রবিবার, নভেম্বর 28, 2021
রবিবার, নভেম্বর 28, 2021
রবিবার, নভেম্বর 28, 2021
spot_img
Homeজাতীয়বাংলাদেশের প্রস্তুতি বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের

বাংলাদেশের প্রস্তুতি বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত মামলা আন্তর্জাতিক সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে যাবার পর দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা পেট্রোবাংলা বলছে , তারা এখন বঙ্গোপসাগরের গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ শুরুর আবার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

এ জন্য ডিসেম্বরের মধ্যেই বিভিন্ন ব্লকে বিদেশী কোম্পানিগুলোর জন্য টেন্ডার আহ্বানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করার জন্য পিএসসিতেও কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উদ্যোগ আরো আগেই নেওয়া উচিত ছিল।

 

বঙ্গোপসাগরে ২৩টি গ্যাস ব্লকের মধ্যে ১০ টি নিয়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিরোধ ছিলো। এখন দুই দেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশের তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক করপোরেশন পেট্রোবাংলা সমুদ্রের ব্লকগুলোতে অনুসন্ধান কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলছে।

 

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক হুসেইন মনসুর জানিয়েছেন, অগভীর সমুদ্রে এগারটি এবং গভীর সমুদ্রে যে বারোটি ব্লক রয়েছে, সব ক’টিতেই একসাথে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা তারা নিয়েছেন । বিশেষজ্ঞের অনেকেই মনে করেন, এমন প্রস্তুতি আরও আগে নেওয়া উচিত ছিলো। গভীর ও অগভীর সমুদ্রে একসাথে গ্যাস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা নিয়েছে পেট্রোবাংলা।

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলছিলেন, সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের সাথে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক সালিশী আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করার কারণে গ্যাস অনুসন্ধান শুরুর প্রক্রিয়াটিই পিছিয়ে পড়ল।

 

“ভারতের সাথে ১০টি ব্লকে বিরোধ ছিল। কিন্তু বাকি ব্লকগুলোতে কাজ এগিয়ে নেওয়া যায় নি। মিয়ানমারের দিকের ব্লকগুলোতে বেশি সম্ভাবনা আছে বলে মনে করা হয়। সেগুলোর বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে আড়াই বছর আগে। সেগুলো নিয়েও কিছু করা হয়নি। অনেক বিলম্ব হয়ে গেল।”

 

 

এমন বক্তব্য মানতে রাজি নন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক হুসেইন মনসুর। তার বক্তব্য হচ্ছে, এর আগে বিভিন্ন গ্যাস ব্লক নিয়ে চুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশী কোম্পানিকে আকৃষ্ট করা যায়নি। এর কারণ অনুসন্ধানে তাদের কিছুটা সময় লেগেছে। এখন চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া তারা চালাচ্ছেন।
“বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে গ্যাসের মূল্য একটা বড় ইস্যূ। উৎপাদিত গ্যাস বাংলাদেশ কী দামে কিনবে, সেটি বাড়াতে হবে। করপোরেট ট্যাক্সের ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়াসহ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে- যাতে বিদেশি কোম্পানি আকৃষ্ট হয়।”

তার বক্তব্যে এটাও স্পষ্ট যে, তারা যে পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সেগুলো নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনা করে তাদের এগুতে হবে। ফলে এসব প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লেগে যেতে পারে।– বিবিসি

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments