শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeজাতীয়ঈদের বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পোশাক কারখানায় আগুন

ঈদের বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পোশাক কারখানায় আগুন

ঈদের বেতন-বোনাসের দাবিতে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় অস্থিরতা শুরু হয়েছে। প্রতিবছর ঈদ এলে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় আগুন লাগিয়েছে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। রাজধানীর মিরপুরের দুটি কারখানায় ও বাড্ডায় তুবা গার্মেন্টের শ্রমিকরা বকেয়া বেতন না পেয়ে বিক্ষোভ করেছে।

 

শ্রমিকরা বলছেন, ঈদের আগে বেতন-বোনাস না পেলে আন্দোলন করবে। বেতন-বোনাসের দাবিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলো মানববন্ধন করে যাচ্ছে। শ্রমিকরা অসন্তোষ হলে আগামীতে আমেরিকার বাজারে জিএসপি সুবিধা পেতে বড় ধরনের সমস্যা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ বেতন-ভাতা নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ হলে আমেরিকার বাজারে জিএসপি সুবিধা ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা ফেরত দেয়ার সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে গার্মেন্টগুলোর পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন আশঙ্কা করছে কলকারখানা ও পরিদর্শন বিভাগ। তাই পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবে খারাপের দিকে না যায় পরিস্থিতি সার্বিকভাবে মনিটরিং করতে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

 

গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র জানায়, রাজধানী, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশ এলাকায় দুই হাজারেরও বেশি গার্মেন্টে রয়েছে। এর মধ্যে দুইশর বেশি গার্মেন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। এই সব গার্মেন্ট এক সঙ্গে বেতন-বোনাস দেয়া অনিশ্চয়তা রয়েছে। এরপরও গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে গার্মেন্ট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে ঈদের আগে বেতন-বোনাস দেয়ার চেষ্টা এখনো চলছে। শিল্প পুলিশের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা সর্বক্ষণ নজরদারি করছে।

 

এ ব্যাপারে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়নে মালিক সমিতি যে কথা বলে কারখানা পর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই। বরং এর উল্টো ঘটনা ঘটেছে। কিছু কিছু মালিক আগের চেয়ে আরো স্বেচ্ছাচারি আচরণ করছে। আগে কিছু কিছু কারখানাতে বেতন, বোনাস প্রমোশন, ছুটিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতো। সাম্প্রতিক সময়ে দুএকটি কারখানাতে অবস্থার উন্নতি হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবস্থার অবনতি হয়েছে।

 

গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেছেন, “শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সারাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৫ শতাংশ কারখানার মালিক বলেছেন, চলতি মাসের ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বেতন ও বেতনের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বোনাস দেবেন। কিন্তু বাকি ৮৫ শতাংশ কারখানার মালিক এখনো এই বিষয়ে পরিষ্কার কোনো কথা বলেননি।” তিনি বলেন, “ঈদের আগে বেতন-বোনাস না দিলে শ্রমিকরা খুব শিগগিরই আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। আর এর দায় বিজিএমইএ ও সরকারকেই নিতে হবে।”

 

বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, “গত ২৩ বছরের মধ্যে এ বছর ঈদ একটি ব্যতিক্রমধর্র্মী। পোশাক শিল্পের অবস্থা খুব শোচনীয়। উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ১০ জুলাইয়ে সব গার্মেন্টে বেতন হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে আগামী মাসের ১০ তারিখে আরেকটি বেতন দেয়া। কিন্তু এই বাস্তবতা বাদ দিয়ে আমরা চেষ্টা করছি ঈদের আগে আরেকটি বেতন দিতে। সবাই যেন বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারে এজন্য বিজিএমইএ থেকে গার্মেন্ট মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments