শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
spot_img
Homeউপজেলারায়পুরে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে চলছে ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

রায়পুরে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে চলছে ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল দিয়ে চলছে ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে করে এক দিকে যেমন দুর্নীতি-অনিয়ম হচ্ছে, তেমনি প্রশাসনিক কাজ ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে চরম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

অন্যদিকে পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির কয়েক সদস্য ও অভিভাবকগণ।

 

এসব প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলেও তারা তদন্তে আসলেও টাকার বিনিময়ে চলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

 
উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ২টি মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা হচ্ছে। প্রতিমাসে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসে প্রতিবেদন পাঠালেও কোন প্রতিকার হচ্ছে না।

 
জানা যায়,  ২০০৮ইং সালে জানুয়ারী মাসে সাবেক প্রধান শিক্ষক নুরুর নাহার বেগম অবসর নিয়ে চলে যান। তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনকে উপেক্ষা করে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম লিটন চারজন সিনিয়র শক্ষককে বাদ দিয়ে জুনিয়র শিক্ষক মঞ্জুর কাদেরকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

কয়েকমাস আগে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একই স্কুলের চারজন সহ ছয়জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। কনিষ্ঠ শিক্ষক মঞ্জুর কাদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদে  পরিচালনা কমিটিকে ম্যানেজ করে ঐ পদে ৭বছর ধরে বহাল রয়েছেন।

 

এছাড়াও প্রতি বছর তিনি ৫ম ও ৮ম শ্রেণীর অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভুয়া সনদপত্র দিয়ে ৬ষ্ঠ ও ৯ম শ্রেণীতে উম্মুক্ত, ভোকেশনাল শ্রেণীতে ভর্তি করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপক্ষো করে সিনিয়র শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অতিথি শিক্ষকদের নিয়ে অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০-১০০০টাকা কোচিং বানিজ্য করছেন। তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা বোর্ড, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অনুসন্ধান করলে সঠিক তথ্য পাবেন বলে শিক্ষককরা জানান।

 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, মঞ্জু কাদেরের বিরুদ্ধে যে শিক্ষক প্রতিবাদ করেন সে শিক্ষককে লাঞ্চিত ও বঞ্চিত হতে হয়। তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট লিখলেও শেষ হবে না। তার আচরন, অনিয়ম, দুর্নীতিতে ১৩জন শিক্ষক সহ প্রায় ৮০০শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তেুাষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 
এদিকে এবিদ্যালয় ছাড়াও দক্ষিণ রায়পুর আব্দুর রহমান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নেয় ৫বৎসর। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না দেয়া ও বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক মাসুদ আলমকে নিয়ে পরিচালনা কমিটির দু’গ্রুপের মধ্যে প্রায় সময় ঘটে চলেছে অপ্রীতিকর ঘটনা।

 

এতে করে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে রয়েছে চরম অসন্তেুাষ বিরাজ করছে। অন্যদিকে চরবংশী জয়নালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ, কেরোয়া ইউনিয়নের এম.রহমান আলিম মাদ্রাসার জুনিয়র শিক্ষক আবুল বাশার ও লামছরি কেরামতিয়া ফাযিল মাদ্রাসা আব্দুর রহমান কে দিয়ে চলছে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব।

 
পাইলট বালিকা ও আব্দুর রহমান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান বলেন, বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তিনি পেয়েছেন। ২জন সিনিয়র শিক্ষক অবসর না নেওয়া পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না।

 

রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। উভয় বিদ্যালয়ের অনিয়ম, দুর্নীতি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান।

 
এছাড়াও এই উপজেলার ২৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দিয়ে প্রশাসনিক ও পাঠদান কার্যক্রম চলছে। এতে করে সহকারী শিক্ষকরা প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে রয়েছে অসন্তেুাষ।

 

মধ্য কাঞ্চনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৮০জন শিক্ষার্থীর জন্য ২জন শিক্ষক পাঠদান করছেন। এতে করে ১জন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় এই বিদ্যালয়ে পাঠদান চরম ব্যাহত হচ্ছে।

 
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, প্রতিষ্ঠান গুলোর ভারপ্রাপ্ত প্রধানগণ বলেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েই তারা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

 
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মঈনুল হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এতে কোন প্রতিকার হচ্ছে না। সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় অন্য শিক্ষকরাও তা ভালো চোখে দেখছেন না।

 
লক্ষ্মীপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ মোবাইল ফোনে জানান, বালিকা বিদ্যালয়সহ অভিযুক্ত ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারপ্রাপ্ত প্রধানের বিরুদ্ধে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments