকিটেরও দাম বাড়িয়েছে হানিফ পরিবহন। স্বাভাবিক সময়ে এসি বাসের একটি টিকিটের দাম ছিল ৮০০ টাকা। ঈদের জন্য ৬০০ টাকা বাড়িয়ে সেটি এক হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে।

গাবতলী কাউন্টারে হানিফ পরিবহনের ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই বাস অন্য এসি বাসের চেয়ে অন্য রকম। আমরা একেকটি বাস সাড়ে চার কোটি টাকায় কিনেছি। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি খরচও বেশি। ঢাকা ছাড়ার সময় যাত্রী ভরা থাকবে। কিন্তু ফিরবে একেবারে খালি। তাই এই দাম বেশি রাখা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের টিকিটের মূল্য নির্ধারণে মালিক সমিতির কোনো নির্দেশনা নেই।

খুলনাগামী একে ট্রাভেলস পরিবহনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের একটি টিকিটের দাম ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে এক হাজার ৩০০ টাকা। তবে ১১ জুলাই একই রুটে গ্রিন লাইন পরিবহনের এসি বাসের টিকিট বিক্রি হয়েছে এক হাজার ১০০ টাকায়। অবশ্য ২৩ জুলাই থেকে তাদের কোনো টিকিট নেই।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটে চেয়ার কোচের টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে দেড় থেকে ২০০ টাকা। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর রুটে ৪৫০ টাকার টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ৬৩০ টাকায়। খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর রুটে টিকিটপ্রতি ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৭০ টাকা করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় হানিফ পরিবহনে বাসের টিকিট মূল্য ৪৫০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০০ টাকা। তবে সব পরিবহন কর্তৃপক্ষের দাবি, মালিক সমিতির নির্ধারিত মূল্যে তারা টিকিট বিক্রি করছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments