বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 2, 2021
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 2, 2021
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 2, 2021
spot_img
Homeউপজেলাকক্সবাজার শহরে তীব্র যানজট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কা

কক্সবাজার শহরে তীব্র যানজট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কা

কক্সবাজার শহরের পৌর এলাকার প্রধান সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ল্য করা গেছে। শহরের প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে এযানজট স্মরণকালের ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম বলে জানিয়েছে সচেতন মহল। ট্রাফিক পুলিশের উদাসীনতা আর বৃষ্টিপাতের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা আগত রোজাদার ক্রেতাদের।

 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুমাবার শহরে সরকার দলীয় এক ছাত্রনেতার মোটর সাইকেল আটকের জের ধরে পুলিশ প্রশাসন ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। এঘটনার জের ধরে প্রশাসনের একটি বৃহৎ অংশ এজেলায় দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডি.আই.জির কাছে। একারণে ট্রাফিক পুলিশ থেকে শুরু করে মডেল থানার কোন পুলিশ ট্রাফিক জ্যাম ও শহরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে না।

 

পুলিশের কেউ কেউ প্রথমে বৃষ্টির কারণে কাজ করতে একটু অসুবিধা হচ্ছে বলে দাবী করলেও পরবর্তীতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান ‘ভাই আমরা একটু নিরাপত্তার ব্যাপারে শঙ্কা প্রকাশ করছি’। কেমন শঙ্কা জানতে চাইলে ‘তা এখন বলতে পারবনা, আমরা এখান থেকে চলে যাবো, এখানে আর দায়িত্ব পালন করতে চাইনা’ বলে এসব মন্তব্য করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

 
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সকাল থেকেই ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেনা। এমনকি ট্রাফিক পুলিশের কোন সদস্যকেও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দায়িত্ব পালন করব কেমনে, সারাদেশে সরকার দলীয় লোকজন প্রশাসনের সাথে মিলেমিশে কাজ করে আর কক্সবাজারে তার উল্টো। এভাবে কাজ করা যায় বলে পাল্টা প্রশ্নও করেন তিনি। সরেজমিন, দুপুর ২টায় জেলা ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ট্রাফিক পুলিশের সব পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা নাক ডেকে টেবিলে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছেন।

 

প্রতি বছর ঈদুল ফিতরে কক্সবাজার শহরে কেনাকাটা করতে প্রতিদিন প্রায় লাধিক মানুষ সমাগম হয়ে থাকে। কিন্তু এবছর সড়কজুড়ে এত বেশী যানজট যার কারণে ক্রেতা সাধারণ ও পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর উপর প্রশাসন ও সরকার দলীয় লোকজন পরস্পরের প্রতি যে বৈরী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগন।

 
এদিকে শহরের পানবাজার সড়ক, ফজল মার্কেট, কৃষি অফিস সড়ক, বাজারঘাটাসহ আরোও বিভিন্ন স্থানের দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রশাসন যদি দায়িত্ব পালনে এত উদাসীন হয় তাহলে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে ধাবিত হবে। এমনিতেই রোজার ঈদকে ঘিরে কতিপয় সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, দুর্বৃত্ত ও ডাকাত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর উপর যদি পুলিশও দায়িত্ব পালন না করে তাহলে এসব অপরাধী চক্রের ‘পোয়াবারো’ হবে। আর সাধারণ মানুষর জান মাল য়তির সম্মুখিন হবে।

 
এব্যাপারে জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনের কাছে জানতে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments